আফগানিস্তানে বর্তমানের সপ্তাহ এমন এক খবর দিয়ে শেষ হচ্ছে, যা সারা সপ্তাহের সেরা খবর হওয়ার দাবী করতে পারে. আফগানিস্তানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক হয়েছে এই খবর বিশেষজ্ঞদের জন্য প্রধান খবর হয়েছে. আর স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের প্রধান ফাজেল আহমেদ মানাভি যে ঘোষণা করেছেন, তাতে এই নির্বাচনে অংশ নিতে আহ্বান করা হয়েছে ঐস্লামিক দল ও তালিবদেরও, তাই এটাই সমস্ত বিষয়ে একটা রহস্যের সৃষ্টি করেছে.

এই বিষয়ে আমাদের সমীক্ষক পিওতর গনচারভ মন্তব্য করেছেন.

প্রথমেই এই যে ৫ই এপ্রিল ভোটের দিন ঠিক হয়েছে, সেটাই চিন্তার খোরাক যোগায়. এই সময় সীমা সম্ভবতঃ দেখে শুনেই করা হয়েছে, যাতে দেশ থেকে ন্যাটো জোট ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর প্রত্যাহারের সময়ের সঙ্গে মেলে. এমনকি যদি এই রকমও হয়, যে দ্বিতীয় দফায় নির্বাচনের প্রয়োজন পড়বে, তাহলেও নির্বাচন শেষ হবে ২২শে মে. অর্থাত্ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোটের নির্বাচনের সময়ে নিজেদের অবদান রাখার সময় পাবে, নিরাপত্তা রক্ষা করতে পারবে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোট খুব সক্রিয় ভাবে নিজেদের সৈন্য বাহিনী ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া শুরু করবে আগষ্ট- সেপ্টেম্বর মাসে, তার আগে নয়.

নির্বাচনের সময়ে নিরাপত্তার সমস্যা একটা প্রধান সমস্যা ছিল এই কিছুদিন আগেও. আর এটা স্পর্শ করেছেন, আর কেউ নয়, সোজা প্রথম উপ-রাষ্ট্রপতি মার্শাল ফাহিম. তারপরে আফগানিস্তানের রাজনৈতিক মহল থেকে বেশ কয়েকটি ঘটনা পরম্পরার কথা বলা হয়েছিল, যেগুলি অনুযায়ী নির্বাচন সেই কারণেই হতে পারত না, কারণ দেশে জরুরী অবস্থা ঘোষণা করা হতে পারত.

আজকের দিনে এই ধরনের অবস্থা বোধহয় সম্ভবই নয়, কারণ পার্লামেন্ট সদস্য ভুলুসি জির্গি সয়েদ ইসহাক গিলানি মনে করেন যে, এই ক্ষেত্রে পরিস্থিতি একেবারেই দেশে ঘোর অরাজকতা তৈরী করতে পারে, তাই তিনি বলেছেন:

“কয়েকদিন আগে ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যে, আফগানিস্তানের এলাকায় অনেকখানি এলাকায় কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই. সে বাস্তব, যে আফগানিস্তানের কিছু এলাকায় কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ নেই, তাতে যত বেশী না এই সরকারের লজ্জা হওয়ার কথা, তার থেকেও বেশী হওয়ার কথা আন্তর্জাতিক সমাজের, যারা নাকি গত এগারো বছর ধরে আফগানিস্তানে রয়েছে পরিস্থিতি সামাল দিতে, আর চেষ্টা করেছে যে, সরকার শেষ অবধি সত্যিকারের আইন সম্মত প্রশাসন হয়ে উঠুক, আর দেশে নির্বাচন হোক সময় মতো ও কেন রকমের বিপদের হুমকি ছাড়াই. আমি অন্তত তাই মনে করি. যদি হামিদ কারজাই জরুরী অবস্থা ঘোষণা করতে বসেন, যাতে তাঁর নিজের দ্বিতীয় দফায় গদিতে থাকা দীর্ঘায়িত হয়, তবে খুবই সম্ভব যে, রাজনৈতিক দল গুলি ঘোরতর ভাবে এর বিরোধিতা করবে ও পরিণামে পরিস্থিতি এতই ঘোরালো হবে যে, কারেরই শক্তি যথেষ্ট হবে না দেশকে অরাজকতার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য”.

আফগানিস্তানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে অন্য একটি সমস্যা হল যে, সেখানে নির্বাচনে কারচুপি হওয়ার সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া. এই বিষয়ে অনেক অভিযোগ হয়েছিল যখন বর্তমানে কার্য রত রাষ্ট্রপতি তাঁর দ্বিতীয় দফার জন্য নির্বাচনে নেমেছিলেন. এই সমস্যার আজ কি ভাবে সমাধান হবে, আর এই সমস্যার কোন সমাধান কি আফগানিস্তানে বর্তমানে করা সম্ভব?

ইসহাক গিলানি মনে করেন যে, এখানে অনেকটাই নির্ভর করবে সেই ভূমিকার উপরে, যা আফগানিস্তানের রাজনৈতিক দল গুলি ও দেশের ধর্ম নিরপেক্ষ সংগঠন গুলি নেবে.

সব মিলিয়ে যদি কাবুলে থাকা বিশ্লেষকদের মতামত বিচার করতে হয়, তবে আফগানিস্তানের সমাজ খুবই সিরিয়াস ভাবে মনোভাব নিয়েছে যে, যাতে বিশ্ব সমাজের কাছে এই নির্বাচন নিয়ে মুখ কালিমা লিপ্ত করতে না হয়. অর্থাত্ দেশের উপযুক্ত রকম ভাবেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা হবে, যা প্রমাণ করে দেবে যে, এই দেশ যথেষ্ট আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রেই পরিণত হচ্ছে.