আপনারা শুনছেন আমাদের সাপ্তাহিক অনুষ্ঠান – রাশিয়ার আদ্যোপান্ত. স্টুডিওয় ভাষ্যকার জামিল খান.

এই অনুষ্ঠানে আমরা রাশিয়ার প্রসঙ্গে আপনাদের প্রেরিত প্রশ্নাবলীর উত্তর দিয়ে থাকি.

সেই জন্যই ভারতে, বাংলাদেশে, পাকিস্তানে ও মরিশাসে আমাদের নিয়মিত শ্রোতাদের কাছে অনুরোধ যত বেশি সম্ভব প্রশ্ন পাঠানোর. লিখুন কোন বিষয় সম্পর্কে আপনারা জানতে চান.

আর আমরা চেষ্টা করবো বিশদে আপনাদের প্রশ্নাবলীর উত্তর দিতে.

উত্তর প্রদেশের ইসলামপুর থেকে সামসুদ্দিন সাকি আলিবি প্রশ্ন করেছেন – রাশিয়ার মহান কবি পুশকিনের কোন উত্তর সূরি আছে কিনা.

পশ্চিম বঙ্গের বালিচক থেকে পঙ্কজ বিহানির প্রশ্নের উত্তরে আজ আমরা রাশিয়ায় শ্যুটিং করা প্রথম ফিচার ফিল্ম সম্বন্ধে জানাবো.

অতএব প্রথম প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছি. আলেকজান্ডার পুশকিনের ২টি পুত্র ও ২টি কন্যা ছিল. জ্যেষ্ঠ পুত্রের ৮টি কন্যা ও ৫টি পুত্র জন্মেছিল. কনিষ্ঠা কন্যা নাতালিয়া ৪টি কন্যা ও ২টি পুত্র প্রসব করেছিলেন. জেষ্ঠ্য কন্যার ও কনিষ্ঠ পুত্রের কোনো ছেলেপুলে ছিল না. বর্তমানে পুশকিনের ২৩৭ জন জীবিত অথবা পরলোকগত উত্তরসূরিকে হিসাব করে পাওয়া গেছে.

ভাগ্য তাদের সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিয়েছে. এখন রাশিয়ায় বাস করেন মহান কবি ও লেখকের ৮২ জন বংশধর, ফ্রান্সে ২৪ জন, গ্রেট ব্রিটেনে ২০ জন, আমেরিকায় ১২ জন.

পুশকিন পরিবারের বরাবর বৈশিষ্ট্য ছিল, যে ছেলেদের থেকে মেয়েদের জন্ম হতো অনেক বেশি. মেয়েরা বড় হয়েছে, তাদের বিয়ে হয়েছে, তারপর তারা গোত্রনাম বদলেছে. যদিও তাদের গোত্রনাম এখন অন্য, এখন ৫৮টি পরিবার জানে, যে পুশকিন ছিলেন তাদের পুর্বপুরুষ.

২০০৯ সালে মস্কোয় মহান কবির ২১০-বছর পূর্তি উপলক্ষে তার বংশধরদের জড়ো করা হয়েছিল আন্তর্জাতিক কংগ্রেসে. সেই সময় পুশকিনের বংশধর সমস্ত ৫৮টি শাখার প্রতিনিধিরা এসেছিল.

মহান কবির বংশধরদের মধ্যে আছেন – শিক্ষকেরা, চিকিত্সকেরা, বিজ্ঞানীরা, প্রত্নতাত্ত্বিকরা, সঙ্গীতজ্ঞরা, চিত্রকরেরা, স্থপতিরা, কৃষিবিদেরা.

একজন বেতার সাংবাদিকও ছিল – মস্কো রেডিওতে বহু বছর ধরে কাজ করেছেন পুশকিনের বংশধর সের্গেই ক্লিমেনকো. তাকে দেখতেও ছিল খানিকটা ঐ মহান কবির মতো.

উত্তরসূরীদের মধ্যে অনেকেই কবিতা লিখেছে, তবে কেউই সুবিদিত হয়নি. পুশকিনের বংশধরদের মধ্যে আর কোনো ক্ষণজন্মা জন্মায় নি.

পশ্চিম বঙ্গের বালিচক থেকে পঙ্কজ বিহানি রাশিয়ার সিনেমাটোগ্রাফি সম্পর্কে বিশদে জানতে চেয়েছেন.

আমি আন্দাজ করতে পারছি কেন ও এই অনুরোধ করেছেন. ২০১৩ সালে ভারত ও পাকিস্তানে জাতীয় সিনেমার ১০০-বছর পূর্তি হবে. এই নিয়ে পুরোদমে প্রস্তুতি চলছে, খবরের কাগজে, রেডিওতে, দূর দর্শনে প্রচুর কথোপকথন হচ্ছে. সম্ভবতঃ পঙ্কজ বিহানি জানতে চাইছেন – কোথায় আগে ফিল্ম তোলা শুরু হয়েছিল – ভারতবর্ষে না রাশিয়ায়.

সরকারীভাবে রাশিয়ায় প্রথম ফিল্ম ‘স্তেপান রাজিন’ মুক্তি পেয়েছিল ১৯০৮ সালের ১৫ই অক্টোবর.

উপরোক্ত নির্বাক ফিল্মটির বিষয় হচ্ছে লোকগাথা. ভারত, পাকিস্তানের শ্রোতারা প্রায়ই অনুরোধ করে আমাদের লোকগীতি শোনানোর জন্য.

হ্যাঁ, সে রকমই একটা লোক সঙ্গীত. তবে এ দেশে শুধু গ্রামে নয়, শহরেও লোকে লোকগীতি গায়. রাশিয়ার প্রথম ফিচার ফিল্মটি তোলা হয়েছিল ‘দ্বীপ থেকে গভীর জলে’ নামক গানের ভিত্তিতে.

দ্বীপ থেকে গভীর জলে. নদীর বিশাল ঢেউয়ে আসছে পালতোলা সরু নৌকা.

রুশ বাসীরা প্রথম থেকেই ফিল্মটি বুঝতে পেরেছিল, কারণ তারা গানটা জানতো. তবে আমাদের বিদেশী শ্রোতাদের গানটির উদ্ভব সম্মন্ধে জানানো দরকার.

প্রায় ৩৪০ বছর আগে রাশিয়ার দক্ষিনাঞ্চলে কৃষকদের বিশাল অভ্যুত্থান ঘটেছিল. নেতৃত্ব দিয়েছিল স্তেপান রাজিন. সে জনতাকে জার ও জমিদারদের কতৃত্ব থেকে নিষ্কৃতি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল. তখন অভ্যুত্থান দমন করা হয় ও রাজিনকে আটক করে তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়.

স্তেপান রাজিনের জীবনে এমন একটা ঘটনা ঘটেছিল, যা জন সাধারন বহুদিন মনে রেখেছিল ও সে সম্পর্কে গান গেঁথে ছিল. রাজিন পারস্যের রানীকে ভালোবেসে, তাকে রাশিয়ায় নাকি নিয়ে এসেছিল.

ফিল্মও শুরু হয় তাদের বিবাহ থেকে. পালতোলা নৌকাগুলি ভোলগা নদীর তীরে এসে ভিড়েছে. বন্ধুবান্ধবরা খানাপিনা করছে, কেউ ছোট্ট করে আগুন জ্বালানোর কাজ করছে, নাচ গান হচ্ছে. সদ্য বিবাহিত স্ত্রী প্রাচ্যের নাচ দেখাচ্ছে. স্তেপান রাজিন খুব খুশি. শুধু বন্ধুরা বিরক্ত ঐ নাচের জন্য. রাজিন রানীর জন্য বন্ধুদের কথা ভুলে যাওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ. উপরন্তু জারের ফৌজ তাকে অনুসরন করছিল, বন্দী করে ফাঁসিও দিতে পারতো, কারণ সে প্রতিরক্ষার জন্য প্রস্তুত ছিল না.

তারপরে রাজিনের বন্ধুরা চিঠি রচনা করে পারস্যের রানীর নাম করে, যেন সে পারস্যে তার প্রাক্তণ প্রিয়তমের সাথে মিলিত হবার স্বপ্ন দেখছে ও তাকে ভুলে না যাওয়ার অনুরোধ করছে. চিঠি দেখে স্তেপান রাজিন ইর্ষা থেকে ক্ষেপে গেল ও ভোলগার সবচেয়ে গভীর জলে নৌকা নিয়ে গিয়ে পারস্যের রানীকে জলে ছুঁড়ে ফেলে দিল.

সংক্ষেপে এটাই প্রথম রুশী ফিল্মের বর্ণনা, যা ১৯০৮ সালে মুক্তি পেয়েছিল, আর গানটার বয়স ৩৪০ বছর. এখন আমরা আপনাদের গানটা পুরো শোনাচ্ছি.

‘রাশিয়ার আদ্যোপান্ত’ অনুষ্ঠানটি এখানেই শেষ করছি. আমরা আপনাদের চিঠি ও প্রশ্নাবলীর অপেক্ষায় থাকবো. আমাদের ঠিকানা ভারত ও পাকিস্তানের জন্য সম্প্রচার বিভাগ, রেডিও রাশিয়া, ২৫ নম্বর পিয়াতনিত্স্কায়া স্ট্রীট, মস্কো, রাশিয়া-১১৫৩২৬. ইন্টারনেটে আমাদের ঠিকানা: Letters @ RUVR.RU