মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মায়ানমার দেশকে আমেরিকা ও থাইল্যান্ডের সোনার কেউটে নামের সামরিক মহড়ায় পর্যবেক্ষক পাঠানোর জন্য আমন্ত্রণ জানাবে, যা এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় মার্কিন সেনা বাহিনীর অংশগ্রহণে করা সবচেয়ে বড় পদাতিক সেনাদের মহড়া. এই পদক্ষেপ, বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়াশিংটনের তরফ থেকে চিনকে আটকে রাখার জন্যই নতুন সামরিক জোট গঠনের লক্ষ্য নিয়ে করা হচ্ছে.

মায়ানমারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ছে মানবিক কথোপকথনের উন্নয়নের পতাকার নীচে ও তা করা হচ্ছে অর্ধেক অসামরিক প্রশাসনের সঙ্গেই. গত দুই দশক ধরেই মায়ানমারকে বাস্তবে একঘরে করে রাখা হয়েছিল. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমের দেশ গুলি বাস্তবে সব মিলিয়ে সেই দেশের সামরিক জুন্টার সঙ্গে যে কোন রকমের যোগাযোগের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারী করে রেখেছিল, মায়ানমারের সরকার তাদের দেশে অন্য রকমের চিন্তাধারার লোকদের দমন করছে বলে যুক্তি দিয়ে. এর উত্তরে মায়ানমারের সামরিক বাহিনীর লোকরাও খুব সাবধানে যে কোন রকমের যোগাযোগের বিষয়ে সন্দেহের চোখে দেখত. যখন ২০০৮ সালে মায়ানমারে এক বিধ্বংসী ঘূর্ণি ঝড় হয়েছিল, তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক যুদ্ধ জাহাজ গুলি, যেগুলি সেই সময়ে সোনার কেউটে নামের মহড়ায় অংশ নিচ্ছিল, তখন তৈরী ছিল সাহায্য করতে, অথচ মায়ানমারের সরকার এই প্রস্তাব মেনে নেয় নি.

গত বছরে হওয়া নির্বাচনের পরে, সেই দেশে শুরু হয়েছিল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভাবে স্বাধীনতার চর্চা. আগে যা ভাবাও যেত না, সেই সব ব্যাপার ঘটতে শুরু করেছিল. বিরোধী পক্ষের নেত্রী ও নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া আউন সান সু চ্ঝি বহু দিন বন্দী থাকার পরে খোলাখুলি ভাবেই রাজনৈতিক কাজ কারবার করতে শুরু করেছিলেন. তিনি প্রথমবার দেশের টেলিভিশন চ্যানেলে বক্তৃতা দিয়েছিলেন, আর এমনকি অন্তর্বর্তী নির্বাচনে দেশের ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীকে হারিয়ে পার্লামেন্টেও জায়গা করতে পেরেছিলেন.

কিন্তু মায়ানমার দেশে জনগনের অধিকার নিয়ে পরিস্থিতি আগের মতই আদর্শের থেকে অনেক দূরে. আউন সান সু চ্ঝি, অংশতঃ, সরকারের বিরোধী প্রার্থীদের উপরে চাপ সৃষ্টি করা নিয়েও বলেছেন. আন্তর্জাতিক মানবাধিকার রক্ষা সংস্থা গুলি সেই দেশের সংখ্যা লঘু রোহিঙ্গা মুসলিম সম্প্রদায়ের উপরে কঠোর কাজকর্ম নিয়ে খবর দিয়েছে. মানবাধিকার রক্ষা কর্মীদের মতে, সামরিক বাহিনীর লোকরা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ চালিয়েই যাচ্ছে.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিন্তু এই ধরনের দোষারোপের ক্ষেত্রে তাদের স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক শান্ত হয়েই প্রতিক্রিয়া করছে. এর সাক্ষ্য হিসাবেই – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও মায়ানমারের মধ্যে সম্ভাব্য সামরিক যোগাযোগ নিয়ে খুবই গুরুত্ব সহকারে আলোচনা, যা কিছুদিন আগে নেইপিডো শহরে পেন্টাগনের প্রতিনিধিরা করেছেন, তাকে বলা হচ্ছে. সোনার কেউটে নামের মহড়ায় মায়ানমারের সামরিক পর্যবেক্ষকদের আমন্ত্রণ মানবাধিকার রক্ষা বিষয়ে মায়ানমারে উন্নতির জন্য যোগ না করে, যা বলা উচিত্ হবে খুবই সামান্য হয়েছে – বরং বলা যেতে পারে প্রাথমিক ভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় নিজেদের সামরিক রাজনৈতিক মর্যাদা বৃদ্ধির কারণেই করা হয়েছে, - এই কথা উল্লেখ করে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর সুদূর প্রাচ্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ডেপুটি ডিরেক্টর সের্গেই লুজিয়ানিন বলেছেন:

“আমেরিকা থাইল্যান্ডের সোনার কেউটে সামরিক মহড়ায় মায়ানমারকে আমন্ত্রণের অর্থ হল ওয়াশিংটনের তরফ থেকে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়াতে নিজেদের অবস্থান নিয়ে উদ্বেগের ফল, যখন চিনের প্রভাব বাড়ছে, তখন. আর ওয়াশিংটন ও বেশ কিছু অন্য দেশ, যারা চিনকে ভয় পাচ্ছে, তারা তৈরী হয়েছে বেশী করে ঘনিষ্ঠ হয়ে সহযোগিতা করার জন্য, এমনকি তারা তৈরী আছে এই এলাকায় ছোটখাট সামরিক রাজনৈতিক গোষ্ঠী তৈরীর জন্যও”.

বিশেষজ্ঞরে মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে যদি মিট রোমনির জয় হয়, তবে এই প্রবণতা আরও বেশী উদ্বেগের কারণ হবে. এখানে এই এলাকায় বেশ কিছু চোট ন্যাটো তৈরী হওয়ার মতো ঘটনা পরম্পরাকেও বাদ দেওয়া যেতে পারে না, যাদের মূল লক্ষ্য হবে চিনকে আটকে রাখা. এই ধরনের একটা জোট ইতিমধ্যেই তৈরী হয়ে রয়েছে – এটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মধ্যে জোট. অন্য একটা হতে পারে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়াতে, যেখানে দেশ গুলি যারা চিনের অর্থনৈতিক প্রভাবের জন্য উদ্বিগ্ন ও তাদের এলাকা সংক্রান্ত বিবাদে অনমনীয় অবস্থান দেখেও শঙ্কিত, তারাই ওয়াশিংটনের সাথে আরও বেশী করে সহযোগিতা করতে যেতে পারে.