জাপানের “ফুকুসিমা – ১” পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রে দুর্ঘটনার পরে চিন স্থগিত রাখা পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ আবার করে শুরু করবে. এই বিষয়ে চিনের প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তি গণ প্রজাতন্ত্রী চিনের রাষ্ট্রীয় সভার অধিবেশনের পরে প্রকাশ করা হয়েছে.

সরকারি বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, চিনের নতুন পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র, যা পরিকল্পনা করা হয়েছিল ২০১৫ সালের মধ্যে তৈরী করে ফেলার, তা তৈরী হবে দেশের সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলে এবং তা হবে সমস্ত রকমের আন্তর্জাতিক ভাবে গৃহীত নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপযোগী করেই. প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমস্ত দিক বিচার করে খুবই কঠোর ভাবে পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে, যাতে পারমানবিক শক্তির বিকাশের বিষয়ে ভরসা যোগ্যতা অর্জন করা সম্ভব হয়. মন্ত্রীসভার স্তরে গৃহীত ২০১৫ সাল পর্যন্ত জাতীয় জ্বালানী শক্তি উন্নয়নের পরিকল্পনার অর্থ হল যে, চিন আবার দেশের অর্থনৈতিক বিকাশের ক্ষেত্রে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র গুলিকে অন্তর্ভুক্ত করছে.

বিশেষজ্ঞদের মতে, পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র আবার করে তৈরী করা শুরু হওয়ার পরিকল্পনা মস্কো ও বেজিংয়ের মধ্যে এই বিষয়ে নতুন করে সহযোগিতার উন্নতির জন্য পথ খুলে দিচ্ছে. বর্তমানে চিনে তিয়ানভান পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের প্রথম দফার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে, যা নির্মাণ করা হয়েছিল রুশ বিশেষজ্ঞদের সহায়তায়. তিয়ানভান পারমানবিক বিদ্যুত প্রকল্পের তৃতীয় ও চতুর্থ রিয়্যাক্টর ব্লকের নির্মাণের কাজ এই বছরের শেষের আগেই শুরু হওয়ার কথা. চিনে জুন মাসে রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের সরকারি সফরের সময়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি. তার মধ্যে – পারমানবিক শক্তি উত্পাদনের ক্ষেত্রে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় কর্পোরেশন রসঅ্যাটম সংস্থা ও চিনের পারমানবিক শক্তি সংস্থার মধ্যে সহযোগিতার বিষয়ে এক “পথ নির্দেশিকা” স্বাক্ষরিত হয়েছিল. পারমানবিক বিদ্যুত উত্পাদন প্রকল্পে সহায়তা ছাড়াও দুই পক্ষের সহমতে তৈরী এই “পথ নির্দেশিকাতে” একই সঙ্গে মনোযোগ দেওয়া হয়েছে মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে পারমানবিক জ্বালানী ব্যবস্থা সৃষ্টির জন্য সহযোগিতার কথাও.

এরই মধ্যে, চিন ও রাশিয়া শুধু সহযোগিতাই করছে না, বরং আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি উত্পাদন প্রকল্পের বাজারে প্রতিযোগিতা করতেও সক্ষম. এই কথা সত্য যে, “রেডিও রাশিয়াকে” দেওয়া সাক্ষাত্কারে জ্বালানী শক্তি ও নিরাপত্তা গবেষণা কেন্দ্রের ডিরেক্টর আন্তন খ্লোপকভ উল্লেখ করেছেন যে, পারমানবিক শক্তি ক্ষেত্রে ফুকুসিমা দুর্ঘটনার পরে নিরাপত্তা বিষয়ে নিয়মাবলী আরও কঠোর হয়েছে. বিশেষজ্ঞের মতে, চিনের উচিত হবে আরও অনেক কাজ করার, যাতে তাদের কাছে যাঁরা বরাত নিয়ে আসবেন, তাঁরা পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণের বিষয়ে চিনের পক্ষ থেকে সব থেকে নিরাপত্তা পাওয়া যাবে বলে আশ্বস্ত হতে পারেন. এই প্রসঙ্গে আন্তন খ্লোপকভ বলেছেন:

“বিশ্বের বাজারে এক সম্পূর্ণ মানের ক্রীড়নক হওয়া জন্য চিনের দরকার হবে তৃতীয় প্রজন্মের আরও নিরাপদ রিয়্যাক্টর তৈরী করার. আমার দৃষ্টিকোণ থেকে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বিশ্বের বাজারের বোধহয় চিন সেই রকম কিছু প্রস্তাব করতেই পারবে না. রাশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া এই সময়ের মধ্যে বাড়তি প্রতিযোগিতার সুযোগ পাবে, যদিও ফুকুসিমা পারমানবিক কেন্দ্রে দুর্ঘটনার আগে মনে হয়েছিল যে, চিন আসন্ন বছর গুলিতেই বিশ্বের বাজারে সক্রিয় খেলোয়াড় হয়ে উঠতে পারবে”.

বিশেষজ্ঞ মনে করেছেন যে, তাই চিন শক্তি একজোট করছে তাদের নিজেদের দেশের বাজারেই এখন কাজের জন্য. তার ওপরে, চিনের পারমানবিক ক্ষেত্রে এখনও অনেক উন্নতির জায়গা রয়েছে. বর্তমানে গণ প্রজাতন্ত্রী চিনের মোট বিদ্যুত জ্বালানী উত্পাদনের ক্ষেত্রে পারমানবিক বিদ্যুত উত্পাদনের পরিমান মাত্র শতকরা দুই ভাগ. বেজিংয়ের জন্য, যার বর্তমানে চেষ্টা করছে আবহাওয়াতে দূষণের পরিমান কমানোর ও গ্রীন হাউস এফেক্ট কমিয়ে আনার, তারই সঙ্গে কার্বন যৌগের আমদানী থেকে নিজেদের নির্ভরতা কম করার, পারমানবিক বিদ্যুত উত্পাদনের সংজ্ঞা অনেক বেশী ভাবেই বেড়ে গিয়েছে.