রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিজেদের প্রধানকে হারিয়েছে. ভ্লাদিমির পুতিন এই দপ্তরের প্রধান আনাতোলি সেরদ্যুকভকে পদ থেকে বরখাস্ত করে দিয়েছেন. নতুন মন্ত্রী নিয়োজিত হয়েছেন সের্গেই শইগু, যিনি এবারে হলেন মস্কো অঞ্চলের প্রাক্তন রাজ্যপাল ও এর আগে পর্যন্ত বিপর্যয় নিরসন মন্ত্রণালয়ের প্রধান ছিলেন. ভ্লাদিমির পুতিন নিজের কাজ এই ভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যে, আনাতোলি সেরদ্যুকভকে বরখাস্ত করে দেওয়ার ফলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাজকর্ম সম্পর্কে বাস্তবে তদন্ত করা সম্ভব হবে.

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগ সমাজে একই রকমের প্রতিক্রিয়া উদ্রেক করে নি. অনেক সামরিক বিশেষজ্ঞই, যাঁরা বহুদিন ধরে সেরদ্যুকভের কাজকর্মের সমালোচনা করেছেন, তাঁরা নিজেদের আনন্দ প্রায় গোপন না করেই এই খবরকে সম্বর্ধনা করেছেন. ভূ- রাজনৈতিক সমস্যা গবেষণা একাডেমীর উপ সভাপতি কনস্তানতিন সিভকভ উল্লেখ করেছেন যে, এই কার্য নির্বাহী পদ নিয়ে সিদ্ধান্ত – অনেক আগে থেকেই আশা করা হচ্ছিল. সেরদ্যুকভের পদত্যাগ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের লোক বাছাই নিয়ে খুবই বড় ধরনের ভুল থেকেই ঘটেছে, এই রকম মনে করে সামরিক বিজ্ঞান একাডেমীর প্রফেসর ভাদিম কজ্যুলিন বলেছেন:

“সেই সব বাস্তব বিষয়, যা আজ উপরে উঠে আসছে, তা আমাদের চমকিত করেছে প্রসার ও বিস্তার দিয়েই. প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে চুরি সেরদ্যুকভের সময়ে প্রায় রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে পরিণত হয়েছে”.

সামরিক বিশেষজ্ঞের সঙ্গে একমত রুশ প্রজাতন্ত্রের কমিউনিস্ট পার্টির নেতা গেন্নাদি জ্যুগানোভ. রুশ কমিউনিস্টদের নেতা বলেছেন,- “সেরদ্যুকভ নিজের সঙ্গে নিয়ে এসেছেন এক হাতের পুতুলের মত দলবল, যারা লুঠ করে নিজেদের তোরঙ্গ ধনরত্নে বোঝাই করেছে. সকলেই যারা এই বিষয়ের সঙ্গে জড়িত, তাদের একেবারে প্রকাশ্য আদালতে জনতার বিচারে উপস্থিত করতে হবে, আর তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডই হওয়া উচিত্”.

রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা পরিষেবার প্রাক্তন প্রধান নিকোলাই কভালিয়েভ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আইন ভঙ্গের মধ্যে দেখতে পেয়েছেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সদ্য বরখাস্ত হওয়া প্রধানের নিজের ব্যবসায়িক কাজকর্মের দিকে ঝোঁককেই, তিনি তাই বলেছেন:

“প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কিছু কাজকর্মের ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক কাজকর্মই বিশেষ করে অভিযোগের কারণ হয়েছে. এই ব্যবসায়িক কাজকর্মই সবচেয়ে জোরালো সমালোচনা মন্ত্রণালয়ের সমস্ত কর্মীদের পক্ষ থেকেই উদ্রেক করেছে, এমনকি সামরিক বিশেষজ্ঞদেরও. প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভিতরেই ব্যবসায়িক সংস্থা তৈরী ছিল সবচেয়ে বড় স্ট্র্যাটেজিক ভুল, যারা প্রাথমিক ভাবে রোজগারের ধান্ধায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল, সামরিক বাহিনীকে কোনও পরিষেবা দিতে নয়”.

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রাক্তন তথ্য ও জনসংযোগ মুখপাত্র ভিক্টর বারানেত্স মনে করেন যে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রধানের পদত্যাগ – এটা তাঁরই কর্মের একটা আইন সঙ্গত পরিণাম. “বহুদিন আগেই সেরদ্যুকভের গা থেকে সামরিক বাহিনীর মহান সংশোধকের ইমেজ খুলে ফেলা উচিত্ ছিল. তিনি একজন সাধারন সরকারি কর্মচারী, যিনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে নিজের তোষামোদকারী আমলাদের এনে বসিয়ে ছিলেন”, - বলেছেন সামরিক বিশেষজ্ঞ.

আর এবারে রাশিয়ার লোকসভার শিল্প পরিষদের প্রথম উপ সভাপতি ভ্লাদিমির গুতিনেয়েভ, যিনি দেশের প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত শিল্পের কাজকর্ম পর্যবেক্ষণ করেন, তিনি মনে করেন যে, সেরদ্যুকভের পদত্যাগ শুধু দুর্নীতি সংক্রান্ত স্ক্যান্ডালের সঙ্গেই জড়িত নয়. লোকসভা সদস্য নিজের বিশ্বাস উল্লেখ করে বলেছেন:

“সামরিক বাহিনীর সংশোধনের পর্যায়, যা কঠোর, অনেক সময়েই যা জনপ্রিয় হয় নি কিন্তু কখনও খুবই প্রয়োজনীয়, সেই সব পদক্ষেপের সময় শেষ হয়েছে. এখন সময় এসেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে নতুন বৈশিষ্ট্য প্রয়োগের, যা হবে স্থানীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ও শুধু প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্বার্থের কারণে প্রতিরক্ষা শিল্পের মতামত হিসাবের মধ্যে না এনে ও অন্যান্য নিকটবর্তী শিল্পের কথা অগ্রাহ্য করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময়কাল এবারে অতীতে পর্যবসিত হল”.

প্রতিরক্ষা দপ্তরের নতুন মন্ত্রী হয়েছেন খুবই জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ সের্গেই শইগু. তিনি সামরিক বাহিনীর জেনারেলের মর্যাদা প্রাপ্ত ও বিখ্যাত এমন এক মানুষ বলেই, যিনি রাশিয়ার বিপর্যয় নিরসন মন্ত্রণালয়ের স্রষ্টা ও কিছুদিন আগে পর্যন্তও এই মন্ত্রণালয়ের প্রধান ছিলেন. এই মন্ত্রণালয়কে রাশিয়ার শক্তি প্রয়োগ দপ্তর গুলির মধ্যে সবচেয়ে ফলপ্রসূ বলেই মনে করা হয়ে থাকে.