রাষ্ট্রসঙ্ঘ দিবস. এই আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সদস্য ১৯৩টি দেশের সব কটিতেই এই দিবস পালন করা হচ্ছে. এই দিনটি রাষ্ট্রসঙ্ঘের সনদ পত্র গ্রহণের দিন উপলক্ষেই উত্সর্গ করা হয়েছিল, যেটি ছিল ১৯৪৫ সালের ২৪শে অক্টোবর.

রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারন সভা ক্যালেণ্ডারকে কম কিছু বিশ্ব দিবস দিয়ে পাল্টে দেয় নি. যেমন, সেই সমস্ত দিন – মানবাধিকার রক্ষা দিবস, উদ্বাস্তু দিবস, জল সম্পদ সংরক্ষণ দিবস ইত্যাদি আরও অনেক. এই সবই আমাদের সাহায্য করে কোন না কোন সমস্যার প্রতি মনোযোগ দিতে ও তা নিয়ে ভাবতে, যে কি করে এই গুলির সমাধান করা যায়. এই রকমের তুলনা হিসাবে রাষ্ট্রসঙ্ঘের জন্মদিনটিও, যা ১৯৭১ সালে গৃহীত হয়েছিল, তা এক ভাল কারণ হয়েছে চিন্তার জন্য. তার ওপরে বিশ্বের সংবাদ মাধ্যমে এটা প্রথম বছর নয়, যখন রাষ্ট্রসঙ্ঘ নিয়ে নানা রকমের মন্তব্য করা হচ্ছে: এই সংস্থাকে সংশোধন করা থেকে তা ভেঙে দেওয়া পর্যন্ত. মানুষের সৃষ্ট যে কোন রকমের জিনিষের মতোই রাষ্ট্রসঙ্ঘ আদর্শ হতে পারে নি, এই কথা উল্লেখ করে রুশ প্রজাতন্ত্রে রাষ্ট্রসঙ্ঘের তথ্য কেন্দ্রের প্রধান আলেকজান্ডার গরেলিক বলেছেন:

“রাষ্ট্রসঙ্ঘ তৈরী হয়েছিল অন্য রকমের ঐতিহাসিক পরিস্থিতিতে. তার পর থেকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া গুলি বিশ্ব জুড়েই অনেক দূর চলে গিয়েছে, আর বাজার অর্থনীতি বাস্তবে প্রায় কোন রকমের ব্যতিক্রম ছাড়াই রয়েছে. আজকের রাষ্ট্রসঙ্ঘ – এটা বিশ্ব সমাজের সেই রকমেরই প্রতিফলন, যা এখন রয়েছে. রাষ্ট্রসঙ্ঘ সনদের বহু নীতিকেই বাস্তব করেছে. প্রথমতঃ, সম্ভব হয়েছে নিয়েছে প্রধান লক্ষ্যে উপনীত হওয়া, যা ১৯৪৫ সালে সামনে রাখা হয়েছিল – তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হতে না দেওয়া. রাষ্ট্রসঙ্ঘ উপনিবেশ বাদের সমস্যা সমাধানে কম ভূমিকা পালন করে নি. তার মধ্য দিয়েই মানবাধিকার রক্ষা কার্যকরী হয়েছে, মানব সমাজের স্থিতিশীল উন্নয়নের ধারণাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে”.

নিজের পক্ষ থেকে দেওয়া বাণীতে মহাসচিব বান কী মুন উল্লেখ করেছেন যে, রাষ্ট্রসঙ্ঘ শুধু কূটনৈতিক বিতর্কেরই জায়গা নয়. বিশ্বের উত্তপ্ত বিন্দু গুলিতে কাজ করছেন শান্তি রক্ষী বাহিনী, উদ্বাস্তুদের সহায়তা করছেন বিশেষজ্ঞরা. চিকিত্সা বিভাগের কর্মীরা ওষুধ পৌঁছে দিচ্ছেন. উকিলরা নজর করছেন যাতে আদালতের রায় সঠিক হয়. রাষ্ট্রসঙ্ঘ – আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক বিরল ঘটনা, এই কথাকে জোর দিয়ে উল্লেখ করে রাশিয়ার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের আন্তর্জাতিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর ও ইউনেস্কো বিভাগের প্রফেসর আলেকজান্ডার অর্লোভ বলেছেন

“আর যদি সেই প্রশ্ন করা হয়: এই সংস্থার সমালোচকরা রাষ্ট্রসঙ্ঘের বিকল্পে কি প্রস্তাব করতে পেরেছেন, তবে তাঁরাই উত্তর দিতে পারবেন না. কোন কিছুই গঠন মূলক নয়, কোন কিছুই বাস্তবে কাজের উপযুক্ত নয়, কোন রকমের বিকল্প তৈরী করা এখন সম্ভবই নয়. কারণ বিভিন্ন দেশের মধ্যে মতামত নিয়ে এক বিশাল ফারাক রয়েছে, আর তারা কোন দিনও সহমতে পৌঁছতে পারবে না. সংস্থার প্রকৃত পক্ষেই সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে. তার করার দরকার রয়েছে, যাতে সংস্থাকে আরও মজবুত করা যায়, তার ভিত্তি ভেঙে দেওয়ার জন্য নয়”.

যখন রাষ্ট্রসঙ্ঘের সংশোধনের কথা বলা হয়ে থাকে, তখন প্রাথমিক ভাবে নিরাপত্তা পরিষদের কথাই মনে করা হয়. জানাই রয়েছে যে, এই পরিষদে শুধু ভেটো দেওয়ার অধিকার রাখে পাঁচটি স্থায়ী সদস্য দেশ. এটা – গ্রেট ব্রিটেন, চিন, রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স. কিন্তু বিশ্বের পরিস্থিতি গত ষাটের বেশী বছরে পরিবর্তন হয়েছে. সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো ভোট দেওয়ার অধিকার চেয়ে অন্যরাও তৈরী. তারা চেনা সব দেশ. এরা – ব্রাজিল, ভারত, জার্মানী, জাপান. আরও অন্যান্য সব শক্তিশালী ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী দেশও রয়েছে, যারা বিশ্বের সমস্যা সমাধানের জন্য নিজেদের দৃষ্টিকোণকেও প্রস্তাব করছে.

এই বছরে রাষ্ট্রসঙ্ঘ দিবসের প্রাক্কালে নিউইয়র্কে প্রতিষ্ঠানের সদর দপ্তরের অনতিদূরে একটি উদ্যানের উদ্বোধন করা হয়েছে ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্টের নামে. এই বিখ্যাত রাজনৈতিক নেতা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বছর গুলিতে “চারটি স্বাধীনতার” ধারণাকে গঠন করেছিলেন, যা অনেক ক্ষেত্রেই রাষ্ট্রসঙ্ঘের নীতি নির্দেশক হয়েছে. রুজভেল্টের চারটি স্বাধীনতা – এগুলি হল বাক্ স্বাধীনতা, ধর্ম বিশ্বাসের স্বাধীনতা, প্রয়োজনের থেকে স্বাধীন হওয়া ও ভয় থেকে স্বাধীন থাকা. এই উদ্যান উদ্বোধন করতে এসে মহাসচিব বান কী মুন যেমন বলেছেন যে, রাষ্ট্রসঙ্ঘ আজও চলেছে এই লক্ষ্য গুলিই সাধন করতে.