ভারতের বিখ্যাত রাজনীতিবিদ সলমান খুরশিদ নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়াতে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে সম্পর্কে ভাল হওয়ার আশা করা হয়েছে. সলমান খুরশিদ – গত ১৬ বছরের মধ্যে ভারতের প্রথম পররাষ্ট্র মন্ত্রী পদে শপথ নেওয়া মুসলিম ধর্মাবলম্বী ব্যক্তি. তিনি নিজের পূর্ববর্তী পদাধিকারীর তুলনায় অনেকটাই নবীন এবং আগের কোনও সমস্যায় জর্জরিত নন, তিনি খুবই উদ্যোগী লোক. আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ এই প্রসঙ্গে বিশদ করে লিখেছেন.

মন্ত্রীসভায় রদবদল ঘটানোর প্রধান উদ্দেশ্য হল – সভাকে আরও নবীন করা ও তার কার্য ক্ষমতা বাড়ানো, যা করেছে বর্তমানে ক্ষমতাসীন ইউপিএ সরকার, ২০১৪ সালে ঠিক হয়ে থাকা সারা দেশে লোকসভা নির্বাচনের আগে. সলমান খুরশিদ বর্তমানে ৫৯ বছর বয়সী ও তাঁর পূর্বসূরি পররাষ্ট্র মন্ত্রী এস. এম কৃষ্ণের বয়স হয়েছে ৮০ বছর. ভারতের প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিংহের কথামতো, নতুন মন্ত্রীসভা – এটি নবীন ও অভিজ্ঞের এক সংমিশ্রণে তৈরী.

দপ্তরের কাজের গতি বাড়ানোর জন্যই নতুন মন্ত্রীর প্রয়োজন পড়েছে. কিন্তু সেই আশাবাদ, যা সলমান খুরশিদ পররাষ্ট্র মন্ত্রী হওয়াতে করা হচ্ছে, তা খুবই সীমাবদ্ধ বিষয়, এই কথা মনে করে মস্কোর কার্নেগী সেন্টারের বিশেষজ্ঞ পিওতর তোপীচকানভ বলেছেন:

“এটা সীমাবদ্ধ, কারণ ভারতে মুসলমান হওয়া কোন রকমের সিদ্ধান্ত মূলক ভূমিকা পালন করে না ও ভারত আর পাকিস্তানের মধ্যে উদ্ভূত পরিস্থিতিকে সম্পূর্ণ ভাবে ব্যবহার করার উপযুক্ত সম্ভাবনাও দেয় না. সলমান খুরশিদ শুধু কোন শক্তিশালী প্রশাসনের মন্ত্রী হচ্ছেন না, বরং তিনি হয়েছেন এক জোট বদ্ধ মন্ত্রীসভায়, যা গত কয়েক বছর ধরে কোনও শক্তিশালী সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে অপারগ হয়ে রয়েছে. তারা জটিল সমস্যার সমাধান করতে অক্ষম. এমনকি যদি পররাষ্ট্র মন্ত্রী শক্তিশালী ব্যক্তিত্বও হন, তবুও সমস্ত মন্ত্রীসভার পক্ষ থেকে সমর্থন না পেলে, তাঁর সমস্ত সিদ্ধান্তই কাগজে লেখার স্তরে আটকে থাকবে. তাছাড়া এখানে মনে রাখা দরকার যে, তাঁর পাকিস্তানের পক্ষ থেকে সহকর্মী কে. বর্তমানে পাকিস্তানে পররাষ্ট্র মন্ত্রী পদে রয়েছেন হেনা রব্বানি খার – তিনি নিজেও অল্পবয়সী রাজনীতিবিদ. তিনি পাকিস্তানের পররাষ্ট্র নীতি স্থির করেন না, বরং করে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী”.

এখানে আরও একটা সমস্যা রয়েছে: পাকিস্তানে প্রায়ই মনে করা হয় যে, ভারতের মুসলমানরা পাকিস্তানের পক্ষে ও সমস্ত ক্ষেত্রেই তাঁদের সমর্থন করে থাকেন. কিন্তু এটা মোটেও সেই রকমের নয়. ভারতের মুসলিমরা প্রাথমিক ভাবে নিজেদের ভারতীয় বলেই মনে করেন ও তাঁদের প্রাথমিক ভাবে আগ্রহের বিষয় হল নিজেদের দেশের স্বার্থ, কোনও মুসলিম ঐক্য নয়. যদি সলমান খুরশিদ এই ধরনের বিশ্বাসের উপযুক্ত হয়ে থাকেন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলে বাছাই হয়ে থাকেন, তার অর্থ হল যে, তিনি নিজের কাজ দিয়েই ভারতের দেশপ্রেমী বলে নিজেকে প্রচার করতে সক্ষম হয়েছেন. সলমান খুরশিদের পিতা - খুরশিদ আলম এক সময়ে ভারতের প্রথম মুসলিম পররাষ্ট্র মন্ত্রী ছিলেন, আর তাঁর ঠাকুরদাদা জাকির হুসেন ছিলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি. সুতরাং মনে তো হয় না যে, সলমান খুরশিদ ইসলামাবাদের জন্য কোনও সহজ আলোচনা সঙ্গী হতে পারবেন.