কানাডার কোম্পানী গুলি ভারতকে পারমানবিক রিয়্যাক্টর ও ইউরেনিয়াম দেবে. এই ধরনের চুক্তি ভারতে কানাডার প্রধানমন্ত্রী স্টিভেন হার্পারের সফরের সময়ে স্বাক্ষরিত হয়েছে. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

১৯৭৪ সালে যখন ভারত তার প্রথম পারমানবিক বোমার পরীক্ষা করেছিল, তারপর থেকে ভারত ও কানাডার মধ্যে পারমানবিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বহু বছরের জন্যই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল. বোমা তৈরী করা হয়েছিল, কানাডা থেকে সরবরাহ করা পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের ব্যবহার হয়ে যাওয়া প্লুটোনিয়াম দিয়ে. ভারত আন্তর্জাতিক পরমাণু অস্ত্র প্রসার রোধ চুক্তিতে স্বাক্ষর করে নি. ফলে বিদেশ থেকে পারমানবিক রিয়্যাক্টর, জ্বালানী ও প্রযুক্তি কেনা তাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না. পারমানবিক দ্রব্য সরবরাহকারীদের উপরে নিষেধ ছিল এই ধরনের জিনিষ, সেই সমস্ত দেশকে দেওয়ার বিষয়ে, যারা এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করে নি.

ভারতের সঙ্গে এই বিষয়ে বাণিজ্যের সম্বন্ধে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছিল শুধু ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে. রাশিয়া এর জন্য কম শক্তি ব্যয় করে নি. দুই বছর আগে ভারত ও কানাডার মধ্যে শান্তিপূর্ণ পরমাণু নিয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, কিন্তু তার বাস্তবায়ন আটকে গিয়েছিল. হার্পারের মন্ত্রীসভা ভারতের কাছ থেকে রিপোর্ট দাবী করেছিল, যা স্পষ্ট করে দেবে যে, কানাডার পারমানবিক দ্রব্য শুধু জ্বালানী সংক্রান্ত প্রয়োজনেই ব্যবহার করা হবে বলে. ভারতের প্রশাসন এর বিরুদ্ধতা করেছে, তারা বলেছে এই ধরনের নিয়ন্ত্রণ এমনিতেই আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার কাছে করা হয়ে থাকে. ভারতকে রিয়্যাক্টর ও ইউরেনিয়াম সরবরাহ নিয়ে সহমতে আসা সম্বন্ধে সাংবাদিক সম্মেলনে বলতে গিয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী নির্দিষ্ট করে বলেন নি, কি করে এই মত বিভেদ দূর করা সম্ভব হয়েছে.

বর্তমানে ভারতে ২০টি রিয়্যাক্টর রয়েছে, যা প্রায় পাঁচ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত শক্তি উত্পাদন করতে পারে, আর আগামী কুড়ি বছরে ভারতে চাওয়া হয়েছে প্রায় ৩০টি রিয়্যাক্টর নতুন করে তৈরী করার, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার জ্বালানী ও নিরাপত্তা কেন্দ্রের ডিরেক্টর আন্তন খ্লোপকভ বলেছেন:

“অদূর ভবিষ্যতে, ভারতে যথেষ্ট পরিমানে গ্যাস ও খনিজ তেলের অভাব থাকার কথা হিসাব করলে, কোন রকমের পারমানবিক শক্তির বিকল্প দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না. তার ওপরে, ভারত, পারমানবিক শক্তি বিষয়ে বিপুল প্রসারের পথে অবতীর্ণ হয়ে এই ক্ষেত্রে যথেষ্ট সংখ্যায় প্রযুক্তিগত, বিজ্ঞান সম্মত ও মানবিক সম্পদের অধিকারী হতে পেরেছে”.

আজ ভারত পারমানবিক শক্তি নিয়ে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করেছে রাশিয়া, ফ্রান্স, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও কানাডার সঙ্গে. কিন্তু এই সব চুক্তির বাস্তবায়ন করছে শুধু রাশিয়া. প্রথম দুটি রিয়্যাক্টর, যা কুদানকুলাম পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রে বসানো হয়েছে তা আগামী বছরেই কাজ করতে শুরু করবে. এই জায়গাতেই আরও চারটি একই ধরনের ব্লক বসানোর বিষয়ে সহযোগিতার পরিকল্পনা রয়েছে, একই সঙ্গে রাশিয়া ও ভারতের যৌথ ভাবে আরও একটি পারমানবিক বিদ্যত কেন্দ্র তৈরী করার জন্য জায়গা খোঁজা হচ্ছে. প্রধান সমস্যা – দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে দায়িত্ব সংক্রান্ত ভাগাভাগি. জাপানের ফুকুসিমা পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রে বিপর্যয়ের অব্যবহিত পরেই ভারতে গৃহীত এই আইনের মুখ্য বিষয় হল যে, বিদেশী সহায়তায় তৈরী পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রে যদি কোন ঘটনা ঘটে, তবে তার দায়িত্ব নেবে রিয়্যাক্টরের উত্পাদক দেশ, যারা ব্যবহার করছে, তারা নয়. এই আইন উত্পাদকদের জন্য চলতে পারে না, তাই তা ভারতের অন্যান্য দেশের সঙ্গে পারমানবিক জ্বালানী ক্ষেত্রে সহযোগিতার প্রয়াসে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে.