২০১২ সাল শেষের আগেই রুশ- ভারত যৌথ উদ্যোগে তৈরী “ব্রামোস” রকেট জলের নীচ থেকে ছোঁড়ার পরীক্ষা হয়ে যেতে পারে. এই বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন “ব্রামোস এয়ার স্পেস” সংস্থার প্রধান শিবথানু পিল্লাই. এই ধরনের রকেট জলের তলা থেকে ছোঁড়া সম্ভব হলে, ভারতের নৌবাহিনীর আগাত হানার ক্ষমতা বহু গুণে বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করেছেন স্ট্র্যাটেজি ও প্রযুক্তি বিশ্লেষণ সংস্থার বিশেষজ্ঞ ভাসিলি কাশিন.

ভারত রাশিয়ার পরে বিশ্বের দ্বিতীয় দেশ হতে চলেছে, যাদের ডুবোজাহাজে ভারী শব্দাতীত ডানাওয়ালা রকেট সংযোজন হতে চলেছে, যা বৃহত্ জাহাজ দলকে ধ্বংস করতে সক্ষম, যেমন বিমানবাহী আঘাত হানার দলকে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চিনের মতো সেই সমস্ত দেশের ডুবোজাহাজ ব্যবহার করে থাকে এর চেয়ে বেশী হালকা জাহাজ প্রতিরোধের উপযুক্ত ডানাওয়ালা রকেট, যাদের বিস্ফোরক ওয়ারহেড অনেক হাল্কা ও গতিও শব্দের চেয়ে কম.

সামরিক বিশেষজ্ঞ ভাসিলি কাশিন রেডিও রাশিয়াকে যেমন ব্যাখ্যা করে বলেছেন যে, “ব্রামোস” রকেট রাশিয়ার জাহাজ বিরোধী রকেট ইয়াখন্ত অনুকরণে বানানো হয়েছে, আর তার প্রথম উড়ান হয়েছিল ২০০১ সালে. বর্তমানে ভারতের সামরিক বাহিনীর কাছে এই রকেটের জলে, স্থলে ও অন্তরীক্ষ থেকে উড়ান ব্যবস্থা সমেত অস্ত্র ব্যবস্থা রয়েছে.

রাশিয়া প্রয়োজনে নতুন ডুবোজাহাজ “আমুর – ১৬৫০” প্রকল্পে ব্রামোস উড়ানের ব্যবস্থা লাগিয়ে দিতে পারে, যার ফলে ভারতের ভবিষ্যত ডুবোজাহাজ প্রকল্প ৭৫১ নিয়ে প্রতিযোগিতায় সফল হওয়া সম্ভব হতে পারে. এই বিষয়ে ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় নির্মাণ সংস্থা রুবিনের বিদেশে আর্থিক লেনদেন বিষয়ে ডেপুটি ডিরেক্টর আন্দ্রেই বারানভ. আসা করা হয়েছে যে, এই টেন্ডার আগামী বছরে ভারতে নতুন ডুবোজাহাজের জন্য আহ্বান করা হবে. আপাততঃ ভারতের পক্ষ থেকে নতুন ডুবোজাহাজে শব্দাতীত “ব্রামোস” রকেট সংযোজনের বিষয়ে সরকারি ভাবে কিছু ঘোষণা করা হয় নি. এই গুলির বিকল্প হিসাবে ডুবোজাহাজ থেকে টর্পেডো হিসাবে ছাড়ার মতো রুশ ক্লাব নামের রকেটও রয়েছে.

“আমুর” নামের ডুবোজাহাজ (৬৭৭ নম্বর প্রকল্প) – রুশ ডুবোজাহাজ নির্মাণের এক নতুন অধ্যায় এবং তা তুলনা মূলক ভাবে এতদিন ধরেই এই এলাকার বিভিন্ন দেশে সরবরাহ করা ৮৭৭ ও ৬৩৬ নম্বর প্রকল্প অনুযায়ী কিলো নামের প্রকল্পের ডুবোজাহাজের চেয়ে উন্নত. এই প্রকল্পের প্রথম ডুবোজাহাজ জলে নেমেছিল ২০০৪ সালে. বাল্টিক নৌবাহিনীতে যুক্ত প্রথম জাহাজটি ছাড়াও, রাশিয়ার সামরিক বাহিনী এই ধরনের আরও দুটি জাহাজ আসন্ন বছর গুলিতে কিনবে. ভারতকে সেই ধরনের ডুবোজাহাজ দেওয়ার প্রস্তাব করা হবে, যা আমুর প্রকল্পেই এমন করে তৈরী করা যে, জাহাজের ইঞ্জিন বায়ুমণ্ডলের থেকে কোন রকমের হাওয়া না পেলেও চলতে সক্ষম.

ভাসিলি কাশিন যেমন মনে করেন যে, এই ধরনের যন্ত্র “আমুর” প্রকল্পের ডুবোজাহাজকে পারমানবিক ডুবোজাহাজের মতই করে দিতে পারে, যেখানে ডানাওয়ালা রকেট অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করা হয়. তাছাড়া ভারতীয় নৌবাহিনী বর্তমানে এমনিতেই পারমানবিক ডুবোজাহাজ পেয়েছে ও সেই গুলির সংখ্যা ভবিষ্যতে বাড়তেও পারে. ফলে দিল্লীর সামরিক নৌবাহিনী সংক্রান্ত উন্নতি ভারত মহাসাগরীয় এলাকায় হবে বিতর্কের উর্দ্ধে. ভারতের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল এই পরিস্থিতিতে নিজেদের নতুন জাহাজ গুলির জন্য লক্ষ্য নির্ণয় ও তা ভেদ করাতে সক্ষম ডানাওয়ালা রকেট দিয়ে নৌবহরের শক্তি বৃদ্ধি করা. এটা আবার সমগ্র নৌবাহিনীরও উন্নতি দাবী করে. রাশিয়া বর্তমানে ভারতের জন্য বিক্রমাদিত্য বিমানবাহী জাহাজ বানাচ্ছে ও তার জন্যই নতুন যুদ্ধ বিমান মিগ – ২৯কে তৈরী করছে. এই সব ক্ষেত্রে খুবই বেশী করে যৌগ পদার্থ ব্যবহার করা হয়েছে আর নতুন রেডিও নির্ণয় ব্যবস্থা সমেত প্রচুর অনুসন্ধান ও যুদ্ধে সক্ষম যন্ত্রপাতি যোগ করা হচ্ছে.