চিন তাদের নতুন পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান “শ্জেয়ান – ৩১” (জে-৩১) প্রথমবার উড়ান পরীক্ষা করে দেখেছে. এই খবর প্রকাশিত হয়েছে গণ প্রজাতন্ত্রী চিনের অষ্টাদশ পার্টি কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় পরিষদের প্রথম দিনের পরিকল্পনা সভার উদ্বোধনী সমারোহে, যেখানে এই কংগ্রেসের আলোচ্য তালিকা স্থির করা হবে. চিনের সামরিক প্রযুক্তি ক্ষেত্রে নতুন সাফল্যের প্রদর্শন – এটা যেমন পার্টি কংগ্রেসের জন্য উপহার, তেমনই সম্ভাব্য শত্রুকে মুষ্টি প্রদর্শন.

জে – ৩১ – পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধ বিমানের দ্বিতীয় রকমের মডেল. প্রথম জে – ২০ - জানুয়ারী মাসে পরীক্ষা করে দেখা হয়েছিল. দুটি ধরনই – শত্রুর রেডিও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থায় দেখতে না পাওয়া যায় এমন প্রযুক্তি দিয়ে তৈরী করা. এই ভাবেই চিন বিশ্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরে দ্বিতীয় দেশ, যাদের পঞ্চম প্রজন্মের একই সঙ্গে দুই ধরনের বিমান রয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে আন্তর্বিভাগীয় বিশ্লেষণ কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ আলেক্সেই সুখারেভ বলেছেন:

“এটা ঠিকই যে, আমরা এখন নতুন ভূ- রাজনৈতিক নেতৃত্বের জন্ম হতে দেখতে পাচ্ছি. দূরের সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতেই পারে. চিন নিজেদের অত্যন্ত শক্তিশালী অর্থনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে দ্বিতীয় অথবা ভবিষ্যতে প্রথম বৃহত্ রাষ্ট্রের সমস্ত প্রয়োজনীয় গুণ মানই তৈরী করতে চাইছে”.

পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধ বিমান, কোন সন্দেহ নেই যে, গর্ব করার একটা আইন সঙ্গত কারণ. কিন্তু এখানে বাদ দেওয়া যায় না যে, পরবর্তী কালে জে – ২০ ও জে -৩১ পরীক্ষা করা অনেক সময়ের জন্যই দীর্ঘায়িত হতে পারে ও এমনকি বিদেশ থেকে সাহায্যের প্রয়োজনও হতে পারে.

জে – ৩১ এর যে পরীক্ষা মূলক ধরণ বানানো হয়েছে তাতে দুটি রুশ এঞ্জিন লাগানো হয়েছে, যা পরবর্তী কালে চিনের একই ধরনের জিনিষ দিয়ে পাল্টানো হতে পারে. এই বিষয়ে লিখেছে “হুয়ানতশিউ শিবাও” সংবাদপত্র, ব্রিটেনের উত্স থেকে পাওয়া খবর হিসাবে. চিনের ব্লগ লেখকদের মত অনুযায়ী, এখানে কথা হতে পারে আরডি – ৯৩ ইঞ্জিনের. এই ধরনের এঞ্জিন অংশতঃ, চিনের জেএফ – ৩৫ যুদ্ধ বিমানে রয়েছে.

বিশেষজ্ঞরা বাদ দিচ্ছেন না সেই সম্ভাবনাও যে, জে – ৩১ বিমানবাহী যুদ্ধ জাহাজের উপরে ওঠা নামার উপযুক্ত বিমানের মত করেই তৈরী করা হচ্ছে. এই বিষয়ে অংশতঃ দেখতে পাওয়া গিয়েছে বিমানের সামনের চাকার জোড়া অংশ দেখে. আর তারই সঙ্গে জে -২০ বিমানের চেয়ে জে – ৩১ বিমান হাল্কা ও ছোট. জে – ২০ বিমানের পক্ষে ধারণা প্রকাশিত হয়েছে যে, এই ধরনের মডেলে অনেকটাই ভেতরে জায়গা রয়েছে অস্ত্র রাখার জন্য ও নিজের প্রধান উদ্দেশ্য এই বিমানের জন্য ঠিক করা হয়েছে আঘাত হানার অস্ত্র হিসাবেই. সুতরাং জে – ৩১ – এটা আরও বেশী উড়ানের সময়ে দিক পরিবর্তনে সক্ষম এই রকমের গঠনের বিমান, যা প্রাথমিক ভাবে বিমানবাহী জাহাজে ওঠা নামার উপযুক্ত করে তৈরী করা.

চিনের নতুন ধরনের পঞ্চম প্রজন্মের বিমানের পরীক্ষার মধ্যে ভূ – রাজনৈতিক সমস্যা একাডেমীর সভাপতি লিওনিদ ইভাশভ বিশ্বের শক্তি ভারসাম্যে পরিবর্তনের এক নতুন সঙ্কেত দেখতে পেয়েছেন, তাই তিনি বলেছেন:

“বিশ্ব এক খুবই নৃশংস সামরিক বিরোধের দিকেই নেমে যাচ্ছে, আর চিন এর জন্যই তৈরী হচ্ছে. চিন আজ সমস্ত সম্ভাব্য কাজই করছে, যাতে নিজেদের সামরিক বাহিনীকে নতুন ও আধুনিক যুদ্ধের অস্ত্র দিয়ে সজ্জিত করা সম্ভব হয়. দেশের নৌবাহিনীতে আধুনিকীকরণের পরে প্রথম বিমান বাহী জাহাজও যোগ করা হয়েছে, প্রহরায় লাগানো হয়েছে নতুন প্রজন্মের ডুবোজাহাজ দল, জাহাজ বিরোধী রকেট. আর এটাও অবশ্য যে, বিমান বাহিনী আধুনিক করা হচ্ছে. এই সবই স্বাভাবিক. বিশ্ব এক বিশাল যুদ্ধের জন্য তৈরী হচ্ছে. আর তার প্রধান অংশগ্রহণকারীরা – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চিন ও উত্তর অতলান্তিকের অংশ হিসাবে ন্যাটো জোট”.

0চিন জে -২০ উড়ান পরীক্ষা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এশিয়াতে প্রত্যাবর্তনের ঘোষণার পরেই করেছে. জে -৩১ চিনের উত্তর- পূর্বের রাজ্য লিয়াওনি থেকে আকাশে উড়েছে চিন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া মধ্যে সীমান্ত নিয়ে বিতর্কের আগুন উস্কে দেওয়ার পরেই. টোকিওর প্রতি পূর্ব চিন সাগরে এলাকার অধিকার নিয়ে নিজেদের কঠোর অবস্থান এই সীমান্ত সংক্রান্ত প্রশ্নে মজবুত করেছে নতুন যুদ্ধ বিমানের উড়ান দিয়ে.