রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে জেনেভাতে গৃহীত কম্যুনিকে গৃহীত হওয়ার কথা. এই বিষয়ে ঘোষণা করেছেন আরব লীগ ও রাষ্ট্রসঙ্ঘের বিশেষ প্রতিনিধি লাখদার ব্রাহিমি. নিজের পক্ষ থেকে রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সের্গেই লাভরভ কয়েকটি দেশের পক্ষ থেকে জেনেভা প্রস্তাব গ্রহণ না করতে চাওয়ার মধ্যে যেন তেন প্রকারেণ সিরিয়াতে প্রশাসন বদলে দেওয়া আদায় করতে চাওয়াই দেখতে পেয়েছেন.

কায়রোতে সিরিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে সের্গেই লাভরভ, লাখদার ব্রাহিমি ও আরব লীগের সাধারন সম্পাদক নাবিল আল- আরাবি এর অব্যবহিত আগেই আলোচনা করেছেন. প্রধান প্রশ্ন সিরিয়াতে রক্তক্ষয় বন্ধ করা ও সঙ্কট নিবৃত্তির জন্য কি করা দরকার? এই বিষয়ে আপাততঃ কোনও উত্তর নেই, এই কথা আরব লীগের সাধারন সম্পাদক স্বীকার করেছেন. কিন্তু স্পষ্টই বুঝতে পারা যাচ্ছে যে, কোন দিকে এগনো দরকার. এই বৈঠকের অংশ গ্রহণকারীরা একটি বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, জেনেভা কম্যুনিকে পালন করার দরকার রয়েছে. সিরিয়ার সঙ্কটের কোনও সামরিক সমাধান হতে পারে না, এই কথাই সমর্থন করে রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান বলেছেন:

“আমাদের নিজেদের প্রাথমিক কাজের তালিকা ঠিক করতে হবে. যদি আমাদের প্রাথমিক কাজ হয় – মানুষের জীবন রক্ষা করা, তবে এটা করার জন্য যাদের উপরে নির্ভর করতে হবে, তাদের সকলকেই অর্থাত্ সমস্ত যুযুধান প্রতিপক্ষদের বাধ্য করতে হবে আলোচনার টেবিলে বসতে আর অন্তর্বর্তী কালীণ সময়ের মেয়াদ ও সূচক গুলি স্থির করতে হবে. এই বিষয়েই জেনেভাতে সহমতে আসা গিয়েছিল. এই রকমেরই রাস্তা রাশিয়া নিয়েছে. আমরা, বোধহয়, জেনেভা সম্মেলনের একমাত্র অংশগ্রহণকারী দেশ, যারা সমস্ত পক্ষের সঙ্গেই কাজ করছে: সরকারের সঙ্গে আবার নানা ধরনের বিপক্ষের লোকদের সঙ্গেও”.

বাশার আসাদের সঙ্গে বৈঠকের পরে ও বিরোধী গোষ্ঠীদের সঙ্গে সাক্ষাত্কারের পরে আর তার মধ্যে জর্ডন, লেবানন ও তুরস্ক সফরের পরে লাখদার ব্রাহিমি উল্লেখ করেছেন যে, এই এলাকার বেশীর ভাগ ক্রীড়নকরাই সিরিয়া সমস্যার সমাধান জেনেভা কম্যুনিকেতে দেখতে পাচ্ছেন. ব্রাহিমি বিশ্বাস করেন যে, এই দলিল রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তের ভিত্তি হওয়া দরকার. তিনি তাই বলেছেন:

“এই সঙ্কটে কোন একটি দলও বিজয়ী হতে পারবে না, কারণ সিরিয়া সঙ্কটের কোনও সামরিক সমাধান নেই. সম্ভাব্য দুটি পরিবর্তন রয়েছে. প্রথম – রাজনৈতিক সমাধান, রাজনৈতিক প্রক্রিয়া চালু করা, যা নিয়ে সকলেই বোঝাপড়া করা উচিত্. দ্বিতীয় পথ – যা অন্যথায় হতে পারে, তা সিরিয়ার জন্য খুবই খারাপ ভবিষ্যতের, তা যেমন সিরিয়ার তেমনই এই সমগ্র অঞ্চলের জন্যও. সিরিয়ার সঙ্কট এই দেশের সীমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না”.

সিরিয়ার “কাজের গোষ্ঠী” জেনেভায় জড়ো হয়েছিল ৩০শে জুন. কিন্তু সেই সময়ে সমঝোতায় যা আসা হয়েছিল, তা এখনও কাগজে কলমেই রয়ে গিয়েছে. এখনও বেশীর ভাগ অংশগ্রহণকারীই তা কার্যকরী করতে শুরু করেন নি, এই কথা উল্লেখ করেছেন সের্গেই লাভরভ. সিরিয়ার বিরোধী পক্ষ এখনও “পরামর্শ” পেয়ে চলেছে যে, যুদ্ধ করা দরকার, তাই তিনি বলেছেন:

“আমাদের পশ্চিমের সহকর্মী দেশ গুলি ও তাদের কিছু সহযোগী যে সিদ্ধান্তের কথা আমাদের বলছেন, তা তারা ধান্ধা করে বার করেছেন মাত্র একটা উদ্দেশ্য নিয়েই – পরিস্থিতিকে আরও জটিল করার ও প্রশাসন পাল্টে ফেলার পরিস্থিতি তৈরী করা. যদি প্রশাসনের বদল – এটা প্রধান প্রাথমিক কাজ হয়, তবে আরও বেশী করেই রক্তপাত হবে. আর রাশিয়ার উপরে তা আর কোন ভাবেই নির্ভর করবে না”.

লাভরভের মতে, যাতে জেনেভা চুক্তির শর্ত মানা হয়, তার জন্য নতুন সিদ্ধান্ত বাধ্যতা মূলক নয়. সিরিয়াতে যারাই আজ যুদ্ধ করছে, তাদের সকলের জন্যই একটাই বিচারের পদ্ধতি হওয়া দরকার. প্রশাসন ও সশস্ত্র বিরোধী পক্ষ সব দিক থেকেই যেন একটাই দাবী শুনতে পায় – গুলি চালানো বন্ধ করা ও আলোচনা শুর করা.