তেল উত্তোলনের ক্ষেত্রে বিশ্বে শীর্ষস্থান অধিকার করা থেকে মাত্র কয়েক ধাপ পিছনে রয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় কোম্পানী রসনেফত. এই কোম্পানী রাশিয়া-যুক্তরাজ্যের টিএনকে-বিপি কোম্পানীর পুরোটাই কিনি নিচ্ছে. ইতিমধ্যেই ব্রিটেনের বিপি ও রাশিয়ার এএআর কনসার্নের কাছ থেকে তাদের শেয়ার কিনে নেওয়ার বিষয়ে শর্ত সম্বন্ধে ঐক্যমতে এসেছে.

যুক্তরাজ্যের ওই কোম্পানীর কর্তৃপক্ষ তাঁদের টিএনকে-বিপি সংস্থার শতকরা পঞ্চাশ ভাগ শেয়ার দিতে তৈরী রয়েছে ১ হাজার সাতশো দশ কোটি ডলার ও রাষ্ট্রীয় কোম্পানীর শতকরা ১২ দশমিক ৮৪ শতাংশ শেয়ারের বিনিময়ে. উপরন্তু বিপি রসনেফতের মূল কোম্পনী রসনেফতগ্যাজের ৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ শেয়ার কেনার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে.

ইতিমধ্যে যে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে তাতে বলা হয় যে, টিএনকে-বিপি কোম্পানীর রুশ শেয়ার হোল্ডারের অংশ – এএআর (“আলফা গ্রুপ”, অ্যাক্সেস ইন্ডাস্ট্রিজ ও “রেনোভা” গ্রুপ অফ কোম্পানীজ) কনসার্ন কিনে নেওয়া হবে ২ হাজার আটশো কোটি ডলারের বিনিময়ে.

শেয়ার কেনা-বেচার কাজ সফলতার সাথে শেষ হলে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় কোম্পানী তেল উত্তোলনে থাকা বিশ্বের শীর্ষ কোম্পানীগুলোর মধ্যে অন্যতম স্থান দখল করবে. রসনেফত কোম্পানীর প্রধান ইগর সেচিনের বক্তব্য অনুযায়ী, টিনকে-বিপির অধিগ্রহণের ফলে কোম্পানীর অর্থনৈতিক প্রবৃত্তি শতকরা ৬০ থেকে ৭০ ভাগ বৃদ্ধি পাবে.

টিএনকে-বিপি কোম্পানীর রসনেফত কোম্পানীর নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়া বিপি কোম্পানীকে এএআর কনসার্নের সঙ্গে কাজ করতে বাধ্য হওয়া থেকে রেহাই দেবে. যুক্তরাজ্যের ওই কোম্পানীর লোকদের এই কনসার্নের সঙ্গে জটিল সম্পর্ক ছিল. কিন্তু দেশের একটি বড় জাতীয় কোম্পানীর সঙ্গে জোট হওয়াতে তাদের রাশিয়ার বাজারে অবস্থানও শক্ত হবে. এটা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিগত বছরগুলোতে যুক্তরাজ্যের কনসার্ন নতুন প্রকল্পের বিষয়ে খুবই অভাব অনুভব করেছে, আর রসনেফত কোম্পানীর সঙ্গে চুক্তি থাকলে তা বিনিয়োগের জন্য নতুন দিগন্ত খুলে দেবে.

 

বিস্তারিত জানিয়েছেন জ্বালানি স্ট্রেটেজিক ইনস্টিটিউটের ভাইস জেনারেল ডিরেক্টর আলেক্সেই গ্রোমোভ. তিনি বলেন, “যুক্তরাজ্যের শেয়ার হোল্ডারদের জন্য একে বলা যেতে পারে কৌশলগত একটি ব্যাবসায়িক সহযোগী ভিত্তিক প্রাকৃতিক সম্পদের প্রকল্প, বিশেষত প্রথম দিকেই রয়েছে আর্কটিক. কারণ আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের শুধুমাত্র আর্কটিকে নতুন তেলক্ষেত্রগুলো নিয়ে কাজ করা হবে. এই দৃষ্টিকোন থেকে জ্বালানীক্ষেত্রে একে কৌশলগত একটি সহযোগিতার ধাপ বলা যেতে পারে”.

ব্রিটেনের বিপি ও রাশিয়ার এএআর কনসার্নের কাছ থেকে তাদের শতকরা ৫০ ভাগ শেয়ার কিনে রাশিয়া অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে. রাশিয়ার জাতীয় জ্বালানী নিরাপত্তা তহবিলের পরিচালক কন্সতানতিন সিমোনোভ বলেছেন, রসনেফত কোম্পানীতে বিনিয়োগ করায় বিপি রাশিয়ার বাজারে আরও ভালভাবে টিকে থাকছে. অন্যান্য বিনিয়োগকারীদের জন্য একে ইতিবাচক একটি সংকেত বলা যায়. রেডিও রাশিয়াকে তিনি আরও বলেন, “ইতিহাসের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই যে, পশ্চিমা কোম্পানীগুলো রাশিয়াকে ভয় পায়, এখানে পশ্চিমা বিনিয়োগকারীদের পছন্দ করা হয় না. এ বছর রসনেফত ৩টি শীর্ষ কোম্পানী অক্সন মোবিল, স্ট্রাটঅয়েল ও ইএনআই কোম্পানীর সাথে চুক্তি করেছে এবং বিপি রাশিয়ার বাজার ত্যাগ করে নি বরং রসনেফতের একটা বড় শেয়ারের মালিক হল”.

বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন যে, আগামীতে বিদেশী কোম্পানীর সাথে যৌথ প্রকল্পের এ ধরনের কাজ আরও বৃদ্ধি পাবে. আসলে, বিপির সাথে এই শেয়ার হোল্ডারের চুক্তি হওয়ার পরই অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী আন্দ্রেই বোলুসোভ বলেছেন যে, হয়তবা আগামীতেও রাষ্ট্রীয় এ কোম্পনীর পুনঃগঠনের কাজ অব্যাহত থাকবে.