পোল্যান্ডের খবরের কাগজ “রেচপসপোলিতা” থেকে তার প্রধান সম্পাদক থোমাশ ভ্রুবেলস্কি পদত্যাগ করেছেন. কারণ হয়েছে একটা প্রবন্ধ, যাতে লেখা হয়েছে যে, ২০১০ সালের ১০ই এপ্রিল রাশিয়ার স্মোলেনস্ক শহরের কাছে পোল্যান্ডের রাষ্ট্রপতি লেখ কাচিনস্কির ভেঙে পড়া বিমানের ভাঙা টুকরোয় নাকি ডাইনামাইটের চিহ্ন দেখতে পাওয়া গিয়েছে. কোন রকমের বিস্ফোরক সংক্রান্ত ধারণা পোল্যান্ডের অভিশংসক দপ্তর থেকে নাকচ করা হয়েছে. কিন্তু এই প্রবন্ধ সারা পোলিশ সমাজকে ক্ষেপিয়ে দিয়েছে. বর্তমানের পোল্যান্ডের নেতা ব্রনিস্লাভ কমারোভস্কি ঘোষণা করেছেন যে, ভুল তথ্য দিয়ে রাজনৈতিক ত্সুনামি ও হিংসার ঢেউ তোলা হয়েছে.

পোল্যান্ডের কিছু লোককে দুই বছর আগের বিপর্যয় একেবারেই শান্তি দিচ্ছে না. আর এটা ব্যাখ্যা করাই যায়: দেশের প্রথম সারির নেতাদের নিয়ে বিপর্যয়ের ঘটনা প্রায়ই ঘটে না ও সেই গুলিকে মনে রাখা হয়, স্বাভাবিক ভাবেই অনেকদিন ধরে. তাই পোল্যান্ডের সেই বিমানের স্মোলেনস্ক শহরের কাছে ভেঙে পড়া, যেখানে দেশের প্রায় একশ জন উচ্চপদস্থ ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে, তা আবারও খুব একটা পরিষ্কার নয় এমন রাজনৈতিক খেলার খুচরো অংশ হয়েছে. বিরোধী পক্ষের নেতা ইয়ারোস্লাভ কাচিনস্কি – নিহত রাষ্ট্রপতির ভাই – দেশের প্রশাসনের উপরে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন, তাদের দোষ দিয়েছেন এক বিশাল রকমের লোক ঠকানোর অভিযোগ করে, আর অবিলম্বে মন্ত্রীসভার পদত্যাগ দাবী করেছেন.

আর যদিও যেদিন এই খবর বেরিয়েছে, সেই দিনই এই কাগজের পক্ষ থেকে খবরের সততা অস্বীকার করা হয়েছিল, তবুও প্ররোচনার যন্ত্র চালু হয়ে গিয়েছিল ও পরিস্থিতি খুবই অপ্রীতিকর ভাবে পাল্টে যাচ্ছিল. এই কথা উল্লেখ করে এই ট্র্যাজেডি নিয়ে আন্তর্রাষ্ট্রীয় বিমান পরিবহন পরিষদের বিশেষ তদন্ত কমিশনে পোল্যান্ডের প্রতিনিধি এডমন্ড ক্লিখ বলেছেন:

“আমি এই পরিস্থিতিকে দেখছি একটা ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি বলেই, আর আমি নিজে কল্পনাই করতে পারছি না, কি করে একটা বিমান দুর্ঘটনা, তা এমনকি এত ট্র্যাজিক পরিণতি সমেত হয়েও, আমাদের সমাজে এত প্রতিহিংসা পরায়ণ মনোবৃত্তির জন্ম দিতে পারে. এটা রাজনীতি. দেশকে বিভাগের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, আর এখন গুরুত্বপূর্ণ নয়, কোন নতুন কমিশন এই ঘটনার তদন্তে অংশ নেবে: পোল্যান্ডের শতকরা ৩৬ ভাগ মানুষ বিশ্বাস করেন যে, এটা একটা চক্রান্ত ছিল, আর মাত্র চার শতাংশ দুর্ঘটনার অব্যবহিত পরেই করা তদন্তের ফলাফলকে বিশ্বাস করেন”.

খুব সম্ভবতঃ এটা এই ধরনের তথ্য বাজারে ছাড়ার শেষ ঘটনাই নয়- কারণ স্মোলেনস্ক শহরের কাছের ট্র্যাজেডি পোলিশ সমাজে খুবই বড় প্রতিধ্বনি তুলেছে. বিশেষ তদন্ত কমিশনের সিদ্ধান্ত, আর তারই সঙ্গে যে কোন ধরনের কমিটির বাস্তব তথ্যই, যা বিরোধী পক্ষের জন্য নিহত নেতার মৃত্যু যে একটা চক্রান্তের ফল, এই ধরনের ধারণাকে সমর্থন করছে না, তা একেবারেই অবহেলা করা হচ্ছে. খেলা করা হচ্ছে আবেগ নিয়ে, কোন রকমের যুক্তির স্তরে নয়. আর নিহত রাষ্ট্রপতির ভাই ইয়ারোস্লাভ কাচিনস্কি কোন রকমের উপমা দিতেই বাদ রাখছেন না. তিনি প্রশাসনকে সমালোচনা করে বলছেন যে, তারা জনতার কাছ থেকে তিরিশ মাস ধরে সত্য গোপন করে রেখেছেন, তিনি এই ট্র্যাজিক ঘটনার নাম দিয়েছেন খুবই নোংরা অপরাধ বলে.

নিজেদের উচ্ছ্বাসে বিরোধী পক্ষের লোকরা খুবই কর্কশ ধরনের হিসাবের ভুল রেখে দিচ্ছেন, আর এই স্ক্যান্ডাল তৈরী করা খবর প্রকাশের মোদ্দা কথাটাই যে হতে পারে না, আর তা শুধু প্রযুক্তিগত বিচারের দিক থেকেই এহ বাহ্য লাগছে. এই ধরনের মন্তব্য রেডিও রাশিয়াকে বলেছেন জাতীয় স্ট্র্যাটেজি ইনস্টিটিউটের আন্তর্জাতিক প্রকল্পের ডিরেক্টর ইউরি সলজোবভ, তিনি বলেছেন:

“খুবই অবাক করা এক মিশ্রণ নাকি বিমানের ভগ্নাংশে পাওয়া গিয়েছে. নাইট্রো গ্লিসারিন, সামান্যতম ছোঁয়া লাগলেই বিস্ফোরিত হয়, বিমানের ঝাঁকুনি দুলুনি তো তার জন্য ভয়ানক ব্যাপার, আর ডাইনামাইটের চিহ্ন হঠাত্ করেই এই ঘটনার এত পরে পাওয়া গেল, এমনকি দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা এই বিমানের প্রায় প্রতিটি অণু পরমাণু পরীক্ষা করার পরে, সেটাই আশ্চর্য লাগে. তার ওপরে কাচিনস্কির উপরে অন্তর্ঘাতের গল্প ঠিক সেই সময়েই উদ্ভব হচ্ছে, যখন পোল্যান্ড ও রাশিয়ার সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পথে নতুন একটা গতি পেয়েছে ঠিক তখনই”.

এই ইতিহাসে দাঁড়ি দেওয়া বোধহয় তাড়াতাড়িই হয়ে যাবে. পোল্যান্ডের সামরিক অভিশংসক দপ্তর ঘোষণা করেছে যে, তাদের বিশেষজ্ঞদের এখন ছয় মাস সময় লাগবে নিশ্চিত করে বলতে যে, এই বিমানে কোন বিস্ফোরক ছিল কি না. হতে পারে তাদের সিদ্ধান্ত শেষমেষ সেই সমস্ত বুদ্ধিমান লোকদের মস্তিষ্কে স্পষ্ট চিন্তা উদ্রেক করবে, যারা অন্তর্ঘাতের ধারণা বিশ্বাস করেন. অন্তত পক্ষে, কিছু একটা সময়ের জন্য.