রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা নিজের প্রাক্ নির্বাচনী ভাণ্ডারে রিপাব্লিকান দলের প্রার্থী ও তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী মিট রোমনির সঙ্গে তৃতীয় বারের ও শেষ টেলিভিশন বিতর্কে জয়ের ফলও জমা করেছেন. সিএনএন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী তিনি রোমনিকে শতকরা ৮ শতাংশ ভোটে পিছনে ফেলেছেন. সিবিএস সংস্থার তথ্য অনুযায়ী ওবামার পক্ষে শতকরা ৩০ শতাংশ বেশী নির্বাচক. সুতরাং এই পরপর তিন বারের বিতর্কে রাষ্ট্রপতি তেসরা অক্টোবর হওয়া প্রথম বিতর্কে হারের পর জিতে আসতে পেরেছেন. ২২শে অক্টোবর ফ্লোরিডা রাজ্যে হওয়া এই বিতর্কের প্রধান বিষয় হয়েছে পররাষ্ট্র নীতি.

রাশিয়ার প্রসঙ্গ এই বিতর্কের একেবারেই প্রথম কয়েক মিনিটের মধ্যে রাষ্ট্রপতি ওবামা তুলেছিলেন. তিনি মিট রোমনিকে তাঁর সিএনএন সংস্থাকে দেওয়া মার্চ মাসের সাক্ষাত্কারের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন, যেখানে রিপাব্লিকান দলের প্রার্থী রাশিয়াকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান ভূ-রাজনৈতিক শত্রু বলেই চিহ্নিত করেছেন. প্রসঙ্গতঃ, ওবামা বলেছেন:

“আমি খুশী যে আপনি রাজ্যপাল স্বীকার করেছেন যে, “আল-কায়দা” - এটা বিপদ. এই কয়েক মাস আগেই যখন আপনাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, আমেরিকার সামনে সবচেয়ে বড় ভূ- রাজনৈতিক বিপদ কি দাঁড়িয়ে রয়েছে, তখন আপনি বলেছিলেন যে, এটা রাশিয়া. “আল-কায়দা” নয়. আপনি সেই রকমই বলেছিলেন – রাশিয়া... জানেন কি যে, ঠাণ্ডা যুদ্ধ ২০ বছর হল যে, শেষ হয়েছে. কিন্তু আপনি রাজ্যপাল যখন আমাদের দেশের পররাষ্ট্র নীতির প্রসঙ্গ উত্থাপিত হয়, তখন যেন আপনি ১৯৮০র দশকের পররাষ্ট্র নীতিকেই আমদানী করতে চান, ঠিক একই ভাবে যেমন চাইছেন ১৯৫০ সালের সামাজিক রাজনীতি ও ১৯২০ সালের অর্থনৈতিক নীতিকে ফিরিয়ে আনতে”.

রোমনি উত্তর দিয়েছেন যে, তিনি রাশিয়াকে ভূ- রাজনৈতিক শত্রু বলেছেন, কিন্তু দেশের নিরাপত্তার প্রধান বিপদ বলে উল্লেখ করেন নি. আর যোগ করেছেন যে, তিনি নির্বাচনে জিতলে – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকেই বেশী করে বজায় রাখার চেষ্টায় জোর লাগাবেন, কিন্তু মস্কোকে ওবামার মতো “বেশী রকমের নমনীয়তার” আশ্বাস দেবেন না. তিনি এই প্রসঙ্গে বলেছেন:

“রাশিয়া আমাদের সঙ্গে রাষ্ট্রসঙ্ঘে লড়াই করেই চলেছে. বারে বারেই. আমি এটা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি. আমি রাশিয়া বা শ্রী পুতিনকে কোন গোলাপী চশমার কাঁচের মধ্যে দিয়ে দেখতে চাই না. আর আমি স্পষ্টই তাকে বলতে যাবো না যে, নির্বাচনের পরে আমি বেশী করে নমনীয় হবো. নির্বাচনের পরে তিনি পাবেন বেশী করেই কঠোর মনোভাব”.

অন্যান্য প্রধান ভূ – রাজনৈতিক বিষয়ের মধ্যে, যা এই বিতর্কের সময়ে তোলা হয়েছিল, তাতে উপস্থিত ছিল – সিরিয়া, ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনার সমস্যা, ইজরায়েল, চিন এই সব দেশের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক, বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান. খুবই আশ্চর্যের বিষয় হলেও বেশীর ভাগ প্রশ্নেই দুই প্রার্থীর মধ্যে প্রায় কোনও মতের অমিল ছিল না. একজন আমেরিকার বিশ্লেষক যেমন ব্যাখ্যা করেছেন যে, রোমনি এবং ওবামা এটা ছিল যেন একই মাথার দুটো হাত, কিন্তু আলাদা রকমের গ্লাভস্ পরা. ওবামার নরম পশমের, আর রোমনির শক্ত চামড়ার. তাদের বিচারের পথ আলাদা মনে হয়েছে স্রেফ কিছু ছোটখাট বিষয়েই, কৌশলের প্রশ্নে, কিন্তু স্ট্র্যাটেজিক লক্ষ্য তাঁদের কোন ভাবেই আলাদা নয়.

প্রসঙ্গতঃ, রিপাব্লিকান প্রার্থী এই বিতর্কের সময়ে আর বলেন নি যে, যদি আমি রাষ্ট্রপতি হতে পারি. তিনি একেবারেই অন্য রকমের বাক্য ব্যবহার করেছেন: যখন আমি রাষ্ট্রপতি হবো. রোমনির এই রকমের সম্ভাবনা রয়েছে. এই বিতর্কের আগে, “ওয়াশিংটন পোস্ট” সংবাদপত্রের জনমত গ্রহণের হিসাবে বর্তমানে দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর জেতার সম্ভাবনা একই রকমের – দুজনেরই শতকরা ৪৭ ভাগ.

0রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের যারা পরিকল্পনায় ব্যস্ত, তারা অবশ্য জোর দিয়ে বলছেন যে, এর মধ্যেই নিশ্চিত ভোটের হিসাবে ওবামা রোমনিকে পেরিয়ে গিয়েছেন. তাঁর নির্বাচক মণ্ডলীর মধ্যে ২৩৭ জন এখন পক্ষে, রোমনির পক্ষে ১৯১ জন. আমেরিকার নির্বাচন সরাসরি নয়. সব কিছুই ঠিক হবে আটটি এখনও সিদ্ধান্ত না নেওয়া রাজ্যে. প্রথমতঃ ওহিয়ো রাজ্যে, যেখানে এবার সবচেয়ে প্রধান ভোট যুদ্ধ হতে চলেছে. সেখান থেকে আসবে ৫৫ জন নির্বাচকের ভোট. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এখনও অবধি একজন রিপাব্লিকান দলের প্রার্থীও ওহিয়ো রাজ্যের থেকে সমর্থন না পেয়ে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হতে পারেন নি.