ইন্টারনেটে দেখতে পাওয়া যে সব ফোটো, তা দেখে বোঝা গিয়েছে যে, চিন বাংলাদেশের জন্য ২০১০ সালের চুক্তি অনুযায়ী প্রথম জে -৭ বিজি১ যুদ্ধ বিমান তৈরী করে দিয়েছে. চিনের এই মডেলের বিমান হল সোভিয়েত দেশের সবচেয়ে বিখ্যাত বিমান মিগ – ২১ এর এক রূপান্তরের ফল, যা ঠাণ্ডা যুদ্ধের সময়ের এক প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছিল.

বাংলাদেশের বরাত তৈরী করার মানে হল যে, সোভিয়েত দেশে সেই ১৯৫৯ সালে উত্পাদন শুরু করা বিমান আজ ৫৩ বছর পরেও মঞ্চ ত্যাগ করতে রাজী নয়. বিশ্বের একটি যুদ্ধ বিমানও এই রকমের দীর্ঘ সময় ধরে উত্পাদনের বিষয়ে আত্ম প্রশংসা করতে সক্ষম নয় – এই কথা উল্লেখ করে স্ট্র্যাটেজি ও টেকনলজি অ্যানালিসিস সেন্টারের বিশেষজ্ঞ ভাসিলি কাশিন বলেছেন যে, সম্ভবতঃ এই রেকর্ড কোন দিনও কেউ ভাঙতে পারবে না.

সোভিয়েত দেশ চিনকে মিগ – ২১- এফ – ১৩ বিমানের উত্পাদনের দলিল পত্র দেওয়া শুরু করেছিল ১৯৬০ এর দশকে চিনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার সামান্য আগেই. যখন ১৯৬২ সালে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক ছিন্ন হয়, তখন চিনের লোকরা পেতে পেরেছিল কিছু তৈরী বিমান ও অসম্পূর্ণ অবস্থায় দলিল পত্র এবং কিছু শেনইয়ান কারখানায় জোড়া দেবার মত বিমানের যন্ত্রাংশ.

এই বিমান তৈরী করা সোভিয়েত দেশের সঙ্গে সম্পর্ক সম্পূর্ণ ছিন্ন থাকা কালীণ পরিস্থিতিতে অনেক পরিশ্রমের ফলে হয়েছিল. এর ফলে এই বিমানের প্রাথমিক সব মডেল গুলি তার সোভিয়েত আসল বিমানের চেয়ে অনেক গুলি বিষয়ে খারাপ কাজ করত. চিনের জে – ৭ যুদ্ধ বিমান ১৯৬৬ সালে প্রথমবার আকাশে ওড়ে, তার পরে আবার তা তৈরী হওয়া অনেক পিছিয়ে যায় চিনে সাংস্কৃতিক বিপ্লবের কারণেই.

জে- ৭ বিমান নিয়মিত ভাবে চিনে তৈরী করা শুরু হয়েছিল শুধু ১৯৮০ সালের দিকে. এই সময়ে চিন পশ্চিমের প্রযুক্তি পাওয়া শুরু করেছিল, যার ফলে তারা এই বিমানের গঠনে পরিবর্তন করতে সমর্থ হয়েছিল ও এমনকি বিদেশেও বিক্রী করতে সক্ষম হয়েছিল. বিদেশ থেকে আনা যন্ত্রাংশ, যা বিদেশে রপ্তানী যোগ্য জে – ৭ বিমানে লাগানো হত, তা পরে চিনের কারখানা গুলিতেও তৈরী করা শুরু হয়েছিল ও চিনের সামরিক বিমান বাহিনীর বিমান গুলিতেও লাগানো শুরু করা হয়েছিল.

২০০০ সালের দ্বিতীয়ার্ধে জে -৭ বিমান ধীরে হলেও চিনের বিমান বাহিনী থেকে আরও বেশী আধুনিক জে-১০ ও জে -১১ দিয়ে পাল্টানো হতে থাকে. রপ্তানীর জন্য রাশিয়ার সহযোগিতায় আরও আধুনিক এফ সি – ১ বিমান তৈরী করা হয়েছে. তা স্বত্ত্বেও, চিনের মিগ – ২১ নানা ধরনের রূপান্তরিত অবস্থায় গণ প্রজাতন্ত্রী চিনের বিমান বাহিনীর অধিকাংশই জুড়ে রয়েছে: মিলিটারি ব্যালেন্স তথ্য পঞ্জি অনুযায়ী চিনের বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনীতে এই ধরনের বিমান রয়েছে প্রায় ৬০০টি. এই প্রসঙ্গে তা আবার রপ্তানীও করা হচ্ছে – বিগত বছর গুলিতে রপ্তানী চুক্তি হয়েছিল নাইজিরিয়া, তানজানিয়া ও বাংলাদেশের সঙ্গে.

দরিদ্র ও উন্নতিশীল দেশ গুলির সামরিক বিমানবাহিনীর জন্য জে- ৭ বিমান খুবই বুদ্ধি সম্মত ক্রয় হয়ে দাঁড়িয়েছে. বাংলাদেশ যে রকমের দামের ক্ষেত্রে ছাড় পেয়েছে, তাতে প্রত্যেকটি জে – ৭ কিনতে তাদের দাম দিতে হচ্ছে ৫৮ লক্ষ ৫০ হাজার ডলার. এটা সাধারন পশ্চিমে তৈরী প্রশিক্ষণ ও যুদ্ধের উপযুক্ত জেট বিমানের চেয়ে দুই তিন ভাগ দামে কম, আর আধুনিক পশ্চিমের বা রাশিয়াতে তৈরী জঙ্গী বিমানের চেয়ে দামে অনেক সস্তা.

একটা যুদ্ধ বিমান তৈরী করা ও তার মধ্যে পরিবর্তন করা চলছে একটানা পঞ্চাশ বছর ধরে, যা সোভিয়েত বিমান নির্মাণ শিল্পের বিশাল সাফল্যে পরিচয়ই বহন করে চলেছে. আর যদি ধরা হয় যে, এই বিমান এখনও রপ্তানী করা হচ্ছে ও এরই ভিত্তিতে চিনের কারখানায় নতুন বিমান বানানো হচ্ছে (প্রশিক্ষণের জন্য জেএল- ৯ মডেল), তবে আশা করা যেতে পারে যে, মিগ – ২১এর ইতিহাস শেষ হওয়ার থেকে এখনও অনেক দূরে.