বছরে ১০ থেকে ১৫ কোটি ডলার অর্থমূল্যের অস্ত্র সামগ্রী রাশিয়া আমদানী করে থাকে বলে রসআবারোনএক্সপোর্ট কোম্পানীর জেনারেল ডিরেক্টর আনাতোলি ইসাইকিন ঘোষণা করেছেন. এই সংখ্যা বিশেষজ্ঞদের নজরে পড়েছে, কারণ খুবই অভ্যাস হয়ে গিয়েছে এই কথা বলার যে, রাশিয়া – বিশ্বের এক বৃহত্তম অস্ত্র রপ্তানীকারক দেশ. রাশিয়া আবার কি ধরনের অস্ত্র আমদানী করবে ও তা কিসের জন্য? এই বিষয়ই রয়েছে স্ট্র্যাটেজি ও প্রযুক্তি বিশ্লেষণ কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ ভাসিলি কাশিনের প্রবন্ধে. তিনি মনে করেন যে, আমদানী ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা রাশিয়ার প্রযুক্তিকে আরও উন্নত করবে. এই কথাই তিনি উল্লেখ করেছেন.

আনাতোলি ইসাইকিন যে অর্থমূল্যের কথা বলেছেন – তা বিগত কয়েক বছরের গড় পরিমান. কিন্তু তা হিসাবের মধ্যে রাখে নি একমাত্র বড় চুক্তি, যা রাশিয়া এই ক্ষেত্রে করেছে: দুটি ফরাসী বহুমুখী সামুদ্রিক পদাতিক বাহিনীর উপযুক্ত মিস্ত্রাল নামের যুদ্ধ জাহাজ, যার দাম ১ হাজার দুশো কোটি ইউরো. এই চুক্তি খুবই বিরল ও তা ভবিষ্যতে আবার হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই, - এই রকমই মনে করেছেন সামরিক বিশেষজ্ঞ ভাসিলি কাশিন.

মিস্ত্রাল দুটিকে হিসাবের মধ্যে না আনলে রাশিয়ার অস্ত্র আমদানী তার রপ্তানীর প্রায় শতকরা এক শতাংশের সমান. ২০১২ সালে রাশিয়ার সব মিলিয়ে রপ্তানী করা অস্ত্রের অর্থমূল্য ছিল ১ হাজার তিনশ কোটি ডলার.

রাশিয়া কি অস্ত্র কেনে? এখানে মূলতঃ কথা হচ্ছে বিদেশ থেকে প্রযুক্তি ও জোড়া দেওয়ার উপযুক্ত জিনিষ কেনার (যেমন বৈদ্যুতিন যন্ত্রাংশ) যা দিয়ে রাশিয়ার জিনিষ তৈরী হয়. এখানে উদাহরণের জন্য বলা যেতে পারে যেমন রাশিয়াতে তৈরী টেলিভিশন সেটের জন্য কেনা হয় ফরাসী ম্যাট্রিক্স. আমদানী করা বৈদ্যুতিন যন্ত্রাংশ গুলি খুবই প্রসারিত ভাবে রাশিয়ার অস্ত্রে ব্যবহার করা হয়, যা বিদেশে রপ্তানী করা হয়ে থাকে.

তাছাড়া, রাশিয়া বেশ কিছু ধরনের প্রযুক্তি আমদানী করে, যা দেশে বিগত সময়ে উত্পাদন শুরু করা হয় নি ও যা করতে হলে বর্তমানে অনেক সময় দিতে হবে.

আমদানীর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বিখ্যাত রাশিয়ার চুক্তি – এটা ইজরায়েলের থেকে সার্চার ও বার্ড আই এর মতো পাইলট বিহীণ বিমান কেনা. রাশিয়া এই ধরনের প্রযুক্তি আমদানী করতে বাধ্য হয়েছে, কারণ সোভিয়েত দেশের সময়ে এই ধরনের প্রযুক্তি উত্পাদনে যথেষ্ট মনোযোগ দেওয়া হয় নি ও পরবর্তী কুড়ি বছরে রাশিয়ার সামরিক শিল্পে নিয়োজিত লোকদের যথেষ্ট অর্থ বিনিয়োগ করতে দেওয়া হয় নি এই ক্ষেত্রে, তাই. ইজরায়েলের পাইলট বিহীণ বিমান আমদানী রাশিয়ার এই ধরনের প্রযুক্তি উত্পাদকদের উপরে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে, তারাও নিজেদের গবেষণা ও আবিষ্কারের কাজ সক্রিয় করেছেন. ফলে, রাশিয়াতে পাইলট বিহীণ বিমান উত্পাদনের বিষয়ে কিছুটা জীবন সঞ্চার হয়েছে.

সামান্য পরিমানে কেনা হয়ে থাকে চেখ হাল্কা পরিবহন বিমান এল - ৪১০, যা সামরিক নেতৃত্বের চলাচলে ও পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে. এই ধরনের আয়তনের পরিবহনের জন্য বিমান রাশিয়া তৈরী করে না, তাই এমনকি সোভিয়েত দেশের সময়েও এই গুলি আমদানী করত.

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পরীক্ষা ও গবেষণা করার জন্য ইতালি থেকে চাকা লাগানো সাঁজোয়া গাড়ী সেন্টাউরো ও ফ্রেসিয়া আনা হয়েছে. একই ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে জার্মান সাঁজোয়া গাড়ী বক্সার আনার. রাশিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য চাকা ওয়ালা সাঁজোয়া গাড়ী তৈরী বিগত দশকে একটা পিছিয়ে থাকা এলাকা ছিল. আধুনিক রাশিয়ার সাঁজোয়া গাড়ী সস্তা, ভরসা যোগ্য, খুব ভাল করে তৈরী করা গঠন ও শক্তিশালী অস্ত্র সজ্জায় সজ্জিত. কিন্তু তাদের মধ্যে থাকা পুরনো হয়ে যাওয়া সোভিয়েত ধরনে ইঞ্জিন গাড়ীর পিছনে থাকা ও খুব অশক্ত বর্ম ব্যবস্থা এই গুলিকে সামরিক বাহিনীতে জনপ্রিয় করতে পারে নি. রাশিয়া আশা করেছে বিদেশী চাকা লাগানো সাঁজোয়া গাড়ী গুলিকে নিজেদের নতুন প্রজন্মের আধুনিক সাঁজোয়া গাড়ী তৈরীর সময়ে কাজের জন্য ব্যবহার করে দেখা হবে ও একই সঙ্গে আলোচনা চলছে এই ক্ষেত্রে লাইসেন্স কেনার.

বেশ সক্রিয় ভাবেই বিদেশী গুলি ছোঁড়ার বিশেষ ধরনের অস্ত্র কেনা হচ্ছে, যেমন স্নাইপারের রাইফেল. আকাশ থেকে নেমে আসা প্যারাশ্যুট বাহিনীর যোদ্ধাদের জন্য অস্ট্রিয়া থেকে কেনা হয়েছে স্টায়ার মানলিচের স্নাইপার রাইফেল. এই কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল সামরিক বাহিনীর কাছ থেকে তাদের স্নাইপার রাইফেল নিয়ে অসন্তোষ থাকার কারণে, যা রাশিয়ার উত্পাদকরা সরবরাহ করেছিল.

রাশিয়াতে অস্ত্র আমদানী আরও বেশী করেই নানা রকমের হয়ে যাওয়া স্বত্ত্বেও, রাশিয়ার উত্পাদকরা একাধিকবার ঘোষণা করেছেন যে, দেশের সামরিক বাহিনীর প্রয়োজন দেশেই তৈরী হওয়া অস্ত্র প্রযুক্তি দিয়ে প্রধানত মিটিয়ে ফেলা হয়ে থাকে. আমদানী ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা মনে করা হয়েছে ভাল ব্যাপার বলেই, কারণ তার ফলে বিদেশের প্রথম সারির প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ ঘটে ও রাশিয়ার প্রযুক্তির মানও উন্নত হয়.