রাশিয়ায় আজ ব্যাপক উত্সাহ আর উদ্দীপনের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে গণ ঐক্য দিবস. এ বছর এই দিবসটি বাড়তি গুরুত্ব বহন করছে, তবে কেন?.

ইতিহাসের দিকে তাকাতে হয়. ১৭ শতকের শুরুর দিকে রাশিয়া ইতিহাসের অন্যতম দুর্বিসহ সময় অতিক্রম করেছিল. জার শাসন ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ায় তখন দেশ ক্রান্তিকালের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছিল. পোলিশ বাহিনী রাশিয়ার অভ্যন্তরে ঢুকে পড়েছিল এবং পুরো দেশ স্বাধীনতা হারাতে বসেছিল. এমন পরিস্থিতিই নিঝনিনভোগোরদের বণিক কুজমা মিনিন ও রাজকুমার দিমিত্রি পোজারস্কির নেতৃত্বে স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী পোলিশ হস্তক্ষেপকারীদের হাত থেকে মস্কোকে উদ্ধার করেছিল. আজ থেকে ঠিক ৪০০ বছর পূর্বে ১৬১২ সালে এ ইতিহাস রচিত হয়েছিল. বিজয় খুব সহজভাবে হয় নি. কুজমা মিনিন ও দিমিত্রি পোজারস্কি জাতীয় বীরের মর্যাদা পেয়েছিলেন.

এ ঘটনাকে স্মরনীয় করে রাখতে ২০০৫ সালে রাশিয়ায় নতুন রাষ্ট্রীয় উত্সব গণ ঐক্য দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়. মস্কোর রেড স্কোয়ারে ওই বিজয়ের সাক্ষী স্বরুপ দুটি স্মৃতিফলক রয়েছে যা ১৯ শতকের গোড়ার দিকে নির্মাণ করা হয়. প্রথমটি হচ্ছে কুজমা মিনিন ও সুজদালের কাউন্ট দিমিত্রি পোজারস্কি. দ্বিতীয় স্মৃতিফলক রয়েছে কাজান গির্জায়.

আশ্চর্য হলেও একটি সামাজিক জরিপে দেখা গেছে যে, রাশিয়ার অর্ধেক নাগরিকই এখন পর্যন্ত এই উত্সবের গুরুত্ব ও নামকরণ সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা নেই. রুশীদের তাহলে আজ কি করে ঐক্যবদ্ধ করা যাবে?. রিসার্চ স্ট্রেটেজিক ইনস্টিটিউটের পরিচালক লেওনিদ রেশেতনিকোভ বলেন, “প্রাচীনকালে মানুষকে সৃষ্টিকর্তার প্রতি ভালবাসা ও বিশ্বাস একত্রিত করেছিল. এটিই ছিল প্রধান দৃষ্টিপাত. আমাদের ওই কৃষ্টি আজকের সমাজে কোন প্রভাব ফেলে না. তবে যে বিষয়টি এখনও আমাদের আছে তা হল নিজের জাতি, দেশ, ঘর ও পরিবারের প্রতি ভালবাসা. নতুন এই বিশ্বে আমাদের সকল রুশীদের আবারও ঐক্যবদ্ধ হওয়া উচিত”.

পলিটিক্যাল টেকনোলজি সেন্টারের প্রথম উপ-সভাপতি আলেক্সেই মাকারকিন বলেন, ''আজকের দিনে রুশী জাতি ইচ্ছা করলেই শান্তিময়, স্বাভাবিক ও স্বাচ্ছন্দ্য জীবনযাপন করতে পারেন. তবে সেক্ষেত্রে ‘স্থিতিশীলতা’ বলতে যা বুঝায় তারই আলোকে”.

তবে একজনের মতামতই যথেষ্ট নয়. ইতিহাসবিদ ড. আলেক্সান্দার ছিপকো দৃড়তার সাথে বলেন, আগামী রাশিয়ার জন্য দায়িত্ববোধ থেকেই এ দেশের জনগন ঐক্যবধ্য হতে পারে. তিনি আরও বলেন, “সোভিয়েত ইউনিয়নের ধ্বংসাবশেষ থেকে বেরিয়ে এসে রাশিয়া বড় হচ্ছে. এটি সম্পূর্ণ নতুন ঐতিহাসিক শিক্ষা. এখনও অনেক সমস্যার সমাধান করা উচিত. আমাদের সুন্দর ও সম্পদে ভরা এ দেশ তার প্রতিটি নাগরিককে আর্থসামাজিক গত দিক দিয়ে আরও অনেক কিছু উপহার দিতে পারে”.

ইতিহাস আমাদের সাক্ষী দিচ্ছে যে, যেকোন জাতীয় দুর্যোগের দিনে রুশী জাতি সর্বদাই ঐক্যবদ্ধ ছিল. ঠিক ৪০০ বছর পূর্বেও তেমনি ছিল যখন কুজমা মিনিন ও দিমিত্রি পোজারস্কির নেতৃত্বে গঠিত স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী পোলিশদের বিতাড়িত করেছিল. এমনটি ছিল ২০০ বছর পূর্বে যখন রাশিয়া নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল এবং তা ঘটেছিল ৭০ বছর পূর্বে যখন হিটলারের আক্রমণকারীদের দ্বারা দেশ আক্রান্ত হয়েছিল.

তবে স্বাভাবিক সময়ে ঐক্যবদ্ধ থাকা যেন অনেকটা কঠিন. তবে হয়তবা এ ক্ষেত্রে গণ ঐক্য দিবস আমাদের সাহায্য করতে পারে.