মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক কোম্পানী সিসকোর প্রধান ভবিষ্যদ্বক্তা ডেভ এভান্স, যিনি ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক যন্ত্রপাতি তৈরী করেছিলেন, তিনি ভবিষ্যত বাণী করেছেন যে, খুব শীঘ্রই বিশ্বে রোবটের সংখ্যা মানুষের সংখ্যার চেয়ে বেশী হয়ে যাবে. আর দোকানে যাওয়ার কোন দরকারও পড়বে না, কারণ প্রায় সব কিছুই ঘরে বসে প্রিন্টার দিয়ে ছাপিয়ে নেওয়া যাবে.

এভান্স এই কারণেই বিখ্যাত যে, তিনি নিজের ভবিষ্যদ্বাণীর ক্ষেত্রে প্রায় কখনোই ভুল করেন না. তিনি আগে থেকেই বিশ্ব জোড়া ইন্টারনেট ব্যবস্থা ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে বাণিজ্যের কথা বলেছিলেন. এভান্স তাঁর এই ধরনের পূর্বাভাসের বিষয়ে কোন গোপন তথ্য ব্যবহার করেন না, তিনি স্রেফ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিকাশের প্রবণতাকে বিজ্ঞান সম্মত ভাবেই বিশ্লেষণ করে থাকেন.

বিগত কিছু কাল ধরে সবচেয়ে উজ্জ্বল প্রবণতা লক্ষ্য করা গিয়েছে ত্রৈমাত্রিক ছাপার বিষয়ে. তাকে আবার বলা হচ্ছে বিকল্প উত্পাদন বলেও. তার মূল কথা এই যে, স্তরের পর স্তর পদার্থ দিয়ে সাংখ্যিক ভাবে মডেল তৈরী করা. আজই থ্রি- ডি প্রিন্টার দিয়ে প্রায় চল্লিশ রকমের নানা ধরনের পদার্থ ব্যবহার করা যাচ্ছে, যেমন, প্লাস্টিক, সোনা, রূপা, কাঁচ, পলিকার্বনেট অথবা গ্রাফেন ইত্যাদি. সেই গুলি প্রিন্টারে একই ভাবে ভর্তি করা যাচ্ছে, যেমন করা যায় রঙীণ প্রিন্টারের রঙ. আপাততঃ থ্রি- ডি প্রিন্টার দিয়ে খুবই সাধারন সব জিনিষ বানানো যাচ্ছে, যেমন রূপোর চামচ অথবা প্লাস্টিকের এরোপ্লেনের মডেল. কিন্তু বছর কুড়ি বাদেই যখন এই প্রযুক্তি হবে আরও নিখুঁত, তখন ছাপা সম্ভব হবে যেমন ঘড়ি, মোবাইল ফোন অথবা গাড়ীর মোটর – শুধু সেই রকমের ছাপা হওয়ার উপযুক্ত প্রিন্টার পেতে হবে ও তাতে প্রয়োজনীয় পদার্থ দিয়ে ভর্তি করতে হবে.

প্রসঙ্গতঃ এভান্সের যাতে মন খারাপ না হয়, তা ভেবে দেখেও বলা দরকার যে, এই ধরনের জিনিষ পত্রের নকল করার পদ্ধতির কথা তাঁর অনেক আগেই সোভিয়েত কল্প কাহিনী লেখক স্ত্রুগাতস্কি ভাইয়েরা তাঁদের “স্বর্গ দ্বারের থেকে আসা যুবক” গল্পে লিখেছিলেন.

রোবট উদ্ভবের কথাও আর এক কল্প কাহিনী লেখক বলেছিলেন: আমেরিকার লেখক আইজ্যাক আজিমভ. তিনি রোবট প্রযুক্তির তিনটি আইন তৈরী করেছিলেন, যা হলে রোবট মানুষের কোনও ক্ষতি করতে পারবে না ও তাকে না মেনে চলতে পারবে না. কিন্তু হলিউডের সৌভাগ্যে অবাধ্য হয়ে যাওয়া রোবটের প্রতি মানুষের ভীতি যে তারা একদিন মানুষের নিয়ন্ত্রণে বাইরে বেরিয়ে সমগ্র মানব সমাজের নিধনের কারণ হবে, তা অনেকটাই অনুভব যোগ্য হয়েছে. ডেভ এভান্স এখন বলছেন যে, ২০২৫ সালের মধ্যেই রোবটের সংখ্যা বিশ্বের উন্নত দেশ গুলির লোকসংখ্যা ছাড়িয়ে যাবে, ২০৩২ সালের মধ্যে তাদের ক্ষমতা মানুষের চেয়ে বেশীই হবে, ২০৩৫ সালে রোবট মানুষের জায়গায় শ্রমিকের কাজ করবে বহু রকমের কাজের ক্ষেত্রে. কিন্তু রোবটদের ভয় পাওয়ার কোনও দরকার নেই, এর জন্য তাদের বুদ্ধির প্রয়োজন হবে. এটা সম্ভব যে, বছর তিরিশ বাদে সাধারন নোটবুকের একটি প্রসেসর নয় শো কোটি মানুষের মগজের ক্ষমতার সমান হবে. কিন্তু এটা এভান্স বলছেন যে, স্রেফ প্রসেসর গুলির ক্ষমতা হবে, সেটা বুদ্ধি নয়. কৃত্রিম বুদ্ধির সৃষ্টি – এই কাজ এখনও বহু দূর ভবিষ্যতের.