লেবাননে সরকারের বিরোধী পক্ষ ও স্বপক্ষের লোকদের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে. নিহতও রয়েছে. আহতদের সংখ্যা বর্তমানে দশের বেশী. পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সামরিক বাহিনীকে নামাতে হয়েছে. এই সব সংঘর্ষের কারণ হয়েছে ১৯শে অক্টোবর হওয়া সন্ত্রাসবাদী হামলায় বেইরুট শহরে লেবাননের পুলিশ বাহিনীর গুপ্তচর বিভাগের প্রধান ভিসাম আল- হাসানের মৃত্যু. কোন রকমের তদন্ত হওয়ার আগেই লেবাননের বিরোধী পক্ষ এই হত্যার জন্য দায়ভার চাপিয়ে দিয়েছে বেইরুটের ক্ষমতাসীন সরকার ও তার প্রধান নাজিব মিকাতির উপরে. এই অন্তর্ঘাতের কাজের জন্য সিরিয়ার প্রশাসনকেও দায়ী করা হয়েছে.

প্রসঙ্গতঃ, বেশীর ভাগ বিশেষজ্ঞই খুবই বেশী রকমের সন্দেহ প্রকাশ করছেন যে, লেবাননের প্রধানমন্ত্রী, আর তার ওপরে আবার দামাস্কাস এই বিষয়ে তাদের হাত গলিয়েছে বলে. যেমন রাশিয়ার প্রাচ্য বিশেষজ্ঞ সিমিওন বাগদাসারভ মন্তব্য করে বলেছেন:

“সাদ হারিরি, যিনি এখন সমস্ত দায় চাপাতে চাইছেন হেজবোল্লা গোষ্ঠীর উপরে, তাদের স্বপক্ষের লোক ও দেশের সরকারের উপরে, তিনি হাল্কা করে বললে, বলা উচিত্ যে, ঘুরিয়ে কথা বলছেন. বর্তমানের লেবাননের ক্ষমতাসীন নেতা নাজিব মিকাতির প্রশাসনের জন্য এই ধরনের কাজ করার কোনও অর্থ হয় না. তিনি খুব স্পষ্ট করেই বুঝতে পারেন যে, এটা কম করে হলেও সেই সমস্ত পরিণতির দিকেই নিয়ে যাবে, যা এখন তাঁর দেশে হচ্ছে বলে আমরা দেখতে পাচ্ছি. সিরিয়ার জন্যেও এটা একই ভাবে লাভজনক নয়. দামাস্কাসের সরকারের পক্ষে বর্তমানে প্রথমতঃ, নিজেদের জন্যই যথেষ্ট সমস্যা রয়েছে, আর দ্বিতীয়তঃ, তাঁরা এই কারণে আরও বেশী করেই আগ্রহী যে, যেন লেবানন শান্ত থাকে, আর বেইরুটের সরকার যেন সিরিয়ার সঙ্গে মিত্র সুলভ আচরণই করে. অর্থাত্ সেইরকমই, যা বর্তমানের সরকার করছে. তাই অন্তর্ঘাত করেছে সেই সমস্ত শক্তি, যারা চায় লেবাননে পরিস্থিতির ভারসাম্য নষ্ট করতে ও বর্তমানের প্রশাসনের গদি উল্টে দিতে. আর এই সব শক্তিরা সাদ হারিরি ও তার সাঙ্গোপাঙ্গ দের মধ্যেই রয়েছে ও তারা চায় সৌদি আরব ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্যে এই কাজ করতে. কারণ লেবানন ও সিরিয়ার উপরে পরে অভিযোগ আনার উপযুক্ত অন্তর্ঘাতী কাজ কারবার - এটা একটা মোটা দাগের চিন্তা ভাবনা, যা কাজেও করা হয়েছে বোকার মতই”.

আর এই প্রসঙ্গে বেইরুটের স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা কেন্দ্রের ডিরেক্টর ইমাদ রিজ্ক বলেছেন:

“ভিসাম আল- হাসানের রেকর্ডে বহু শত ষড়যন্ত্র ফাঁস করে দেওয়া ও গুপ্তচর অলিন্দ ধ্বংসের ঘটনা রয়েছে. আর তার উপরে যে ধরনের সমালোচনা করাই হোক না কেন, তার পক্ষে সম্ভব হয়েছিল লেবাননের নিরাপত্তার জন্য সমস্ত কিছুই করা. যাদের হিসাবের খাতায় এই জেনারেলের জীবনের হিসেব রয়েছে, তাদের লক্ষ্য শুধু তাঁকে হত্যা করাই ছিল না, বরং ছিল দেশে পরিস্থিতি ভারসাম্য হীণ করে দেওয়া. বর্তমানের পরিস্থিতি সেই বিষয়ের সঙ্গেই তুলনা করা যেতে পারে, যা লেবাননে ২০০৫ সালে তখনকার প্রধানমন্ত্রী রাফিক হারিরি কে হত্যার পরে হয়েছিল. তখন এটা মোটামুটি একই সময়ে করা হয়েছিল – ইরাকের যুদ্ধের সাথে ও সেই মাত্স্যন্যায়ের সাথে, যা সারা এলাকা জুড়ে হচ্ছিল. আল- হাসানের হত্যা সিরিয়ার পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়েই করা হয়েছে, যাতে তা সিরিয়ার পরিস্থিতির সঙ্গে মেলে. সেই সব শক্তি, যারা হারিরি হত্যার পিছনে ছিল, তারাই ধান্ধা করেছে এই এলাকায় অশান্তি করার. আর তাই একটা অনুভূতি হয় যে, সেই শক্তিরাই বর্তমানের ঘটনার পিছনে রয়েছে ও তাদের উদ্দেশ্যও এক. কাদের এটা লাভের বিষয়? যদি সমস্ত পরিস্থিতিকে তাদের জায়গা অনুযায়ী সাজিয়ে দেখা হয়, তবে এর থেকে প্রাথমিক ভাবে লাভবান হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল, যাদের লেবানন বা নিকট প্রাচ্যে স্থিতিশীল কোন পরিস্থিতির একেবারেই কোনও দরকার নেই”.

এই ধারণার সঙ্গে একমত হয়ে রাশিয়ার প্রাচ্য বিশারদ সিমিওন বাগদাসারভ বলেছেন যে, “যখন দেখতে পাও যে, লেবাননের লোকরা দেশে এক গৃহযুদ্ধের অবসানে কত কি কাজ করেছে, যাতে ভাল থাকা যা, তখন বুঝতে পার যে, এই দেশে আবার বিশৃঙ্খলা চাইবে শুধু সেই সমস্ত লোকই, যারা লেবাননের প্রতি সবচেয়ে খারাপ সম্পর্ক পোষণ করে. কথা প্রসঙ্গে এই সাদ হারিরি, যিনি তাঁর জীবনের বেশীটাই দেশের বাইরে কাটিয়েছেন, তিনিই এই ধরনের লোক হতে পারেন”.

একই সঙ্গে মনোযোগ দেওয়া দরকার যে, বর্তমানের সংঘর্ষ লেবাননে মোটেও বিগত কয়েক মাসের মধ্যে প্রথমবার হচ্ছে না. এর আগে তা বন্ধ করানো সম্ভব হয়েছিল. বিশেষজ্ঞরা যেমন উল্লেখ করেছেন যে, তাদের বোধহয় এবারেও এই সব বন্ধ করা সম্ভব হবে.