প্রিয় বন্ধুরা, আজ সকালে রাশিয়ার সমস্ত মসজিদে – আর সেই গুলির সংখ্যা সাত হাজারের উপরে - ঈদুল আজহা উপলক্ষে নামাজ হয়েছে. মস্কোর জুম্মা মসজিদে ও তার সন্নিহিত এলাকায় বেশ কয়েক হাজার ধর্মপ্রাণ মুসলমান জমায়েত হয়েছিলেন শুক্রবারের উত্সবের নামাজে, যাঁদের উদ্দেশ্যে বাণী দিয়েছেন রাশিয়ার মুফতি সবার প্রধান শেখ রাভিল গাইনুদ্দিন.

“রেডিও রাশিয়ার” সাংবাদিকের সাথে সাক্ষাত্কারের সময়ে তিনি অংশতঃ বলেছেন:

“প্রথমতঃ, আমি সমস্ত রেডিও শ্রোতা ও সাইটের পাঠকদের স্বাগত জানাই – আমার সমস্ত ভাই বোনদের ও অভিনন্দন জানাই আমাদের পবিত্র ঈদুল আজহা উত্সবের উপলক্ষে. আমি আল্লার কাছে দোয়া প্রার্থনা করি যে, যাতে তিনি আমাদের সকলের করা কোরবানি গ্রহণ করেন, যা আমরা সর্বময় ঈশ্বরের কাছে উত্সর্গ করেছি ও যাতে আমাদের সমস্ত ভাল কাজও তিনি স্বীকার করেন. এই উত্সব আমাদের সকলকে দয়ালু হতে, একে অপরের প্রতি ও অন্য ধর্মের মানুষদের সম্মানের সঙ্গে আচরণ করতে ও তাঁদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ককে মূল্য দিতে শিক্ষা দেয়. আমাদের হজরত মহম্মদ বলেছেন:“সমস্ত ধর্ম বিশ্বাসী মানুষই সত্য অর্থে একে অপরের ভ্রাতা”. হজরত মহম্মদের এই বাণী আমাদের উচিত্ সর্ব ক্ষেত্রেই অনুসরণ করা. প্রধান উত্সবের দিন গুলিতে আমরা আমাদের ফেলে আসা পথের দিকে ফিরে তাকাই. আমাদের গত বছরে কিছু নির্দিষ্ট অসুবিধা ছিল ও আরও ছিল নির্দিষ্ট সাফল্য. আমি খুবই সন্তোষের সঙ্গে বলতে পারি যে, এই বছরের মে মাসে “আল- ভসতীয়া” নামের আন্তর্জাতিক কেন্দ্রের সহযোগিতায় মস্কো শহরে এক উল্লেখযোগ্য আন্তর্জাতিক সম্মেলন করা হয়েছে, যেখানে কুড়িটিরও বেশী দেশ থেকে আসা প্রতিনিধিরা তথাকথিত জিহাদ, তকফির ও খিলাফত প্রশ্ন প্রসঙ্গে মস্কোর ধর্ম সভার ঘোষণাকে গ্রহণ করেছে. এই উত্সবের কয়েকদিন আগে মস্কো ত্রয়োদশ আন্তর্জাতিক কোরান পাঠ প্রতিযোগিতার প্রতিনিধিদের স্বাগত জানিয়েছিল, যেখানে বিশ্বের ৩৪টি দেশ থেকে আসা হাফিজরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন. এই প্রতিযোগিতা কোরানের সত্যিকারের এক উত্সবে পরিণত হয়েছে. এই ধরনের উল্লেখ যোগ্য ঘটনা যা নিয়ে রাশিয়ার উম্মা গর্ব করতে পারে, তা অনেক হয়েছে”.

রাশিয়ার ২ কোটি মানুষের উম্মা সব সময়েই নিজেদের বিশ্বের উম্মার অংশ বলে মনে করতে পেরেছে. সমস্ত কষ্ট, যা আজ মুসলিম দুনিয়া ভোগ করছে, তা একই রকমের বিষাদ ও যন্ত্রণার সঙ্গে রাশিয়াতেও অনুভব করা হয়. তাই গাইনুদ্দিন বলেছেন:

এটা এক অবিরত চলমান বিরোধ, সংগ্রাম, শামের ভূমি সিরিয়াতে হত্যা, আর আজ আবার সেই লেবাননেও চলছে. এটা গাজা এলাকায় রক্তপাত, প্যালেস্টাইনেও. এটা লিবিয়ার এলাকায় গৃহযুদ্ধ. এটা ইরাকে, পাকিস্তানে, আফগানিস্তানে ক্রমাগত হয়ে যাওয়া বিস্ফোরণ. আমরা সর্বময় আল্লার কাছে দোয়া প্রার্থনা করি, যেন তিনি এই সমস্ত মানুষের জন্য শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রেরণ করেন”.

তাঁর নেতৃত্বে রাশিয়ার সবচেয়ে বড় কেন্দ্রীয় মুসলমান সংস্থা – রাশিয়ার মুফতি সভা – বিশ্বের বহু ঐস্লামিক দেশের ইসলাম সংক্রান্ত মন্ত্রীসভা ও ওয়াকফের সঙ্গে অসংখ্য চুক্তিতে আবদ্ধ, তাদের মধ্যে সেই সমস্ত দেশও রয়েছে, যেখানে আরব বসন্তের সময়ে আমূল পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে, তাই রাভিল গাইনুদ্দিন বলেছেন:

কুয়েত, আলজিরিয়া, টিউনিশিয়া, মরোক্কো, ইজিপ্ট ইত্যাদি দেশের সঙ্গে সমস্ত পারস্পরিক বোঝাপড়া সংক্রান্ত সমঝোতা পত্র ও সহযোগিতার চুক্তি তাদের আইন সঙ্গত কার্য ক্ষমতা বজায় রাখতে পেরেছে. আমরা ইজিপ্টের ও টিউনিশিয়ার রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে দেখা করে এই বিষয়েই প্রশ্ন করেছি: চুক্তি কি রাখা হবে? আমরা সহযোগিতা করে যাবো? রাষ্ট্রদূতেরা শতকরা ১০০ ভাগ ক্ষেত্রে সেই সব দেশের এই সংক্রান্ত মন্ত্রণালয় ও রাশিয়ার মুফতি সমাজের মধ্যে আগে করা চুক্তিকে বজায় রাখার বিষয়ে তাঁদের সহমত প্রকাশ করেছেন ও তা চালিয়ে যাবেন বলে কথা দিয়েছেন. এই নভেম্বর মাসেই আমাদের রাশিয়াতে ভিত্তি মূলক ইসলাম সংক্রান্ত স্নাতক পর্যায়ে পাঠের শেষে নতুন ঐস্লামিক বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর পাঠের জন্য ছাত্ররা আল- আজার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে যাবেন”.