প্রায় ২০০টি বিরোধের কেন্দ্র বর্তমানের অশান্ত বিশ্বে রয়েছে. এটা যেমন গৃহযুদ্ধ, তেমনই ধর্মীয় কারণে পারস্পরিক সংঘর্ষ, আর এমনকি রাষ্ট্র গুলির মধ্যেও বিরোধ. এই কেন্দ্র গুলিকে নির্বাপিত করতে হবে. সেই কারণে খেলাধূলার উদ্যোগকেও ব্যবহার করে. এই বিষয়েই “শান্তি ও খেলাধূলা” নামের এক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল রাশিয়ার ২০১৪ সালের শীত অলিম্পিকের শহর সোচীতে.

রাষ্ট্রসঙ্ঘের তথ্য অনুযায়ী গত বছরে সারা বিশ্ব জুড়ে অস্ত্র সম্ভারের জন্য ব্যয় হয়েছে ১, ৭ ট্রিলিয়ন ডলার. এটা রাষ্ট্রসঙ্ঘের শান্তি উদ্যোগের জন্য ব্যবহার করা অর্থের অনেক গুণ বেশী. এমনকি এই অর্থের এক শতাংশ ব্যবহার করেও বেশ কয়েকশো মানবিক, শান্তি কামী অথবা খেলাধূলার প্রকল্প করতে পারা যেত, এই বিষয়ে পূর্ণ বিশ্বাস নিয়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিবের বিকাশ এবং শান্তির উদ্দেশ্যে খেলাধূলা নিয়ে বিশেষ পরামর্শদাতা উইলফ্রেড লেমকে বলেছেন:

“যদি আমরা যুদ্ধের জন্য বাজেট বরাদ্দ অন্তত এক শতাংশও কম করতে পারতাম, আমরা সারা বিশ্ব জুড়ে প্রায় একশ গুণ বেশী খেলাধূলা ও শান্তি প্রয়াস আয়োজন করতে পারতাম. এই কাজ সহজ নয়. কিন্তু আমরা যে চাই, যাতে বিশ্বে আর বিরোধ না হয়. আর তারই সঙ্গে খেলাধূলা মানুষকে একজোট করুক. শুধু এটা বিশ্বাস করতে হবে, কোন রকমের অন্য কথা শুনলে চলবে না যে, মানুষ কোন রকমের বিরোধ বা হত্যা ছাড়া থাকতে পারে না. এটাকে বন্ধ করতে হবে! শুধু মনে করে দেখুন, কত অর্থ আমরা অস্ত্রের জন্য ব্যয় করছি আর তা দিয়ে আমরা কত রকমের মানবতার উপকারী উদ্যোগ নিতে পারতাম!”

সত্যই নানা ধরনের দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে চলা মানুষের মধ্যে খেলাধূলা অনায়াসে সেতু বন্ধন করতে পারত, এই কথাই বিশ্বাস করে পাঁচ বারের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন চেরমেন ক্রুক্স বলেছেন:

“আমি ও অন্যান্য বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা আর খেলোয়াড়রা – সকলে মিলে সারা বিশ্বেই শান্তির জন্য উদ্যোগ নিয়েছি, আমরা সেটায় বিশ্বাস করি, যা আমাদের খেলাধূলা দেয়. আর আমরা জানি যে, খেলাধূলা মানুষের মধ্যে ঐক্য তৈরীর জন্য একটা সেতুর কাজ করতে পারে... যাদের সংস্কৃতি, ধর্ম সব কিছুই আলাদা”.

এই সম্মেলনে বিতর্কের সময়ে অতিথিরা একাধিকবার খুবই সফল খেলাধূলার উদ্যোগের উদাহরণ দিয়েছেন, যে গুলি যুযুধান পক্ষকে এক করেছে. এই ধরনের বিরোধের সংখ্যা কম নয়, আর খেলাধূলার প্রতিযোগিতার মধ্যে তা রয়েছে – যা আধুনিক জীবনের জন্য প্রয়োজন – খেলাধূলার নিয়মকে শ্রদ্ধা করা, প্রতিদ্বন্দ্বীকে সম্মান করা,- এই মন্তব্য করে আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশনের সভাপতি, আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির কার্যকরী পরিষদের সদস্য রেনে ফাজেল বলেছেন:

“বেলফাস্ট ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের কথাই ধরুন, উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার কথা, নিকট প্রাচ্য এই রকমের অন্যদের কথাও ধরুন, এই সব ক্ষেত্রেই খেলাধূলা হতে পারে সেই সেতু, বা চাবিকাঠি, যা দিয়ে সব দরজা খুলে ধরা যেতে পারে, য়েখানে রাজনৈতিক বিতর্ক সবচেয়ে বেশী রকমের তীক্ষ্ণ হয়ে রয়েছে. আর এই পক্ষ গুলির মধ্যে কোনও আলোচনাই হতে পারত না, কারণ তারা একে অপরের কথাই বুঝতে পারছিল না. আর খেলাধূলা এই বোঝাপড়ার চাবিই হতে পারে”.

সোচী শহর “শান্তি ও খেলাধূলা” নামের সম্মেলন করেছে এমন এক সময়ে, যখন ২০১৪ সালের শীত অলিম্পিকের জন্য পরীক্ষা মূলক প্রতিযোগিতা গুলির এখানে আয়োজন করা হয়েছিল. রাশিয়ার উপ প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি কজাকের কথামতো, শহর ও অলিম্পিকের জন্য তৈরী সমস্ত কেন্দ্র গুলিই পরীক্ষা মূলক প্রতিযোগিতার জন্য তৈরী. এই বছরের শেষের আগেই এখানে প্রথম প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে.