হাক্কানি গোষ্ঠীর জন্য অসময় অপেক্ষায় রয়েছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরেই রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ নিজেদের কালো তালিকায় হাক্কানি গোষ্ঠীকে সন্ত্রাসবাদী বলে যুক্ত করেছে. এর পর থেকে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সমস্ত সদস্য দেশই এদের জঙ্গী কুলের সকলের অর্থ সম্পদ নিজেদের এলাকায় আটক করা উচিত্ মনে করবে ও তাদের জন্য অস্ত্র সরবরাহ করা ও পরিবহন নিষিদ্ধ করবে. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

কতটা ফলপ্রসূ হবে রাষ্ট্রসঙ্ঘের এই সিদ্ধান্ত? নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন আফগানিস্তানের রাষ্ট্রপতি হামিদ কারজাই. আফগানিস্তানের প্রধান আশা প্রকাশ করেছেন যে, হাক্কানি দলের উপরে প্রয়োজনীয় চাপ এবারে দেওয়া হবে. আফগানিস্তানের নেতা মনে করেন যে, এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা তাদের নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার কারণ হবে.

অন্য একটি দৃষ্টিকোণ থেকে পাকিস্তানের প্রজাতি সংক্রান্ত বিষয়ে এক শীর্ষ স্থানীয় বিশেষজ্ঞ রহিমুল্লা ইউসুফজাই এই বিষয়কে দেখেছেন. তিনি মনে করেন যে, হাক্কানি গোষ্ঠীকে সন্ত্রাসবাদী দলের তালিকায় নিয়ে আসায় কোন বড় পরিবর্তন হবে না. এই ধরনের সিদ্ধান্ত আগেও নেওয়া হয়েছে, কিন্তু তার থেকে ফল হয়েছে কমই. হাক্কানি গোষ্ঠীকে সন্ত্রাসবাদী তালিকায় ঢোকানো – এটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে স্রেফ একটা মুখ রক্ষা করার প্রচেষ্টা মাত্র. এই রকম মনে করে স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ আঝদার কুরতভ বলেছেন:

“মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে নিজেদের লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে, বলা যেতে পারে সেটা ডুবিয়ে দিয়েছে. আর এখন চেষ্টা করছে কম বেশী মর্যাদাময় অবস্থানে থেকে বেরিয়ে আসতে. কিন্তু মনে তো হয় না যে, এটা সম্ভব হবে করা. এখন জোটের সেনা বাহিনী একবার বেরিয়ে গেলে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি কি রকমের হবে, তা আগে থেকে বলতে পারে এমন লোক কেউই নেই. বেশীর ভাগ ঘটনা পরম্পরা, যা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তা খুবই নেতিবাচক. মনে তো হয় না যে, কোন রকমের স্থিতিশীলতা আফগানিস্তানের জমিতে ফিরে আসবে যখন আমেরিকার লোকরা নিজেদের পরীক্ষা নিরীক্ষা সেই ২০০২ সালে শুরু করার পর থেকে শেষ করবে”.

জোটের সেনা বাহিনীকে ফিরিয়ে আনার অব্যবহিত আগে কাবুল চেষ্টা করছে তথাকথিত কম চরমপন্থী তালিবদের সঙ্গে একটা আলোচনা শুরু করার. কিন্তু হাক্কানি গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা রাষ্ট্রপতি কারজাই বাতিল করেছেন.

তারই মধ্যে হাক্কানি গোষ্ঠীর নেটওয়ার্ক আফগানিস্তানের যুদ্ধ পরবর্তী নিয়ন্ত্রণে খুবই লক্ষ্যণীয় ভূমিকা নিতে পারে. অন্তত পক্ষে, এই রকমই মনে করা হয়েছে পাকিস্তানের ইসালামাবাদে. খুব একটা বড় কোন সিক্রেট নয় যে, পাকিস্তানের আইএসআই হাক্কানি গোষ্ঠীর সঙ্গে খুবই পুরনো যোগাযোগ বজায় রেখে চলেছে. পাকিস্তান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের থেকে চাপ দেওয়া স্বত্ত্বেও হাক্কানি গোষ্ঠীর সঙ্গে উত্তর ওয়াজিরিস্তানে কোন রকমের সামরিক অপারেশন করতে চায় নি, যেখানে এই গোষ্ঠীর জঙ্গীরা ঘাঁটি গেড়ে বসে রয়েছে. সেখানেই রয়েছে তাদের প্রশিক্ষণের ক্যাম্প ও জঙ্গীদের অস্ত্র শস্ত্রের ভাণ্ডার.

0এটা ঠিক যে, আমেরিকার পাইলট বিহীণ বিমান দিয়ে উত্তর ওয়াজিরিস্তানে খুবই বেশী রকমের বোমা বর্ষণের পরে পাকিস্তানে কম সমস্যা হচ্ছে না. কিন্তু পাকিস্তানের জন্য আফগানিস্তান – খুবই জরুরী দেশ. আর সেখানে প্রতিবেশী দেশে পরিস্থিতির উপরে নিয়ন্ত্রণের চাবিকাঠি হারাতে কেউই চায় না. আর যদি পাকিস্তান আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এই সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর উপরে নেওয়া হয়েছে ঠাণ্ডা প্রতিক্রিয়া দেখায়, তাহলে এটার ফল তো মনে হয় না যে খুব একটা বড় কিছু হবে.