"রেডিও রাশিয়ার" আজ শুভ জন্মদিন পালন করা হচ্ছে. ৮৩ বছর আগে এই দিনে মস্কো থেকে বিদেশে রেডিও তরঙ্গে প্রচার শুরু করা হয়েছিল. রাশিয়ার জীবনের সাথে এই সব গুলি বছর ধরে আমরা পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি বিশ্ব বাসী কে, তুলে ধরছি দেশে যা ঘটছে তারই বহু বর্ণ সচিত্র পরিচয়. আমরা চেষ্টা করছি তা যেন সমস্ত মহাদেশের সব লোকের কাছেই বোধগম্য হয়. বর্তমানে "রেডিও রাশিয়া" আগের মতই বিশ্বের অন্যতম পাঁচটি জনপ্রিয় প্রথম সারির রেডিও স্টেশনের একটি. এই রেডিও যার ইতিহাস আছে, ঐতিহ্য আছে, কাজ করার এক নিজস্ব শৈলী রয়েছে, আজ এটা এক আধুনিক, তীক্ষ্ণ বুদ্ধি সম্পন্ন এমনকি খানিকটা জ্বালিয়ে দেওয়া রেডিও হয়েই রয়েছে.

২৯শে অক্টোবর বিশ্ব প্রথম শুনেছিল "রেডিও রাশিয়ার" শুরুর সঙ্গীত:

মস্কো থেকে বলছি!

এই ভাবেই শুরু হয়েছিল সম্পূর্ণ নতুন এক ধারণা বিদেশে সম্প্রচার – রেডিও যার কোন সীমানা নেই. তখন এই রেডিওর কাজ ছিল বিশ্বকে জানান দেওয়া কি ঘটছে সোভিয়েত দেশে. প্রথম "মস্কো রেডিও" থেকে শুরু হয়েছিল জার্মান ভাষায় সম্প্রচার, তার পরে ইংরাজী ফরাসী ও ইউরোপের অন্যান্য ভাষাতেও. এর তিন বছর পরেই শুধু বিশ্বের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক রেডিও "বিবিসি" শুরু হয়েছিল, আর "ভয়েজ অব আমেরিকা" আরও সাত বছর পরে.

আজকের "রেডিও রাশিয়া" প্রায় হাজার খানেক কর্মীর রেডিও, যেখানে রয়েছেন সাংবাদিক, সমীক্ষক, পর্যবেক্ষক, ঘোষক এবং বিশ্লেষকরা, রয়েছেন সম্পাদক ও সরাসরি প্রচারের রেডিও প্রবন্ধকাররা. বিগত বছর গুলিতে এই কর্মীদল সমস্ত কিছুই করে চলেছেন, যাতে তাঁদের শ্রোতা ও পাঠকের সংখ্যা বৃদ্ধি হয় ও ভৌগলিক ভাবে আরও সুদূর প্রসারী হয়. আজ আমরা বিশ্বের ৪৪টি ভাষায়, প্রতিদিনে প্রায় ১৫০ ঘন্টারও বেশী মোট সময় ধরে প্রচার করছি. বর্তমানের রুশ দেশের জীবন, তার ইতিহাস, সংস্কৃতি, আভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্র নীতি সম্বন্ধে বলা হচ্ছে প্রায় ৫০০টি নানা ধরনের অনুষ্ঠানে, যা বিশ্বের ১৭০টি দেশে প্রায় ১০ কোটি লোক শুনে থাকেন. আজকের রেডিও কোম্পানী একটি আধুনিক বহু মাধ্যমের সংবাদ সংস্থা, যা বিশ্বের সমস্ত শ্রোতাদের সঙ্গে অবিরত যোগাযোগ করেই চলেছে. এখানে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হল – গুণমান ও শ্রোতাদের সঙ্গে যোগাযোগের নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার, এই কথা উল্লেখ করে রেডিও রাশিয়ার নিয়ামক সভার সভাপতি আন্দ্রেই বিস্ত্রিত্সস্কি বলেছেন:

“আমরা পরিকল্পনা করেছি প্রচারের গুণমান আরও বাড়ানোর. আশা করব যে, ফ্রান্স ও জার্মানীতে ভাল ফলই পাওয়া যাবে, যখন আমরা স্থানীয় ডিজিট্যাল তরঙ্গে আমাদের প্রচার শুরু করতে পারব. তাছাড়া আমরা পরিকল্পনা করেছি পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের আভ্যন্তরীণ তরঙ্গে উর্দু ভাষায় প্রচার করার. সম্ভাবনা রয়েছে সমগ্র উত্তর আফ্রিকাতে – কায়রো থেকে মরোক্কো পর্যন্ত এলাকায় প্রচারের. সম্ভবতঃ রেডিও রাশিয়া প্যারিস ও বার্লিনে নিজেদের সাংবাদিক প্রতিনিধি দপ্তর খুলবে. তাছাড়া খুব স্বাভাবিক ভাবেই আমরা আমাদের মাল্টী মিডিয়া অংশের পরিমান বাড়াবো, আরও বেশী করে সামাজিক সাইট গুলিতে কাজ করব”.

 

"রেডিও রাশিয়া" কে শুধু তার কাজের অধিকারেই বিশ্বের রেডিও তরঙ্গের এক প্রথম সারির দূত মনে করা হয় না, বরং মনে করা হয় দেশের ডিজিট্যাল সম্প্রচারের অগ্রদূত. এ ছাড়া "রেডিও রাশিয়ার" অনুষ্ঠান এখন মোবাইল ফোনেও শোনা যাচ্ছে.

স্বাধীন রাষ্ট্র সমূহে আমাদের প্রায় ৯০ টি এফ এম প্রচার স্টেশন রয়েছে. এই ভাবেই আমরা এই অঞ্চলের প্রায় সমস্ত জায়গাতেই রয়েছি. বালকান অঞ্চলে এফ এম তরঙ্গে প্রচার রয়েছে, ইরাকের কুর্দিস্তানের তরঙ্গে, আফগানিস্তানে, তুরস্কে ও আরও অন্যান্য দেশে আজ আমরা এই ধরনের প্রচার করছি. এফ এম – এটা সহজ লভ্য এবং গুণগত ভাবে উন্নত রেডিও. আমাদের এই ধরনের রেডিও তরঙ্গ প্রসারের যন্ত্রপাতি রয়েছে আবখাজিয়া এবং দক্ষিণ অসেতিয়া দেশে. প্রসঙ্গতঃ বর্তমানে, "রেডিও রাশিয়ার" এফ এম ব্যান্ডে প্রচারের জন্য জার্মানীর সঙ্গে কথা চলছে. বিদেশ সম্প্রচার আমাদের বাড়াতে হবে, লাতভিয়া, লিথুয়ানিয়া এবং এস্তোনিয়া দেশের ভাষাতেও.

"রেডিও রাশিয়া" কি দরকার? আমি বিশ্বাস করি যে, খুবই দরকার, কারণ সমস্ত দেশের লোকেরাই জানতে চায় এক মহান দেশের সম্বন্ধে সত্য কথা, যা আজকের বিশ্বে অনেক ধরনের আবহাওয়াকেই নিয়ন্ত্রণ করে চলেছে.

রেডিও রাশিয়ার বর্তমানে পাঁচটি বিদেশ দপ্তর রয়েছে: ওয়াশিংটনে, লন্ডনে, রিও- ডি- জেনেইরো শহরে, ইস্তাম্বুলে ও কিয়েভে. রেডিও স্টেশন বিশ্বের ৪৪টি দেশের ভাষায় পাঁচটি মহাদেশে শোনা যায়. এক কথায় এই রেডিও কোম্পানী সব সময়েই ছিল আভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ে নানা ধরনের দৃষ্টিকোণ সম্বন্ধে প্রচারের মঞ্চ. আর "রেডিও রাশিয়া" শ্রোতাদের জন্য খোলাই রয়েছে, সে তারা যেখানেই থাকুন না কেন. বেশীর ভাগ সময়েই তাঁরা আমাদের বন্ধু হয়ে যান সারা জীবনের জন্যে.