বর্তমানে যাঁরা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে কাজ করছেন, তাঁদের জন্য অপেক্ষা করছে এক মহা ভোজের আয়োজন. পরিবহনের উপযুক্ত মহাকাশযান প্রোগ্রেস এম – ১৭এম কক্ষপথে পৌঁছে দেবে বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি ও স্টেশনের যন্ত্রাংশ ছাড়াও টাটকা সব্জী ও ফল: আপেল, কমলা লেবু ও লেবু.

সইউজ- ৫ রকেট পরিবাহক প্রোগ্রেস মহাকাশযান নিয়ে আজ বৈকনুর মহাকাশ উড়ান ক্ষেত্র থেকে যাত্রা শুরু করেছে. তাতে পাঠানো হয়েছে আড়াই টনের বেশী জীবন রক্ষার উপযুক্ত মালপত্র. এটা দ্বিতীয় বার তথাকথিত ভাবে দ্রুত মাল পৌঁছে দেওয়ার জন্য পাঠানো মহাকাশ যান, তাই মহাকাশ বিজ্ঞান বিষয়ে বিশেষজ্ঞ আন্দ্রেই ক্রাসিলনিকভ বলেছেন:

“সাধারণত যেমন হয়ে থাকে সেই দুই দিন ধরে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের কাছে পৌঁছনোর বদলে এই বার নিয়ে দ্বিতীয়বার মালবাহী যান দুই ঘন্টার মধ্যেই কাছাকাছি হওয়া শেষ করবে. পরিকল্পনা আছে যে একই রকম ভাবে প্রোগ্রেস এম – ১৮ পাঠানো হবে, যা আগামী বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে কক্ষপথে পৌঁছবে, আর মার্চ মাস থেকে পরিকল্পনা করা হয়েছে মহাকাশচারীদের নিয়ে সইউজ মহাকাশযান

৭- ৮ গুণ দ্রুত স্টেশনে পৌঁছবে. সাধারন ভাবে আট দিন ধরে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছনোর বদলে যাত্রাপথ হবে মাত্র কয়েক ঘন্টা. আর তার ফলে মহাকাশচারীরা ভর শূণ্যতা সহজেই মানিয়ে নিতে পারবেন. তারা এটা মানিয়ে নেবেন কোন স্বল্প পরিসর জায়গায় নয়, একেবারে মহাকাশ স্টেশনেই”.

মহাকাশচারীরা বিশেষ রকমের অধৈর্য হয়ে অপেক্ষা করছিলেন পৃথিবী থেকে অন্য সব সময়ের মতোই তাঁদের আত্মীয় পরিজনদের কাছ থেকে অনেক রকমের সুস্বাদু জিনিষ পাওয়ার. বিগত কয়েক বছর ধরেই মহাকাশচারীদের খাওয়া দাওয়ার রেশন খুবই সিরিয়াস ভাবেই পাল্টে গেছে. বাস্তবে সেই সব গল্প হয়ে যাওয়া টিউবের খাবার, যাতে স্যুপ, মাস, মাছ, কেক এই সব পাঠানো হত, তা অনেক দিনই বন্ধ হয়ে গিয়েছে, এখন পাঠানো হয় টিউবে করে বড় জোর মশলা ও স্যস. টিনের টিউবের জায়গায় এখন থাকে পলিমারের প্যাকেট ও ধাতব কৌটা. এই গুলি ব্যবহার করা অনেক সহজ. প্রথমতঃ, স্বাদের ক্ষেত্রে এই সব খাবার পৃথিবীর মতই ও দ্বিতীয় বিষয় হল যে, এই গুলি খাওয়ার জন্য শুধু ঠাণ্ডা অথবা গরম জলই যোগ করতে হয়. তারপরে কাঁটা চামচ দিয়ে দিব্যি খাওয়া যায়. কিন্তু ন্যায় সঙ্গত হবে বললে যে, মহাকাশচারীরা বেশী করে অপেক্ষা করেন টাটকা খাবার দাবারের. এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার শিয়ালকোভস্কি নামাঙ্কিত মহাকাশ বিজ্ঞান একাডেমীর অ্যাকাডেমিশিয়ান আলেকজান্ডার ঝিলিয়েজনিয়াকভ বলেছেন:

“এটা ঠিকই যে সব সময়ে যখন মালবাহী যান ভর্তি করা হয়, তখন চেষ্টা করা হয় কিছু একটা দিয়ে মহাকাশচারীদের মনোরঞ্জন করার. এই বারে সেই সব খাবার যাবে, যা দিয়ে মহাকাশচারীরা তাঁদের নববর্ষের টেবিল সাজাবেন. এটা এই বছরে স্টেশনে পাঠানো শেষ মালবাহী মহাকাশ যান. তাই জন্য অবশ্যই নববর্ষের কথাও ভাবা হয়েছে”.

প্রসঙ্গতঃ, মহাকাশচারীরা প্রোগ্রেস মহাকাশযান থেকে টাটকা সব্জী ও ফল পেতে ভালবাসেন, সেই সব খাবার, যা তাঁরা খুবই পছন্দ করেন: চিজ, কফি, পিঁয়াজ, টক শশা ইত্যাদি. অবশ্য এবারে তাঁরা চেয়েছিলেন প্রোগ্রেস মহাকাশ যানে করে কিছু রসুন. খুব সম্ভবতঃ, যাতে নববর্ষের উত্সবের সময়ে হঠাত্ করে অসুখ না হয়ে যায়.