মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য যত কম সময় থাকছে, ততই স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে এক পারমানবিক অস্ত্র সমৃদ্ধ রাষ্ট্র ও পশ্চিমের নেতৃত্বস্থানে থাকা দেশের প্রধান নির্বাচনের সমস্ত রকমের প্যারাডক্স ও বিপরীতধর্মীতা. দেখা যাচ্ছে যে, দেশ সম্পূর্ণ ভাবেই ২০০০ সালের একেবারেই শেষ অবধি বক্র করে রাখা নির্বাচনের পরিনামের পুনরাবৃত্তি করতে চলেছে. সেটাই ছিল শ্রেষ্ঠ উদাহরণ, যা একবিংশ শতাব্দীতে সেই নির্বাচনী ব্যবস্থা, যা দাসপ্রথা চলাকালীণ অষ্টাদশ শতকের আমেরিকায় তৈরী করা হয়েছিল.

এখন সেই দিকেই বিষয়টা গড়িয়েছে, যাতে হোয়াইট হাউসের কে মালিক হবেন, তা সারা দেশ নির্বাচন করে না, তা করে থাকে নয়টির মধ্যে একটি বা কয়েকটি এখনও অবধি মন স্থির করে উঠতে না পারা রাজ্য. এরা তারাই, যেখানে নির্বাচকরা এখনও ঠিক করে উঠতে পারেন নি, যে তাদের বারাক ওবামা না তাঁর রিপাব্লিকান দলের প্রতিদ্বন্দ্বী মিট রোমনি কার জন্য ভোট দেওয়া ঠিক হবে?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি দেশের জনগণ নির্বাচন করেন না, করে থাকেন ৫৩৮ জন মানুষের এক নির্বাচক মণ্ডলী – প্রত্যেক রাজ্য থেকে পাঠানো মার্কিন কংগ্রেসের সেনেট ও কংগ্রেস সদস্যদের সংখ্যা অনুযায়ী. ২০০০ সালে সারা জাতীয় ভোটের সংখ্যায় জিতেছিলেন ডেমোক্র্যাটিক দলের প্রার্থী সেনেট সদস্য আলবার্ট গোর. তাঁর জন্য ভোট দিয়েছিলেন সমস্ত ভোটারদের মধ্যে শতকরা ৪৮, ৪ শতাংশ, তখন জর্জ বুশ জুনিয়র পেয়েছিলেন ৪৭, ৯ শতাংশ ভোট. অর্থাত্ ডেমোক্র্যাটিক দলের প্রার্থী গোর বুশকে প্রায় ৫লক্ষ ৪৩ হাজার ভোটের চেয়ে বেশী ভোটে হারিয়েছিলেন. কিন্তু ফ্লোরিডা রাজ্যে ব্যালট নিয়ে সমস্যা হওয়াতে আবার করে ভোট গণনা করা হয়েছিল, আর দেখা গিয়েছিল যে, বুশ এই রাজ্যে গোর কে ৪৩৭টি মাত্র ভোটে হারিয়ে ফ্লোরিডা রাজ্যের নির্বাচকদের মধ্যে ২৫টির সব কটি মনোনয়নই পেয়েছেন. বুশ তাই রাষ্ট্রপতিও হয়েছিলেন.

আজ প্রতিদ্বন্দ্বীদের রেটিংয়ে তফাত খুবই সামান্য, তাই দুই প্রার্থী ওবামা ও রোমনি এই রাজ্য গুলিরই জনগনের মতামত নিজেদের পক্ষে আনার জন্য সর্ব শক্তি প্রয়োগ করেছেন. কারণ ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হতেই পারে. সেই ফ্লোরিডাতেই. অথবা ওহিয়ো রাজ্যে. অথবা অন্যান্য কয়েকটি রাজ্যে, সেই টলমলায়মান নয়টি রাজ্যেই.

তাদের সব কটি মিলিয়ে জনসংখ্যা দেশের মাত্র শতকরা ২২ ভাগ, অর্থাত্ একের পঞ্চমাংশের সামান্য বেশী. সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, পাঁচ ভাগের চার ভাগ জনগণকে ইতিমধ্যেই খেলা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে. এমনও হতে পারে যে, এই নির্বাচনের ফলাফল ঠিক হবে মাত্র দুই তিনটি রাজ্যে, যেখানে দেশের আট ভাগের মধ্যে এক ভাগের চেয়েও কম লোক থাকেন.

0আমেরিকার ইতিহাসে এই রকম আগে কখনও হয় নি. টলমলায়মান রাজ্য আগেও ছিল. কিন্তু তাদের সংখ্যা আগে ছিল ১৫- ২০ টি. দুই তিনটে নয়. এই নির্বাচনে প্রধান প্রশ্ন – অর্থনৈতিক সঙ্কট. কিন্তু ভোটের ফলাফলের উপরে কোন রকমেই আমেরিকার তিনটি অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষমতা সম্পন্ন রাজ্য: ক্যালিফোর্নিয়া, নিউইয়র্ক ও টেক্সাস প্রভাব ফেলতেই পারবে না. প্রথম দুটি ডেমোক্র্যাটদের সমর্থনের কথাই দৃঢ় ভাবে জানিয়েছে আর তৃতীয় রাজ্য টেক্সাস – রোমনির জন্য. দেশের গড় বার্ষিক আয়ের শতকরা তিরিশ ভাগেরও বেশী এই তিনটি রাজ্যের ভাগে পড়ে. আর নয়টি এখনও ঠিক না করতে পারা রাজ্যের মোট উত্পাদন শতকরা ২০ ভাগেরও কম.