রুশ প্রজাতন্ত্রের আঙ্কারাস্থিত দূতাবাসের কর্মীদের কে জোর করে নামিয়ে আনা সিরিয়ার বিমানে ওঠার অনুমতি দেয় নি? রাশিয়া তুরস্কের কাছ থেকে এই প্রশ্নের উত্তর শুনতে চেয়েছে. আর তারই সঙ্গে দাবী করেছে প্রকাশ্যে ঘোষণার, যে এই বিমানে কোনও অস্ত্র ছিল না. এই প্রসঙ্গে ঘোষণা করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সের্গেই লাভরভ.

এই বিমানের ১৭ জন রুশ যাত্রীর সঙ্গে কি করা হয়েছে, তা রুশ প্রশাসনের প্রতিনিধিরা শুধু তখনই জানতে পেরেছেন, যখন এই বিমান দামাস্কাস শহরে পৌঁছয়. প্রসঙ্গতঃ পরিস্থিতি তুরস্কের পক্ষ যে বর্ণনা করেছে, তার থেকে অন্য রকমেরই ছিল, এই কথা রাশিয়ার সংবাদ পত্রকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে সের্গেই লাভরভ উল্লেখ করেছেন. মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেন যে, রাশিয়া তুরস্কের কাছ থেকে এর একটা ব্যাখ্যা দাবী করে যাবে.

এই সবই দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের চরিত্রকে বুঝিয়ে দেয়, তাই নিয়ে রাজনীতিবিদ স্তানিস্লাভ তারাসভ “রেডিও রাশিয়াকে” বলেছেন:

তুরস্কের সংবাদ মাধ্যম যে খবর দিয়েছে, তা হল যে, এই বিমানে করে অস্ত্র নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, এমন খবর তুরস্কের পক্ষকে দিয়েছিল আমেরিকার লোকরা. কিন্তু পরে দেখা গেল যে, বিমানে কোনও অস্ত্র নেই. সেখানে রেডিও সন্ধান ব্যবস্থার জন্য যন্ত্রপাতি ছিল. এটা সম্পূর্ণ ভাবেই আইন সঙ্গত মালপত্র, যা আন্তর্জাতিক কনভেনশনে স্বীকৃত. আমেরিকার লোকরা সিরিয়া সংক্রান্ত বিষয়ে তুরস্ক – আমেরিকা সম্পর্ক শক্তিশালী করা হচ্ছে এই কথা বলেই এই ধরনের খবর দিয়েছিল. কিন্তু রাশিয়া – তুরস্কের মধ্যেও রাজনৈতিক পরামর্শের ব্যবস্থা রয়েছে. তুর্কীরা এই ধরনের খবর পেয়ে যদি রাশিয়া- তুরস্ক সম্পর্ক বিষয়ে মূল্য দিত, তবে মস্কোর সঙ্গে পরামর্শ করার জন্য হাজির হতে পারত. এই ঘটনাই তা হলে আগে থেকে সাবধান হয়ে করা হত না”.

রাশিয়া ও তুরস্ক – খুবই কাছের প্রতিবেশী, তাদের ভাল সম্পর্ক রয়েছে, এমনকি স্ট্র্যাটেজিক চরিত্রেরও রয়েছে, এই কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন এই ঘটনা নিয়ে বলতে গিয়ে সের্গেই লাভরভ. আর মস্কোতেও চাওয়া হয় না যে, এই ধরনের ঘটনা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ম্লান করুক.

ইরান ঘিরে পরিস্থিতিকে স্পর্শ করে মন্ত্রী উল্লেখ করেছেন যে, এখন কোন রকমের সাক্ষ্য নেই যে, এই দেশের প্রশাসন পারমানবিক পরিকল্পনায় কোন রকমের সামরিক মাত্রা যোগ করে দিয়েছে. ইরানের সমস্ত পারমানবিক পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই করা হচ্ছে.সেই পরিস্থিতিতে যখন পশ্চিমের পক্ষ থেকে ইরানের উপরে চাপ ক্রমাগত বাড়িয়েই যাওয়া হচ্ছে, তখন মস্কোর পক্ষ থেকে এই ধরনের অবস্থানকে সমর্থন এই সমস্যা কূটনৈতিক ভাবে সমাধানের জন্য খুবই জরুরী, এই কথা মনে করে স্ট্র্যাটেজিক মূল্যায়ণ ও বিশ্লেষণ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ সের্গেই দেমিদেঙ্কো বলেছেন:

রাশিয়া নিজেদের এই অবস্থান সমর্থনের বিষয়ে যথেষ্ট রকমের পরম্পরা মেনেই চলছে. যতক্ষণ পর্যন্ত ইরান যে সত্যই পারমানবিক অস্ত্র তৈরী করতে চাইছে, সেই বিষয়ে কোনও বাস্তব প্রমাণ নেই, ততক্ষণ কোন রকমের নিষেধাজ্ঞাই তার উপরে আরোপ করা যায় না. এটা আন্তর্জাতিক অধিকারের সরাসরি বিরুদ্ধে. খুবই জরুরী হল যে, আমরা নিজেদের অবস্থান থেকে আলাদা হয়ে যাচ্ছি না ও তা অস্বীকার করবো না”.

লাভরভ উল্লেখ করেছেন যে, - ইরানে “চোখ” ও “কান” হারিয়ে ফেলার সবচেয়ে সহজ রাস্তা হল – তার উপরে বোমা বর্ষণ. তিনি সাবধান করে দিয়েছেন যে, তেহরানকে আন্তর্জাতিক সমাজের সঙ্গে সমস্ত রকমের সম্পর্ক ছিন্ করতে ও দেশ থেকে আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার পর্যবেক্ষকদের বের করে দিতে বাধ্য করার দরকার নেই. এই ক্ষেত্রে আমরা শুধু কল্পনা করতে থাকবো যে, ইরানে কি হচ্ছে ও তাদের পারমানবিক পরিকল্পনা নিয়ে কেন্দ্র গুলিতে কি হচ্ছে, - মনে করেন লাভরভ.

লিবিয়ার অভিজ্ঞতা দেখিয়ে দিয়েছে যে, ইরানের ক্ষেত্রেও সামরিক অনুপ্রবেশ করা হতে পারে. তাই রাশিয়া ব্যবস্থা করবে যে, রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি সিদ্ধান্তও যেন লিবিয়ার মতো করে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে.