মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে ছাড়া ১ বছর কাটিয়ে দিল লিবিয়া. ৪২ বছর ধরে লিবিয়াকে শাসন করা এই নেতা ২০১১ সালের ২০শে অক্টোবর বিদ্রোহীদের হাতে নিহত হয়েছিলেন. নিজের শহর সিরতেই নিহত হন লিবিয়ার এই নেতা. তার মৃত্যুর ১ বছর পূর্ণ হওয়ার মধ্য দিয়ে তাকে হত্যা করা নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে.

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ দাবী করেছে যে, ন্যাটোর বিমান হামলায় গাদ্দাফির মৃত্যু হয় নি. বরং বিদ্রোহীরা তাকে আটক করে তার উপর নির্মম নির্যাতন চালায়. এরপরে গাদ্দাফিসহ তার ছেলে ও আরও বেশ কয়েকজন অনুগত সেনাদের গুলি করে হত্যা করা হয়.

তবে, গাদ্দাফিকে হত্যার পিছনে ফ্রান্সের ভূমিকা ছিল বলেও প্রমাণ পাওয়া গেছে. তবে সে ক্ষেত্রে প্যারিস থেকে সরাসরি নির্দেশনা দেওয়া হয় নি.

মুয়াম্মার গাদ্দাফির নিহত হওয়ার ঘটনার তদন্ত করতে গিয়েই এ সংক্রান্ত বেশ কিছু রহস্য উদঘাটিত হয়. আহত গাদ্দাফি যে স্থান থেকে লুকিয়ে ছিল সেখান থেকে ওমরান বেন শাবান নামের এক বিদ্রোহীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়. লিবিয়ার ক্ষমতাচ্যুত নেতার অনুগতদের গুলিতেই শাবানের মৃত্যু হয়েছিল.

লিবিয়ায় ক্ষমতায় আসা নতুন সরকার ওই ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের কোন প্রক্রিয়ায়ই গ্রহণ করে নি. তবে সম্প্রতি লিবিয়ায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিহত হওয়ার পরই পুরোপুরি নিশ্চিত করে জানা গেল যে, দেশের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে নেই. এমনটি মনে করছেন প্রাচ্যতত্ত্ব ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ সেরগেই দেমিদেনকো. রেডিও রাশিয়াকে তিনি বলেন, “লিবিয়ায় এখনও ওই পুরানো প্রথারই চর্চা করা হচ্ছে. আমরা পর্যবেক্ষণ করে দেখেছি যে, গাদ্দাফির শাসনামলে যে কাঠামো ছিল তার কোনই পরিবর্তন হয় নি. এখন সেখানে পার্লামেন্ট ও সরকার আছে কিন্তু তা শক্তিশালী নয়. দেশ পরিচালনার নতুন কাঠামো বর্তমান সরকার যে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে বা ভবিষ্যতেও যে করার যোগ্যতা হবে তা বলা কঠিন. লিবিয়া হচ্ছে বিদ্রোহীদের শক্ত ঘাঁটি. মুয়াম্মার গাদ্দাফির শাসনকাল থেকেই তা সক্রিয় ছিল এবং বর্তমানে দেশের সর্বক্ষেত্রেই প্রভাব খাটাচ্ছে. সরকার শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে চলছে এবং দেশ তা চলছে সম্পূর্ণ ভিন্ন গতিতে”.

সেরগেই দেমিদেনকো মনে করছেন যে, সোমালিয়ার মতই দেশ ভাগ হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে লিবিয়ার. কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি মন্তব্য করা হচ্ছে. বিরোধীদের অন্যতম ঘাঁটি বানি ভালিদ শহরে সেনাবাহিনীর ভারি সাঁজোয়া যান ও সৈন্যদের মোতায়েন করা হয়েছে. এদিকে এ সপ্তাহে গাদ্দাফির পক্ষে বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে. লিবিয়ার জনগনের মধ্যে এখন কোন ঐক্য নেই. রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে এ মন্তব্যে করেছেন আরব বিষয়ক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ও লিবিয়ায় নিযুক্ত রাশিয়ার সাবেক রাষ্ট্রদূত আলেক্সেই পাদছেরোভ. তিনি বলেন, “অনেক কিছুরই পরিবর্তন ঘটেছে. তবে এ ক্ষেত্রে যে ভালোর দিকেই পরিবর্তন ঘটেছে আমি তা বলতে পারব না. বিগত ৪০ বছরে লিবিয়া নিজের ইতিহাসে অন্যতম সবচেয়ে একটি কঠিন সময়ের মুখোমুখি হয়েছিল এবং আজকের দিন পর্যন্ত ওই সংকট বয়ে চলেছে”.

অধিকাংশ বিশেষজ্ঞরা বর্তমানে ধারণা করছেন যে, গাদ্দাফির সমর্থকরা নতুন নেতার অনুগত হয়ে গেরিলা যুদ্ধ শুরু করতে পারে. বর্তমান সরকারের প্রতি তা নতুন করে হুঁশিয়ারি সংকেতই বলা যেতে পারে. তবে মুয়াম্মার গাদ্দাফির চেয়ে বর্তমান সরকারের জনপ্রিয়তাও আবার কম নয়. কিন্তু তা বিদেশী শক্তির মিত্র দেশগুলোর কাছে তেমন গুরুত্বের বিষয় নয়. তাদের কাছে লিবিয়া হচ্ছে নিজেদের তৈরী চলচিত্রের মত. তারা এ অঞ্চলে শুরু করেছে নতুন কর্ম কৌশল এবং তা হচ্ছে সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি বাশার আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করা.