মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিবহন বাহিনীর প্রধান জেনারেল উইলিয়াম ফ্রেজারের আফগানিস্তানের সঙ্গে সীমান্তবর্তী মধ্য এশিয়ার প্রজাতন্ত্র – তুর্কমেনিস্থান, উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তানে সফর, অবশ্যই বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টি এড়াতে পারে নি.

পিওতর গনচারভের এই প্রসঙ্গে মন্তব্য.

ন্যাটো জোট ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী সম্পূর্ণ ভাবে আফগানিস্তান থেকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার আগে পর্যন্ত শেষ দুই বছর – এটা খুব একটা বেশী সময়ের অপেক্ষা নয়. আর যদিও ন্যাটো জোটের নেতৃত্ব অবিরত পুনরাবৃত্তি করতে খামতি দিচ্ছে না যে, আফগানিস্তানের জাতীয় বাহিনী আজ দেশের তিন চতুর্থাংশকে নিয়ন্ত্রণ করছে, তাও সকলেই বুঝতে পারছে যে, যে এই নিয়ন্ত্রণ সরাসরি না হলেও ন্যাটো জোটের সহযোগিতাতেই করছে.

২০১৪ সালের দ্বিতীয়ার্ধে আশা দেওয়া হয়েছে যে, খুবই বেশী করে ন্যাটো ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনা বাহিনীকে আফগানিস্তান থেকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে. আর এর জন্যই প্রয়োজন আছে আগে থেকে ভরসা করার মতো ফিরে যাওয়ার পথ বের করার. আর এতে অবাক হওয়ার মতো কিছুই নেই যে, যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিবহন বাহিনীর প্রধান উইলিয়াম ফ্রেজার, আফগানিস্তানের উত্তরের প্রতিবেশী রাষ্ট্র গুলিতে স্রেফ নিজের সরাসরি কাজের তাগিদে সফর করে থাকেন তাহলে, - তাদের এলাকাতে পরিবহনের কেন্দ্র বানানোর জন্য. যেমন বিশকেক শহরের কাছে মানাস মাল পরিবহনের কেন্দ্র. এটা মস্কো শহরে কি ভাবে দেখা হয়েছে? মস্কো কি মধ্য এশিয়াতে নিজেদের প্রভাব হারাতে পারে? মধ্য এশিয়া সংক্রান্ত সমস্যা বিষয়ে রাশিয়ার এক নেতৃস্থানীয় বিশেষজ্ঞ এবং রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ আঝদার কুরতভ যেমন মনে করেছেন যে, প্রাথমিক ভাবে অর্থনীতি ও বাণিজ্যের বিষয়ে রাশিয়ার এই এলাকায় অবস্থান যথেষ্ট ভরসাযোগ্য বলে. তিনি বলেছেন:

“বর্তমানে, যদি ম্যাক্রো ইকনমিক সূচক অনুযায়ী বিচার করা হয়, তবে রাশিয়া মধ্য এশিয়াতে খারাপ জায়গায় নেই, যতই কেউ এটা দেখাতে চাক না কেন. যথেষ্ট হবে শুধু এই টুকুই বললে যে, রাশিয়ার সঙ্গে মধ্য এশিয়ার প্রজাতন্ত্র গুলির বাণিজ্যের পরিমাণ বিশ্বের যে কোন দেশের সঙ্গেই তাদের বাণিজ্যের পরিমানের চেয়ে বেশী. একই সঙ্গে যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের বিষয়ে যোগাযোগ খালি ব্যাহতই হচ্ছে, তখন”.

এটা ঠিক যে, এখানে বিশেষজ্ঞরে সঙ্গে তর্ক চলে না. মধ্য এশিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার আর্থ- বাণিজ্য সম্পর্ক আজ হিসেব করলে বহু শতক পার হয়েছে, আর এটাও ঠিক মোটামুটি ততটাই এই প্রজাতন্ত্র গুলি একই দেশের রাজ্য হয়েই ছিল. কিন্তু অন্য দিক থেকে এটাও অস্বীকার করা যায় না যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র খুবই সফল ভাবে ব্যবহার করে মধ্য এশিয়াতে রাজনৈতিক কার্যকলাপে হস্তক্ষেপকে, সেখানের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে আঞ্চলিক অন্য দিকে প্রভাবিত করতে – আর রাশিয়া এখানে বাদ যায় নি যে, চেষ্টা করে নিজের দিকে প্রভাবিত করতে. আর এটা তাদের পক্ষে কিছু দূর পর্যন্ত সম্ভব হয়েছে. অন্য প্রশ্ন হল যে, তা কতখানি, আর সেটা মধ্য এশিয়াতে সামরিক ঘাঁটির উদ্ভব হওয়া পর্যন্ত গড়াবে কিনা? তাই আঝদার কুরতভ বলেছেন:

“রাশিয়ার এই এলাকায় ভূ- রাজনৈতিক প্রভাব যদি সবচেয়ে বেশী নাও হয় তবে অন্যদের চেয়ে অন্তত বেশী. রাশিয়া মধ্য এশিয়ার সমস্ত দেশের ভূ- রাজনৈতিক অগ্রাধিকারের প্রশ্নের প্রথম স্থানে রয়েছে, যতই এই এলাকার রাজনৈতিক নেতৃত্ব এই বিষয়ে ওয়াশিংটনে বলুক না কেন”.

বিশেষজ্ঞের কথার সঙ্গে যোগ করা দরকার আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ জিনিষ, যা মধ্য এশিয়ার পক্ষ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার নির্বাচনে সাহায্য করেছে. মধ্য এশিয়ার দেশ গুলির বেশীর ভাগই যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি সংস্থার সদস্য. তুর্কমেনিয়া ও কিছু অংশে উজবেকিস্তান ছাড়া, যারা এই সংস্থায় নিজেদের সদস্য থাকার বিষয়ে বিরতি দিয়েছে. ২০১১ সালে সংস্থার আস্তানা শহরের শীর্ষবৈঠকে এক চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে, যেটি অনুযায়ী তৃতীয় কোন দেশের সামরিক ঘাঁটি এই সংস্থার সদস্য দেশ গুলির এলাকায় থাকতে পারে শুধু সকলের সঙ্গে সহমতে করা হলেই. যে বিষয়ে যথা রীতি হোয়াইট হাউস ও ব্রাসেলস শহরে ভাল করেই জানা রয়েছে.