আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক উন্নতি – সমস্ত এলাকার জন্যই স্থিতিশীলতার শর্ত. কিন্তু আপাততঃ এই দেশ অর্থনৈতিক স্বাবলম্বীতার চেয়ে অনেক দূরে. ন্যাটো জোটের সেনা বাহিনীকে আফগানিস্তান থেকে আসন্ন ফিরিয়ে আনা নিয়ে অনেকেই নিজেদের মতো করে তৈরী হচ্ছে. এই বিষয়ে “রেডিও রাশিয়াকে” দেওয়া একান্ত সাক্ষাত্কারে ইউরোপীয় নিরাপত্তা ও সহযোগিতা সংস্থার সাধারন সম্পাদক লামবের্তো জানিয়ের মন্তব্য করেছেন.

ইউরোপীয় নিরাপত্তা ও সহযোগিতা সংস্থায় জানাই আছে যে, বহু মধ্য এশিয়ার দেশও রয়েছে – তুর্কমেনিয়া, কাজাখস্থান, কিরগিজিয়া, উজবেকিস্তান. তাদের সঙ্গে এই সংস্থার সহযোগিতার ফলে বেশ কয়েকটি পরিকল্পনাকেও বাস্তবায়িত করা হচ্ছে, যা এই এলাকার নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য করা হচ্ছে, এই কথা উল্লেখ করে সাধারন সম্পাদক বলেছেন:

অংশতঃ দুশানবে শহরে কাজ করছে সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর প্রশিক্ষণের জন্য কলেজ. রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাথে আমরা এই এলাকায় সীমান্ত প্রহরা শক্তিশালী করার জন্য কাজ করছি ও এই প্রশ্নে যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি সংস্থার সঙ্গেও কাজ করছি. আমাদের কাজের গুরুত্ব প্রতি দিনের সাথেই দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে, আর পরিস্থিতি বাধ্য করছে প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরাণ্বিত করতে”.

মধ্য এশিয়াতে যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি সংস্থা এক গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়নক. কিন্তু উজবেকিস্তান এই সংস্থা ত্যাগ করেছে. একই সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই এলাকার দেশ গুলির সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা করছে. ওয়াশিংটনের পরিকল্পনায় উজবেকিস্তান ও তাজিকিস্তানে আমেরিকার সামরিক ঘাঁটি রাখার তথ্যের উদয় হয়েছে ও আফগানিস্তানের পরে উজবেকিস্তানকে সামরিক প্রযুক্তি দিয়ে দেওয়ার কথা হয়েছে. এই ইউরোপীয় সংস্থার সাধারন সম্পাদক সমগ্র এলাকাকে একটি দাবার ছকের সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন:

বহু অর্থেই মধ্য এশিয়া – এটা একটা চৌরাস্তার মোড়. আর এখন অনেকেই তার উন্নতির দিকে খেয়াল রেখেছে, বিশেষত ২০১৪ সালে আফগানিস্তান থেকে সেনা বাহিনী ফেরত নিয়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে. এলাকার প্রতিটি দেশেই নিরাপত্তা নিয়ে নিজেদের আলাদা দৃষ্টিভঙ্গী রয়েছে. উজবেকিস্তান যেমন, পররাষ্ট্র নীতিতে দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থার উপরেই আশা করে. অন্যরা, যেমন কাজাখস্থান, ইউরোপীয় নিরাপত্তা ও সহযোগিতা সংস্থার ভিতরেই বড় ভূমিকা পালন করে থাকে ও তারই সঙ্গে অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গেও জড়িত, তারা সমস্যার সমাধানে নিজেদের পদ্ধতিও প্রস্তাব করে থাকে. আর বিদেশের ক্রীড়নকরা – চিন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র – স্পষ্টতঃই যা ঘটছে, সেই বিষয়ে আগ্রহী, আর তারই সঙ্গে তুরস্ক ও রাশিয়াও”.

একটি প্রশ্ন, যা যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি সংস্থা নিজেদের সামনে রেখেছে, - তা হল আফগানিস্তানের মাদক পাচার ও সন্ত্রাসবাদের হুমকিকে মোকাবিলা করা. যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি সংস্থা সহযোগিতার প্রস্তাব করেছিল, কিন্তু জোটের কাছ থেকে কোনও উত্তর পায় নি. লামবের্তো জানিয়ের ন্যাটো জোটের পক্ষ থেকে এই ধরনের অবস্থানকে মনে করেছেন ভুল বলে. যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি সংস্থার সঙ্গে সক্রিয় যোগাযোগ এই এলাকার পরিস্থিতিকে বেশী স্থিতিশীল করবে বলেই মনে করেন ইউরোপীয় নিরাপত্তা ও সহযোগিতা সংস্থার সাধারন সম্পাদক.