লাওসের রাজধানী ভিয়েনতিয়েন শহরে “এশিয়া ইউরোপ” – আসেম সংগঠনের শীর্ষ বৈঠকের নবম সম্মেলন শেষ হয়েছে. রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভ, যিনি এই সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন, তিনি উল্লেখ করেছেন যে, আজ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্ত ফ্যাক্টরের পর্যালোচনা করা প্রয়োজন হয়েছে, যা স্ট্র্যাটেজিক স্থিতিশীলতার উপরে প্রভাব বিস্তার করতে পারে.

রাশিয়া পারমানবিক অস্ত্র প্রসার রোধ চুক্তি সমর্থনের প্রয়োজনীয়তার প্রসঙ্গ থেকেই শুরু করতে চায়. এই প্রসঙ্গে পারমানবিক অস্ত্র কমানোর বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া, যা রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে করছে, তা এমন এক সীমানার কাছে উপস্থিত করেছে, যখন শুধু মস্কো বা ওয়াশিংটনের শক্তি প্রয়োগেরই দরকার নেই, বরং সমস্ত রাষ্ট্রের শক্তি প্রয়োগের প্রয়োজন, যাদের কাছে এই ধরনের অস্ত্র রয়েছে. এই কথা উল্লেখ করে দিমিত্রি মেদভেদেভ আরও বলেছেন যে, “সেই প্রসঙ্গে সেই সব দেশের কথাও হিসাবের মধ্যে আনা দরকার, যাদের পারমানবিক পরিকল্পনা রয়েছে ও যারা পারমানবিক অস্ত্র প্রসার রোধ চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে এখনও অনিচ্ছুক”.

বিশ্ব নিরাপত্তার প্রসঙ্গে মেদভেদেভ সিরিয়া পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেছেন. তা খুবই আশঙ্কাজনক বলে তিনি উল্লেখ করেছেন. রুশ প্রজাতন্ত্র সেই বিশ্বাস থেকেই অগ্রসর হয়েছে যে, এই দেশের ভবিষ্যত ঠিক করবেন নিশ্চয় ভাবেই সিরিয়ার জনগন, কোন আন্তর্জাতিক কাঠামো বা অন্য কোন ধরনের তৃতীয় শক্তি নয়. ঠিক একই রকম ভাবে উত্তর কোরিয়ার পারমানবিক পরিকল্পনা সংক্রান্ত সমস্যারও কোন বিকল্প নেই, একমাত্র রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ভাবে সমাধান করা ছাড়া. এর জন্য যত দ্রুত সম্ভব ছয় পক্ষের আলোচনা নতুন করে শুরু করা দরকার. আর অন্য একটি বেদনা দায়ক কেন্দ্র – ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা সম্পর্কে, যা পশ্চিমের ভীতির উদ্রেক করেছে, তা নিয়ে যা বলা যেতে পারে, তা নিয়ে দিমিত্রি মেদভেদেভ আরও একবার মস্কোর অবস্থান নির্ণয় করে দিয়েছেন. যে কোন দেশই, তার মধ্যে ইরানও পড়ে, অধিকার রাখে অসামরিক পারমানবিক পরিকল্পনা বিকাশের, আর তার একমাত্র শর্ত হল যে, তা করা দরকার আন্তর্জাতিক ভাবে এই ধরনের কাজের উপরে নিয়ন্ত্রণ করতে দিয়ে.

আসেম – বেসরকারি ভাবে আয়োজিত সম্মেলন গুলির মধ্যে সবচেয়ে বড়, যাতে গতকাল থেকে আছে ৫১টি অংশগ্রহণকারী দেশ. ৫ই নভেম্বর এই সংগঠনে যোগ দিয়েছে নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড ও বাংলাদেশ. আর তাই বিশ্ব অর্থনীতি, সমস্যা ও তার মধ্যে ইউরো অঞ্চলের সমস্যা, আর তারই সঙ্গে অর্থনৈতিক বিকাশের নতুন মডেল আলোচনার মূল প্রসঙ্গ হয়েছে. সম্মেলনের মনোভাব খুবই আশঙ্কা জনক বলে মূল্যায়ণ করা যেতে পারে, কিন্তু তাও এক রকমের স্থৈর্য ধরে আশা রাখার মতো, এই কথা উল্লেখ করে রুশ মন্ত্রীসভার উপ প্রধানমন্ত্রী আর্কাদি দ্ভরকোভিচ বলেছেন:

“নেতারা মনে করেন যে, বর্তমানে সমস্ত রকমের সম্ভাবনাই রয়েছে, যাতে কোন রকমের সিরিয়াস সঙ্কটের উদয় না হয়, যাতে কষ্ট করে হলেও ধীরে এই সমস্যা থেকে নিষ্ক্রান্ত হওয়া যেতে পারে, যাতে আজ ইউরোপ পড়েছে. প্রসঙ্গতঃ বেশীর ভাগই সেই ধরনের মূল্যায়ন বিষয়ে একমত যে, এটা ইউরো মুদ্রার সমস্যা নয়, বরং ইউরোপের দেশ গুলির ও ব্যাঙ্ক গুলির ঋণ সংক্রান্ত সমস্যা, যার সঙ্গে লড়াই করা দরকার. যদি ইউরোপ ও এশিয়া নেতাদের বক্তৃতা তুলনা করা হয়, তবে সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় যে, এখন নতুন ধরনের বিকাশের মডেল খোঁজা হচ্ছে, কথা হচ্ছে, কি করে বিশ্বের অর্থনীতিতে আবার করে ভারসাম্য ফিরিয়ে নিয়ে আসা যায়, রপ্তানী নির্ভর দেশ গুলিতে দেশের আভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি করা যায়”.

রুশ মন্ত্রীসভার প্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ নিজের বক্তৃতায় একই সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণের সমস্যা প্রসঙ্গ উত্থাপন করেছেন. রাশিয়া আবহাওয়াতে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস বর্জন প্রতিরোধ চুক্তিতে সমস্ত দেশের বাধ্যতামূলক অংশগ্রহণের বিষয়ে আহ্বান করেছে. দিমিত্রি মেদভেদেভ একই সঙ্গে উল্লেখ করেছেন যান্ত্রিক গোলযোগ থেকে ও প্রাকৃতিক কারণে উদ্ভূত বিপর্যয় থেকে উদ্ধার ও ত্রাণের বিষয়ে গুরুত্বকে এবং তিনি সমর্থন করেছেন এই প্রসঙ্গে বিশেষ ধরনের আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা সৃষ্টির বিষয়ে. তাছাড়া, রাশিয়ার প্রধান মন্ত্রী প্রস্তাব করেছেন আসেম সংগঠনের কাঠামোর মধ্য থেকে রাশিয়াতেই আন্তর্ধর্মীয় ও আন্তর্সভ্যতা সংক্রান্ত আলোচনার জন্য সম্মেলনের আয়োজনের.

এই ধরনের সাক্ষাত্কার ধর্মীয় নেতাদের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সামাজিক সংস্থা গুলির মধ্যে সহযোগিতার মঞ্চ হতে পারে বলে দিমিত্রি মেদভেদেভ উল্লেখ করেছেন. তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, রাশিয়াতে খুবই বহুল সংখ্যায় নানা প্রজাতির লোক বাস করেন ও এই দেশে তাঁদের মধ্যে সহযোগিতার অভিজ্ঞতাও জমা হয়েছে প্রচুর.

সম্মেলনের কাঠামোতে রাশিয়ার মন্ত্রীসভা প্রধান বেশ কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করেছেন. পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী রেজা পারভেজ আশরাফের সঙ্গে বৈঠকের সময়ে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের বৃদ্ধি সংক্রান্ত চুক্তিতে পৌঁছনো সম্ভব হয়েছে. পাকিস্তানের সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে যে, রাশিয়া একই সঙ্গে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় ধাতু উত্পাদন কারখানা পাকিস্তান স্টিল মিলস আধুনিকীকরণের বিষয়ে এক পারস্পরিক বোঝাপড়ার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে.