মস্কো একেবারে প্রথম থেকেই যে বিষয়ে সাবধান করেছিল সেই সিরিয়ার যাত্রীবাহী বিমানকে যুদ্ধবিমান দিয়ে তুরস্কের আঙ্কারায় রুশ নাগরিক সহ নামিয়ে সম্পূর্ণ ভাবে আইন সঙ্গত রেডিও রাডার ব্যবস্থার যন্ত্রপাতি বাজেয়াপ্ত করা নিয়ে আন্তর্জাতিক স্ক্যান্ডাল তৈরীর চেষ্টা শেষ অবধি একেবারেই সাধারন প্ররোচনার ঘটনায় পরিণত হয়েছে. গত বৃহস্পতিবারে জানা গিয়েছে যে, তুরস্কের সরকার আর এই মালপত্রের আইন সঙ্গতি নিয়ে সন্দেহ করছে না, এখন তারা সমস্যা দেখছে শুধু তা পরিবহনের সম্বন্ধে অগ্রিম জানান নিয়ে. বিমানের মধ্যে কিছু যুদ্ধের রসদের সম্বন্ধে ঘোষণা বাস্তবে ভুয়া, এই খবর রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র আলেকজান্ডার লুকাশেভিচ দিয়েছেন.

সিরিয়ার যাত্রীবাহী বিমানকে ঘিকে স্ক্যান্ডাল হয়তো খুব একটা মনোযোগ দেওয়ার মতো কারণ হত না, যদি তা না একটা নিয়মিত লক্ষণের কথা বলতো. এই ধরনের প্ররোচনা খুবই নিয়মিত ভাবে সেই সব লোকদের তরফ থেকে দেওয়া হচ্ছে, যাদের নিজেদেরই বিবেক শুদ্ধ নয়. চোরই সবচেয়ে জোরে “চোর পালাল!” বলে চিত্কার করে থাকে. রাশিয়াকে লক্ষ্য করে অভিযোগ বেশ কিছু পশ্চিমের দেশের পক্ষ থেকে সিরিয়ার বিরোধী পক্ষকে অস্ত্র সরবরাহের বেআইনি কাজকর্মকে চাপা দেওয়ার কারণেই করা হয়েছিল. তার মধ্যে আবার এই বিরোধীদের মধ্যে বেশী করেই এখন রয়েছে অনেক চরমপন্থী মৌলবাদী, এই কথা রেডিও রাশিয়াকে বলেছেন সিরিয়ার জেনারেল মুহাম্মেদ ইসা

“চলুন আমরা খোলাখুলি কথা বলি: সিরিয়াতে যা হচ্ছে – এটা কোন বিপ্লব নয়, যা অনেকেই বিশ্ব জুড়ে ধরে বসে আছেন আর যে ভাবে এটাকে পশ্চিম থেকে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে. এখানে কথা হচ্ছে এক সার্বভৌম দেশকে সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর তরফ থেকে প্রবল ভাবে আক্রমণের, যাদের কিনা আবার দেশের বাইরে থেকে অর্থ সাহায্য করা হচ্ছে. সিরিয়াতে সেই সমস্ত গোষ্ঠীর লোক রয়েছে, যেমন, বোকা হারাম ও তালিবান. একই সঙ্গে এখানে রয়েছে ঝুণ্ড আশ- শাম গোষ্ঠীর যোদ্ধারা, যারা আল- কায়দা দলের প্রশাখা. বিভিন্ন রকমের আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র বিশাল প্রবাহের মতো দেশে ঢুকছে. এই সব সরবরাহের পেছনে রয়েছে সৌদি আরব, কাতার, আর তাদের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমের দেশ. এমনকি অস্ট্রেলিয়ার গুপ্তচর বাহিনীর লোকরাও এই সব প্রশ্নের সমাধান করছে. আর এই সব অস্ত্র রসদের জন্য এক রকমের অস্থায়ী ঠিকানা হয়েছে তুরস্কের এলাকা. আঙ্কারা বাস্তবে সিরিয়াতে এই সব জিনিষ বেআইনি ভাবে পাচারের কাজে সহায়তা করছে”.

একই ধরনের মত প্রকাশ করেছেন ওয়াশিংটনের নিকটপ্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের প্রধান ডেভিড পোলক, তিনি বলেছেন:

“আমি মনে করি যে, সিরিয়ার বিরোধী পক্ষকে কিছু আরব দেশ থেকে সামরিক ও আর্থিক সাহায্য করা হচ্ছে, যেমন সৌদি আরব. আর অবশ্যই তুরস্কের পক্ষ থেকে আবার সিরিয়ার বিরোধী পক্ষকে করা হচ্ছে রসদ ও নানা রকমের প্রয়োজনীয় জিনিষের সরবরাহ. সিরিয়ার ভেতরে কিছু জায়গায় নানা রকমের গোষ্ঠী কাজ করছে, যারা নিজেদের ঐস্লামিক বলে মনে করে. আর তাদের বাইরে থেকে অর্থ সাহায্য দেওয়া হচ্ছে”.

ওয়াশিংটনের যুদ্ধ সমস্যা গবেষণা ইনস্টিটিউটের কর্মী এলিজাবেথ ও বেইজি মনে করেন যে, আল- কায়দা দলের লোকদের সংখ্যা সিরিয়াতে তুলনামূলক ভাবে বেশী নয়: প্রায় প্রতি পঞ্চাশ হাজার বিরোধী যোদ্ধার মধ্যে হাজার খানেক করে. কিন্তু সিরিয়ার বিরোধী পক্ষের মধ্যে জেহাদী লোকজনদের অনুপ্রবেশের বিপদ অনেক বেশী রয়েছে, ইজিপ্ট, লিবিয়া বা টিউনিশিয়ার চেয়ে. তিনি তাই বলেছেন:

“আমি মনে করি যে এই বিরোধ আরও বেশী করেই সামরিক ক্ষেত্রে ছড়িয়ে যাচ্ছে. অনেক লোকের স্বার্থ এখানে জড়িত, সকলেই নিজেদের আলাদা উদ্দেশ্য নিয়ে এখানে হাজির, যারা চায় সিরিয়ার ভেতরে যুদ্ধ করতে. আর অবশ্যই আরও বড় সরকারি অপারেশন করা হচ্ছে নিজেদের লক্ষ্য নিয়ে, তার মধ্যে রয়েছে তুরস্ক অথবা ফ্রান্সের সরকার, যারা এখন বিপ্লবী কমিটি গুলির দিকে নজর দিয়েছে. জুলাই মাসের মাঝামাঝি আমরা প্রথমবার দেখতে পেয়েছি যে, তুরস্কের সীমান্তের কাছে শুরু হয়েছে বড় মাপের তুরস্কের সামরিক বাহিনীর সক্রিয় চলাফেরা. এই মুহূর্ত থেকেই সিরিয়ার প্রশাসন এই সব এলাকার উপরে খুবই কম নিয়ন্ত্রণ রাখতে সক্ষম হয়েছে আর তার ফলে আংশিক ভাবেই শুধু মানুষ আর মালপত্রের চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে”.

পশ্চিম নিজেদের স্থৈর্য হারিয়েছে ও নিজেদের মাত্রাজ্ঞানও খুইয়েছে আর এবারে চেষ্টা করছে সিরিয়ার ট্র্যাজেডির দায়িত্ব নিজেদের অসুস্থ মাথার থেকে নামিয়ে সুস্থ মাথার উপরে চাপাতে. আইন সঙ্গত মালপত্রকে দেখাতে চাইছে এক রকমের গুপ্ত ব্রহ্মাস্ত্র বলে যা যুদ্ধের ধারা পাল্টে দিয়ে আসাদের জয়কে সুনিশ্চিত করতে পারে.