চলতি সপ্তাহে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয় 'মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মানবাধিকার সুরক্ষা পরিস্থিতি’ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে. আন্তর্জাতিক ও জাতীয় শীর্ষ সংস্থাগুলো থেকে পাওয়া তথ্যের আলোকে তৈরী করা ওই প্রতিবেদনে রুশী কুটনীতিকরা যে সারমর্মে উপনীত হয়েছেন তাতে বলা হয় যে, মানবাধিকার রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান খুব একটা ভাল নেই. অতএব গণতন্ত্র চর্চা ও মানবাধিকার সুরক্ষার কথা বলে যুক্তরাষ্ট্র যে ভূমিকা রাখছে বলে দাবী করছে তার সাথে কার্যত কোন মিল নেই.

আন্তর্জাতিক রেটিং দিয়ে থাকে এমন সংস্থাগুলো ২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাক স্বাধীনতা উল্লেখযোগ্য হ্রাস করেছে. এর অন্যতম প্রধান একটি কারণ হচ্ছে ‘ওকুপাই ওয়াল স্ট্রিট’ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী ও সাংবাদিকদের ওপর পুলিশের কঠোর অবস্থান. এটি শুধুমাত্র তুষার স্তূপের উপরের চিত্র. যখন মার্কিন গণতান্ত্রিক পদ্ধতি নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ করা হয় তখন অনেক গুরুতর সমস্যা বেরিয়ে আসে. এমনটি বলেছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মানবাধিকার ও গণতন্ত্র বিষয়ক দায়িত্বরত কর্মকর্তা কনস্তানতিন দলগোভ. রেডিও রাশিয়াকে তিনি বলেন, ‘মনে হয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গত ১০০ বছরেও গণতন্ত্রের উন্নয়ন ঘটে নি. একই সাথে এই ক্ষেত্রে রয়েছে অনেক গুরুতর ও নানা সমস্যা. যেমন বলা যেতে পারে জাতিগত বৈষম্যতা এবং যুক্তরাষ্ট্রে জাতি ও বর্ন বৈষম্য তা কেবল বেড়েই চলেছে. তারপর রয়েছে বিদেশীদের আতঙ্ক. আমেরিকা এমন একটি দেশ হিসেবে গঠিত হয়েছে যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষরা জড়ো হয়েছে. এমনকি আজকের দিনে সেখানে কয়েকটি সংখ্যালঘু জাতির সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক যথেষ্ট জটিল বলা যায়’.

আমেরিকার নির্বাচন পদ্ধতির দিকে তাদের নিজেদের মনোযোগ দিয়া উচিত. যা অনেকটাই স্বচ্ছ নয়. আগামী ৬ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে. কিন্তু, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা প্রার্থীকে সরাসরি ভোট দিতে পারেন না. শুধু তাই নয়, কয়েক হাজার ভোটার তালিকায় নিজেদের নাম পর্যন্ত খুঁজে পান না. রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে এমন কথাই বলেছেন আসন্ন নির্বাচনের উপ-রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী চেরী হোনকালা. তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে পর্যবেক্ষকদের ভোটকেন্দ্রে যেতে না দেওয়ার কারণ হচ্ছে হয়তবা প্রবঞ্চনা. আমাদের দেশের অনেক মানুষই ভোট দিতে চায় না বা এমনকি দিতে পারে না. আর এখন কয়েকটি রাজ্যে ফিরিয়ে আনা হয়েছে ‘ভোট দেওয়ার অধিকার’ পদ্ধতি. তাছাড়া একই সাথে শ্রমিক শ্রেনীদের ভোট দেওয়ার ওপর কৌশলগত বাধা প্রদান করা হচ্ছে’.

 রাশিয়া সমুদ্রের ওপরের এই দেশের গণতন্ত্র চর্চা নিয়ে যে সমস্যা রয়েছে তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এখনও তুলে ধরে নি . তবে এই প্রশ্ন নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের সময় এসেছে. এমনটি মনে করছেন দুমার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির প্রধান আলেক্সেই পুশকোভ. তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক বেশী সময় ধরেই একটি বিষয়ের সাথে একমত প্রকাশ করে আসছি এবং তা হল, ঐতিহ্যগত দিক দিয়ে গণতন্ত্র চর্চা করছে এমন কিছু দেশ রয়েছে যাদের কাছ থেকে আমরা শিখতে পারি. সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর রাশিয়া ২০ বছর অতিক্রম করেছে এবং দীর্ঘ এ সময় আমরা দেখতে পেয়েছি যে, যারা গণতন্ত্রের কথা বেশী বলেছে তারাই এর যথার্থ ব্যবহার করা থেকে দূরে রয়েছে. আমরা দেখতে পেয়েছি যে, যুক্তরাষ্ট্র নিজ দেশের ভিতরে ও বাইরে মানবাধিকার লংঘন করে চলছে. এ প্রসঙ্গে বলা যায় যে, মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব ইউরোপে এফবিআইর গোপন জেলখানা রয়েছে. এছাড়া রয়েছে আফগানিস্তানে বেসামরিক লোকজন হত্যা যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোটভুক্ত বিভিন্ন দেশ সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে’.

মস্কো হয়ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার লংঘন করা নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরবে. রুশী কূটনীতিকরা আস্থার সাথে বলেছেন, কিভাবে মানবাধিকার রক্ষা করা যায় তা যুক্তরাষ্ট্রকে শুধু অন্যদের শিক্ষা না দিয়ে বরং নিজেদের আগে চর্চা করা উচিত.