রসনেফ্ত টিএনকে-বিপি কোম্পানীর শতকরা একশ ভাগ মালিক হতে চলেছে. রাষ্ট্রীয় এই কোম্পানী ইতিমধ্যেই ব্রিটেনের বিপি ও রাশিয়ার এএআর কনসার্নের কাছ থেকে তাদের শতকরা ৫০ ভাগ শেয়ার কিনে নেওয়ার বিষয়ে শর্ত সম্বন্ধে সহমতে এসেছে. রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন এই কেনা বেচাকে সমস্ত দেশের অর্থনীতির জন্যই ভাল সঙ্কেত বলে উল্লেখ করেছেন.

রসনেফ্ত কোম্পানীর প্রধান ইগর সেচিনের বক্তব্য অনুযায়ী, ব্রিটেনের কোম্পানীর লোকরা তাঁদের টিএনকে-বিপি সংস্থার শতকরা পঞ্চাশ ভাগ শেয়ার দিতে তৈরী রয়েছে ১ হাজার সাতশো দশ কোটি ডলার ও রাষ্ট্রীয় কোম্পানীর শতকরা ১২, ৮৪ শতাংশ শেয়ারের বিনিময়ে. এছাড়া বেচা কেনার শর্ত অনুযায়ী তা শেষ হলে, বিপি সংস্থা রসনেফ্ত কোম্পানীর ডিরেক্টর বোর্ডে একটি আসন পাবে. এই সিদ্ধান্ত ব্রিটেনের কনসার্ন ইতিমধ্যেই সমর্থন করেছে. টিএনকে-বিপি কোম্পানীর রুশ শেয়ার হোল্ডারের অংশ – এএআর (“আলফা গ্রুপ”, অ্যাক্সেস ইন্ডাস্ট্রিজ ও “রেনোভা” গ্রুপ অফ কোম্পানীজ) কনসার্ন – কিনে নেওয়া হবে ২ হাজার আটশো কোটি ডলারের বিনিময়ে.

টিএনকে-বিপি কোম্পানীর শতকরা একশ ভাগ শেয়ার কেনা হয়ে গেলে রসনেফ্ত কোম্পানী বিশ্বের সবমিলিয়ে উত্পাদনের বিষয়ে দশটি সবচেয়ে বড় খনিজ তেল ও গ্যাস উত্পাদক কোম্পানীর মধ্যে থাকবে. তাছাড়া, কনসার্ন হবে বিশ্বের ওপেন জয়েন্ট স্টক কোম্পানী গুলির মধ্যে খনিজ তেল উত্পাদনের ক্ষেত্রে প্রথম হবে. এটা বিশেষজ্ঞদের মতে, রসনেফ্ত কোম্পানীর জন্য ঋণের সুবিধা করে দেবে. কিন্তু প্রধান হল যে, বিপি কোম্পানীর সঙ্গে জোট বাঁধাতে রাশিয়ার কোম্পানী পাবে সম্পূর্ণ আধুনিক প্রযুক্তির কাছে পৌঁছনোর সম্ভাবনা, এই বিশ্বাস নিয়েই ইএফদে ক্যাপিটাল কোম্পানীর বিশ্লেষক ভিতালি ক্র্যুকভ বলেছেন:

“রসনেফ্ত কোম্পানীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হল দেশের সমুদ্রের মধ্যে থাকা খনিজ তেল ও গ্যাস উত্পাদনের জন্য এই বিষয়ে কর্মরত বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আকর্ষিত করা, যাদের এই ধরনের প্রকল্প তৈরী করার বিষয়ে প্রচুর অভিজ্ঞতা রয়েছে খুবই কঠিন আবহাওয়া সংক্রান্ত পরিস্থিতিতে, যাদের কাছে প্রযুক্তি রয়েছে, অভিজ্ঞতা রয়েছে, যা সুমেরু অঞ্চলে ব্যবহার করা যেতে পারে. তার ওপরে বিপি কোম্পানীর সঙ্গে জোট বাঁধার ফলে রাশিয়ার কোম্পানী নিজেদের কোম্পানীকে একটা আন্তর্জাতিক ভাবে মর্যাদা পূর্ণ জায়গায় পৌঁছে দিতে পারবে”.

টিএনকে-বিপি কোম্পানীর রসনেফ্ত কোম্পানীর নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়া বিপি কোম্পানীকে এএআর কনসার্নের সঙ্গে কাজ করতে বাধ্য হওয়া থেকে রেহাই দেবে. ব্রিটেনের লোকদের এই কনসার্নের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল জটিল. কিন্তু দেশের একটি বড় জাতীয় কোম্পানীর সঙ্গে জোট হওয়াতে তাদের রাশিয়ার বাজারে অবস্থানও শক্ত হবে. এটা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিগত বছর গুলিতে ব্রিটেনের কনসার্ন নতুন প্রকল্পের বিষয়ে খুবই অভাব টের পেয়েছে, আর রসনেফ্ত কোম্পানীর সঙ্গে চুক্তি থাকলে তা বিনিয়োগের জন্য নতুন দিগন্ত খুলে দেবে.

0গত সপ্তাহে রাশিয়ার সংবাদ মাধ্যম থেকে জানানো হয়েছে যে, ভ্লাদিমির পুতিন দায়িত্ব দিয়েছেন খুবই কম সময়ের মধ্যে রসনেফ্ত কোম্পানীকে দেশের সমুদ্র উপকূলের সমস্ত খনিজ তেল উত্পাদন সম্ভব জায়গার শতকরা ৭৫ ভাগে কাজ করার অধিকার তুলে দিতে. বর্তমানে এই এলাকায় কাজ করতে পারে শুধু রাষ্ট্রীয় কোম্পানী, যাদের কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে কম করে হলেও পাঁচ বছরের, অর্থাত্ গাজপ্রম ও রসনেফ্ত কোম্পানীর. ব্যক্তিগত মালিকানার কোম্পানী গুলি – রুশ ও বিদেশী, যারা এই জায়গায় কাজ করতে চাইবে, তাদের সরকারি কোম্পানীদের সঙ্গেই চুক্তি করতে হবে.