মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় স্যান্ডির আঘাতে দেশটিতে ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশী ক্ষতি হয়েছে. বানিজ্যিক নগর নিউইয়র্কে সব ধরণের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান ও স্টক মার্কেট বন্ধ রাখা হয়. পৃথিবীজুড়ে ইতিমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে যে, প্রাকৃতিক এ দুর্যোগের কারণে তা হয়ত আবার বিশ্ব মন্দার দিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে.

বিশ্ব অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর এতটাই নির্ভর যে আমেরিকার প্রতিটি হাঁচির সাথে তা শিহরিত হয়ে ওঠে. ইউরো মন্দা তা হচ্ছে বাড়তি অমৌলিক যা আমেরিকার অর্থনীতির একটি প্রভাবিত ফল. উপরন্তু, এর সমাধানের কারণ খুঁজছেন মার্কিন নেতারা. এমনকি রেইগান যখন রাষ্ট্রপতি ছিলেন তখনই, বাজারে পণ্যের দাম নির্দিষ্ট থাকায় তা ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেম অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব রেখেছিল. রাষ্ট্রের চাহিদা বেড়ে গিয়েছিল কিন্তু, অর্থের পরিমান ও রাষ্ট্রীয় ঋণ দ্রুত গতিতে বাড়তে থাকে. তারপরও বিশ্ব বাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল পুরো বিশ্বকে বাধ্য করছে আমেরিকার ঋণ অনুযায়ী তা ওয়াশিংটনকে ফেরত দিতে.

যখন বিশ্ববাসীর দৃষ্টি যাবে নানা জ্বলন্তঅঞ্চলের দিকে তখনই মার্কিন সরকার সিদ্ধান্ত নিবে. এমনটি মনে করছেন রুশী বিশেষজ্ঞ সেরগেই হেস্তানোভ. তিনি বলেন, “বিশ্ব অর্থনীতি ও মার্কিনী নীতিতে যে বৈরী অবস্থান রয়েছে তার সমাধানে বর্তমানে কোন সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা প্রস্তাব নেই. সুতরাং, যুক্তরাষ্ট্র যে অর্থনৈতিক ধারা চালিয়ে যাচ্ছে তা আগামীতেও বহাল থাকবে. আগামী কয়েক বছর মার্কিন ও বিশ্ব অর্থনীতির উন্নয়ন অনেক ধীর গতিতে হবে. এই সমস্যা যা সম্পর্কিত হচ্ছে মূলত অর্থনীতির চেয়ে রাজনৈতিক সময়সীমা অনেক স্বল্প এবং অনেক রাজনীতিবিদরা জানেন যে, নিজেদের শেষ সিদ্ধান্ত যখন কার্যকর করা হবে তখন হয়ত বা সরকারে তারা থাকবেন না. দেশের কৌশলগত উন্নয়নকে বাধ দিয়ে নির্দিষ্ট একটি সময়ের সুবিধা নিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে. এই প্রক্রিয়া তা প্রায় প্রতিটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নেতারা অনুসরণ করে থাকে”.

এদিকে অনেক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, বিশ্বকে আর একমেরুকরন করার যে মার্কিন প্রভাবশালী ক্রিয়াকলাপের শীঘ্রই অবসান হবে. বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন যে, বিশ্ব অর্থনৈতিক কাঠামো ও দ্বিপাক্ষিক রাজনৈতিক স্বার্থ তা এক অর্থে একেবারে হাঁপিয়ে উঠেছে. বাজার সম্প্রসারণ করা আর সম্ভব নয়. চলমান অর্থনৈতিক মন্দাকে বলা যেতে পারে তা পুঁজিবাদের শেষকাল এবং যার ঘুরে দাড়ানোর জন্য আর কোন সম্পদ নেই.