মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদী সংগঠন “লস্কর – এ – তৈবার” স্রষ্টা হাফিজ মোহাম্মেদ সঈদের দেওয়া প্রস্তাব যে, আমেরিকায় “স্যাণ্ডি” ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য তিনি ত্রাণ সামগ্রী পাঠাবেন, তা নাকচ করে দিয়েছে. বর্তমানে সে “জামাত আদ –দাবা” নামের কল্যাণ সংগঠনের নেতা. সেই ২০০১ সালেই এই সংগঠন হাফিজ “লস্কর – এ – তৈবা” সংগঠনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগে তৈরী করেছিল. তাদের সক্রিয় কর্মীরা ২০০৫ সালে কাশ্মীরে ভয়াবহ ভূমিকম্পের পরে ধ্বংস স্তূপ উদ্ধারের কাজে হাত লাগিয়েছিল আর ২০১০ সালে পাকিস্তানে ভয়ানক বন্যার পরেও ত্রাণের কাজ করেছিল. মঙ্গলবারে এই সংগঠনের ওয়েব সাইটে সংগঠনের পক্ষ থেকে আমেরিকায় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করার ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছিল. এই বিষয়ে আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ বিশদ করে লিখেছেন.

এই ধরনের প্রস্তাব সেই সন্ত্রাসবাদীর কাছ থেকে নেওয়া, যার হাত আমেরিকার লোক, ভারতীয় মানুষ ও ইউরোপ এবং এশিয়ার অন্যান্য দেশের নাগরিকদের রক্তে রাঙা, তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনেকের কাছেই মনে হয়েছে অপমান জনক বলেই. ২০০৮ সালে ভারতের মুম্বাই শহরে “লস্কর- এ- তৈবার” জঙ্গীদের করা সন্ত্রাসবাদী হানায় মৃত্যু হয়েছিল যে ১৬৬ জন মানুষের, তাঁদের মধ্যে ছয় জন আমেরিকার লোকও ছিল. হাফিজ মোহাম্মেদ সঈদ, যে এই মুম্বাই হানার পরিকল্পনা ও ঘটানোর পেছনে মুখ্য ভূমিকা নিয়েছিল, তাকে পাকিস্তান সরকার কিছু সময়ের জন্য গ্রেপ্তার করলেও, খুব তাড়াতাড়িই ছেড়ে দিয়েছিল. পাকিস্তানের বিচার ব্যবস্থা থেকে মন্তব্য করা হয়েছিল যে, ভারত থেকে দেওয়া হাফিজ সঈদের মুম্বাই শহরের এই ঘটনার সঙ্গে সংযোগের প্রমাণ যথেষ্ট নয়.

“লস্কর – এ- তৈবা” মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও লক্ষ্য করা গিয়েছিল: তাদের জঙ্গীরা আমেরিকায় একসারি সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের পরিকল্পনা নিয়েছিল, কিন্তু তাদের আগেই ধরতে পারা গিয়েছিল. ভারতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ও অন্যান্য অনেক দেশেই “লস্কর – এ – তৈবা” নিষিদ্ধ. এই বছরের এপ্রিল মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকার এক কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে হাফিজ সঈদের ঠিকানা জানার জন্য. কিন্তু সব দেখে শুনে মনে হয়েছে যে, তাকে খোঁজার কোন দরকার নেই. সে নিজেই উদয় হয়েছে মানবিক ত্রাণের প্রস্তাব নিয়ে এই “স্যাণ্ডি” ঝড়ের পরে. হতে পারে যে, এই প্রস্তাবকে একটা “ব্ল্যাক হিউমার” বলেই মনে করা উচিত হবে.

প্রসঙ্গতঃ, এই ধরনের “বাঁকা” কথা বলার লোকের সংখ্যা কম নয়. কয়েকদিন আগে যেমন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী বারাক ওবামার নির্বাচনী তহবিলে পরপর দুই বার কিছু অর্থ জমা পড়েছিল ওসামা বেন লাদেনের নামে. সেখানে দাতার “ঠিকানার” জায়গায় লেখা ছিল অ্যাবত্তাবাদ, যেখানে ওসামা বেন লাদেনকে হত্যা করা হয়েছিল ও পোস্টাল ইন্ডেক্স দেওয়া হয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের পাসাডেনা শহরের – ৯১১০১, যা আমেরিকার ৯ই সেপ্টেম্বর ২০০১ তারিখের সঙ্গে এক, যেদিন সেই দেশে সন্ত্রাসবাদী হামলা হয়েছিল. এই “ব্ল্যাক হিউমার” যারা করেছে, তারা অবশ্য আমেরিকারই খবরের ওয়েব সাইট WND র লোক.