“বিশ্বকে সেলাম জানাও!” (“Say Salam to the World!”) প্রতিযোগিতার শেষে এই স্লোগানকেই সেরা মনে করেছেন বিশ্ব জোড়া মুসলিম সামাজিক সাইট “সালাম বিশ্বের” (“Salam World”) রুশ ও স্বাধীন রাষ্ট্র সমূহের এলাকার কর্তৃত্ব.

বিজয়ী স্লোগানের লেখক – আবদরাসিল আবেলদিনভ কাজাখস্থানের লোক. রাশিয়ার কাজানের লোক ইলশাত সায়েতভ পেয়েছেন দ্বিতীয় স্থান. তাঁর স্লোগান ছিল – “বিশ্বাসের ঐক্য. সাইটের ঐক্য!” এই প্রসঙ্গে রেডিও রাশিয়ার প্রতিনিধি সাংবাদিককে সালাম বিশ্ব সাইটের সভাপতি আবদুল ওয়াহিদ নিয়াজভ বলেছেন:

“আমি এই স্লোগান বাছাই করার পরিষদের কাজে অংশ নিয়েছিলাম. প্রতিযোগিতা চলেছিল তিন মাস ধরে. সবাইয়ের বোধগম্য ইংরাজী ভাষার স্লোগান জয়ী হয়েছে “বিশ্বকে সেলাম জানাও!” আমার এটা ভাল লেগেছে, যেমন ভাল লেগেছে যারা দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে ছিল, তাদের স্লোগান. অনেক গুলি আগ্রহোদ্দীপক স্লোগান ছিল, যেগুলির লেখকরা আমাদের সামাজিক সাইটের কাজ ও ধারণাকে বুঝতে পেরেছেন”.

এই প্রতিযোগিতায় রাশিয়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে দু হাজারেরও বেশী স্লোগান এসেছিল, তাই নিয়াজভ বলেছেন:

“রাশিয়ার দক্ষিণের ছয়টি উত্তর ককেশাসের রাজ্য থেকে শতকরা তিরিশ বাগ স্লোগান এসেছে, বিশেষ করে তিনটি রাজ্যের মুসলমানরা এই বিষয়ে এগিয়ে – ইঙ্গুশেতিয়া, চিচনিয়া ও দাগেস্তান. তারা খুবই সক্রিয় ছিলেন, কিন্তু বিজয়ী হয়েছে, তা স্বত্ত্বেও কাজান ও আলমা- আতার প্রতিনিধিরা. আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হল যে, রাশিয়া ও অন্যান্য স্বাধীন রাষ্ট্র সমূহের যুব সমাজ এই জন্য যোগ দিয়েছে, যা আমাদের প্রকল্প শুরুর আগে করা হয়েছে. আমরা আশা করেছি যে, তারা এই প্রকল্পের ভিতরেও সক্রিয় থাকবেন.”

মনে করিয়ে দিই যে, পবিত্র রমজানের দিনে সালাম বিশ্ব সাইটের টেস্ট শুরু হয়েছে. এই মুহূর্তে এই সাইটের সদর দপ্তর ইস্তাম্বুলে কাজ করছেন বিশ্বের ১৩টি দেশের প্রতিনিধিরা, যারা সম্পূর্ণ ভাবে এই সাইট ইন্টারনেটে আনার জন্য কাজ করছেন.নিয়াজভ বলেছেন যে, রাশিয়াতে আগামী বছরের এপ্রিল মাস থেকে যোগ দেওয়া যাবে. আপাততঃ সালাম বিশ্ব সাইট সেরা সাইন বোর্ডে লেখার জন্য প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে. তার স্লোগান – “আবেগ থেকে কাজে!” নিয়াজভ আরও বলেছেন যে, এই প্রতিযোগিতা আয়োজনের আরও কারণ হল পশ্চিমে ইসলাম বিরোধী নিয়মিত প্ররোচনা ও অংশতঃ মুসলমানরা নির্দোষ সিনেমার প্রত্যুত্তর, তিনি তাই যোগ করেছেন:

“এটা সত্যি যে, মুসলমানরা তাঁদের ন্যায্য ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন. কিন্তু এর পরে কি হবে? মুসলমানরা এর প্রত্যুত্তরে কি করতে পারে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোন দেশে পতাকা পদপিষ্ট করার বদলে, অথবা পাথর ছুঁড়ে পশ্চিমের দেশ গুলির দূতাবাস ভাঙচুর করার বদলে? আজ বেশী করেই লোকে বুঝতে পারছে: গুগল বা ইউ টিউবের উপরে যত খুশী রাগ করা যেতে পারে, পশ্চিমের দ্বিচারিতার উপরেও, কিন্তু যতদিন না আমাদের মুসলমানদের নিজেদের পরিকাঠামো না হবে, তার মধ্যে ইন্টারনেটের ক্ষেত্রেও, আমরা সেই পেছনেই থেকে যাবো, যারা দেরীতে পৌঁছায়, যাদের অপমানিত হতে হয়, তাদের মতই. এমনিতেই আমাদের প্রকল্পের বিষয়ে বিগত মাস গুলিতে বহু গুণে আগ্রহ বাড়ে নি”.

সাইন বোর্ড লেখার প্রতিযোগিতার ভবিষ্যত প্রতিদ্বন্দ্বীদের বলা হয়েছে তাদের পোস্টারের ডিজাইন অন্য ধরনের করতে ও তার স্লোগানও অন্য রকম করতে, (অথবা দুটোর যে কোনও একটা). এখানে মুখ্য হল যে, তারা যেন তাদের মূল ধারণা প্রকাশ করেন – আধুনিক বিশ্বে অন্যের ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত করা ও বাক্ স্বাধীনতার অপব্যবহার করা চলতে পারে না.

সেরা সাইন বোর্ড লেখার প্রতিযোগিতা “আবেগ থেকে কাজে!” করা হচ্ছে ঐস্লামিক সহযোগিতা সংস্থার সহায়তায়, আর তাতে যে কোন ইচ্ছুক ব্যক্তিই যোগ দিতে পারে.