গ্যাসের জায়গায় হবে তেল. গাজপ্রমের প্রধান আলেক্সেই মিলার ঘোষণা করেছেন যে, রাশিয়ার জন্য শেল তেল নিষ্কাশই হবে সঠিক. মিলারের কথামতো, কোম্পানী এবারে শেল তেল নিষ্কাশণ নিয়ে কাজ করবে. এই নাম দেওয়া হয়েছে সেই ধরনের খনিজ তেলকে, যা মাটির নীচের পাথুরে জায়গায় ছোট খানা খন্দে ভর্তি হয়ে থাকে. এই কারণেই তা অন্যান্য ধরনের খননের ঐতিহ্য বিহীণ খনিজ তেলের, যেমন পিচ মাখা বালির চেয়ে আলাদা. এটা সাধারণত খুবই ভাল গুণ মানের খনিজ তেল. কিন্তু কিছু দিন আগে পর্যন্ত এই তেল নিষ্কাশের কোনও প্রযুক্তি ছিল না. বর্তমানে তার উদয় হয়েছে.

শেল তেলের পরিমান, বিজ্ঞানীদের মূল্যায়নে সাধারন যত খনিজ তেল রয়েছে, তারই সমান. শেল খনিজ তেলের উত্পাদনের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি খনিজ তেলের বাজারকেই একেবারে পাল্টে দিতে পারে. রাশিয়ার খনিজ শেল তেল – এটা কার্বন যৌগ, যা বেশীর ভাগই রয়েছে পশ্চিম সাইবেরিয়াতে. তা খুবই বেশী রকমের খনিজ তেলের ঘনত্বে বিরল প্রকৃতির. বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়ার সম্ভাব্য সঞ্চয়ের পরিমান স্রেফ অঢেল, এই কথা উল্লেখ করে জাতীয় জ্বালানী নিরাপত্তা তহবিলের জেনারেল ডিরেক্টর কনস্তানতিন সিমোনভ বলেছেন:

“ভূতত্ত্ববিদদের সবচেয়ে প্রাথমিক মূল্যায়ণ অনুযায়ী অবশ্যই এর পরিমান আশ্চর্য হওয়ার মতো. অর্থাত্ শুধু মাটির নীচে থাকা তেল দিয়েই যা আমরা এখন পশ্চিম সাইবেরিয়াতে উত্পাদন করছি, তার থেকে প্রায় অর্ধেক পরিমান পাওয়া যেতে পারে”.

খুবই বিনম্র হিসেব অনুযায়ী এর পরিমান – ২২শো কোটি টন. যারা আশাবাদী, তাঁরা বলেন একশ চল্লিশ কোটি টন. শেল তেল মাত্র দুই কিলোমিটার গভীরেই জমে রয়েছে, তাই সাধারন খনিজ তেল যা উত্তোলনের জন্য প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পর্যন্ত গভীর কূপও কখনও খনন করতে হয়, তা সহজেই উত্তোলনের যোগ্য হবে.

শেল তেল নিষ্কাশের জন্য গাজপ্রম সংস্থাকে সন্দেহ নেই যে, বিনিয়োগ ও নতুন প্রযুক্তি আনয়নের প্রয়োজন পড়বে. প্রসঙ্গতঃ এই ক্ষেত্রে প্রথম বা দ্বিতীয় কোন বিষয়ই এই সংস্থার পক্ষে সমস্যা নয় বলে বিশ্বাস নিয়ে বিশ্লেষক দিমিত্রি আলেকসান্দ্রভ বলেছেন:

“এখানে গাজপ্রম নেফ্ত কোম্পানীর সহযোগিতা রয়েছে এই শিল্প ক্ষেত্রের এক অগ্রণী সংস্থার সঙ্গে, শেল কোম্পানী. তাদের কাছে ঐতিহ্য বিহীণ খনিজ তেল ও গ্যাস উত্পাদনের বিষয়ে বিরল অভিজ্ঞতার সমন্বয় রয়েছে – এটা পিচ খনিজ তেল, আঠালো খনিজ তেল ও বালিতে মেশা খনিজ তেল ইত্যাদি. এরা এক সেরা সহকর্মী, যাদের বেছে নেওয়া যেতেই পারে”.

সুতরাং শেল খনিজ তেল তোলার জন্য গাজপ্রমের সমস্ত প্রয়োজনীয় যন্ত্রই রয়েছে. বিশ্লেষকরা যেমন উল্লেখ করেছেন যে, শুধু কর সংক্রান্ত নিয়মাবলী নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াই বাকী রয়েছে, কারণ এর উপরেই নির্ভর করবে নতুন খনিজ তেল উত্পাদনের খরচের বিষয়ে সার্থকতা. এখন, যখন শেল তেল তোলার বিষয় বাস্তব হয়েছে, তখন সরকার খুব সম্ভবতঃ, ব্যবসার পক্ষই নেবে. খনি খননের কাজ গাজপ্রম শুরু করবে আগামী বছরেই.