সম্ভবতঃ আগামী বছরের জানুয়ারী মাসে পাকিস্তানের পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া হবে, যার পরে তৈরী করা হবে অন্তর্বর্তী কালীণ সরকার, যাতে এপ্রিল মাসে পরবর্তী পার্লামেন্ট নির্বাচন করা যায়. যে রকম আশা করা হয়েছে দেশের পার্লামেন্টের নিম্ন কক্ষ – জাতীয় লোকসভা – ভেঙে দেওয়া হবে ১৬ অথবা ১৭ই জানুয়ারী. এই বিষয়ে খবর দিয়েছে “টাইমস অফ ইন্ডিয়া”. বিশদ করে বিষয় নিয়ে লিখেছে আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

পার্লামেন্টের উভয় কক্ষ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী কালীণ সরকার গঠন ও দেশে পার্লামেন্ট নির্বাচনের বিষয়ে শেষ সিদ্ধান্ত নেবেন রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি ও প্রধানমন্ত্রী রাজা পারভেজ আশরাফ, আর তা নেওয়া হবে বর্তমানে ক্ষমতাসীন দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরামর্শ করার পরেই. আশা করা হচ্ছে যে, নির্বাচন হবে আগামী বছরের ২৬শে এপ্রিল.

পাকিস্তান ইতিমধ্যেই অনেকটা সময় ধরেই দেশে ক্রমাগত রাজনৈতিক সঙ্কট চলছে. প্রশাসক জোটের অবস্থান ক্রমাগত দুর্বল হচ্ছে. প্রশাসনের উপরে খুবই সিরিয়াস অভিযোগ শুধু পাকিস্তানের জনতা পার্টির স্বাভাবিক বিরোধীরাই করছে না, যেমন করে থাকে মুসলিম লীগ, বরং নতুন রাজনৈতিক দল ও আন্দোলনও. ইমরান খানের “ন্যায়ের আন্দোলন” দল রাজধানীতে ও পাকিস্তানের অন্যান্য শহরে বহু সহস্র লোকের জমায়েতে সমাবেশ করছে. ৫৯ বছর বয়সী ইমরান খান, যিনি যুবা বয়সে নিজের খেলাধূলায় উত্কর্ষের জন্য বিখ্যাত হয়েছেন, তিনি নিজেকে এখন একজন ধর্মপ্রাণ মুসলমান বলে পরিচয় দিচ্ছেন ও পাকিস্তানকে একটি “সামাজিক রাষ্ট্রে” পরিণত করে দেশের অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণ মুক্ত করতে চাইছেন. দুর্নীতির সঙ্গে লড়াইয়ের স্লোগান তাঁকে নিজের চারপাশে নিয়ে আসার সুযোগ করে দিয়েছে বহু সংখ্যক মানুষকে ও দেশের জনগনের মধ্যে তিনি নিজে খুবই জনপ্রিয় হয়েছেন. তাঁর দলের সঙ্গে কোন না কোন ভাবে যোগ দিয়েছে যেমন সামরিক বাহিনীর লোকরা, তেমনই পাকিস্তানের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি পারভেজ মুশারফের সমর্থকরা ও মধ্য পন্থী ঐস্লামিকরাও.

বর্তমানের ক্ষমতাসীন নেতৃত্বের পক্ষে কি নিজেদের চারপাশে নতুন রাজনৈতিক জোট তৈরী করা সম্ভব হবে? পরিস্থিতিকে কি স্থিতিশীল করা সম্ভব হবে? রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ আঝদার কুরতভ এই বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছেন:

“রাজনৈতিক দল গুলির খুবই রঙ বেরঙের মোজাইকে ও জাতিগত কাঠামোয় কোন রকমের সহমতে আসা খুবই কঠিন. যে বের হওয়ার পথ আজ মনে হচ্ছে ফলপ্রসূ, আর সেটা ঠিক এই পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া, আমার দৃষ্টিকোণ থেকে মনে তো হয় না যে, কোনও নতুন স্থিতিশীল সরকারি দলের স্বপক্ষে জোট পার্লামেন্টে তৈরী করতে সক্ষম হবে. পাকিস্তানের অনেক সমস্যা, যা এই দেশের অর্থনৈতিক জীবনের সঙ্গে জড়িত. বাস্তবে পাকিস্তানের অর্থনীতি নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে নেই. পাকিস্তানে খুবই বেশী করে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও সেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্যের উপরে নির্ভর করা হয়েছে. অন্য দিক থেকে পাকিস্তানে খুবই শক্তিশালী অবস্থান দেশের সামরিক ও গোয়েন্দা ও পুলিশ বাহিনীর, অংশতঃ পাকিস্তানের আইএসআই সংস্থার. এই ধরনের সংস্থা সাধারণত খুবই সন্দেহের চোখে নানা ধরনের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের দিকে দেখে আর তারা মোটেও চায় না যে, বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক দলের লোক তাদের উপরে নেতৃত্ব করুক ও রাজনীতি ঠিক করে দিক. এই বিরোধ কোথাও যাবে না. তাই স্থিতিশীলতা খুবই শক্ত হবে অর্জন করা”.

বেশীর ভাগ পর্যবেক্ষকই মনে করেন যে, ক্ষমতাসীন জোটের পক্ষে নিজেদের অবস্থান বজায় রাখা বোধহয় সম্ভব হবে না. যদিও এক উল্টো দৃষ্টিকোণের কথাও বলা হচ্ছে: আগামী নির্বাচন চমক নিয়েও আসতে পারে, যেমন দেশের পার্লামেন্টের উচ্চ কক্ষে মার্চ মাসে নির্বাচনের সময়ে হয়েছিল. তখন পাকিস্তানের জনতা দল নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছিল. কিন্তু এটা সারা দেশ জুড়ে হওয়া নির্বাচন প্রথমতঃ ছিল না. পাকিস্তানের সেনেট সদস্যদের নির্বাচন করে থাকেন লোকসভার সদস্যরা আর রাজ্য গুলির বিধানসভার সদস্যরাই.