বুধবারে শ্রীলঙ্কার সরকার ঘোষণা করেছে যে, তারা “তামিল ইলম স্বাধীন করার ব্যাঘ্র পুঙ্গবদের” মধ্যে গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার পরে বেঁচে থাকা সবচেয়ে মুখ্য নেতা সেলভারসা পথ্মনাথন কে আর জেলে বন্দী রাখে নি. সে এখন বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি হয়ে দেশের উত্তরাঞ্চলে কাজ করছে. ঠিক কোথায়, তা বলা হয় নি. কিন্তু এর আগে শ্রীলঙ্কার সংবাদ মাধ্যম থেকে পাওয়া কিছু খবর থেকে বোঝা গিয়েছে যে, সে কিলনোচ্চি নামের জায়গাতেই রয়েছে – এটা সেই জায়গা যেটা উত্তরের রাজ্য জাফনা থেকে সরকারি ফৌজ তামিল জঙ্গীদের তাড়িয়ে দেওয়ার পরে তারা নিজেদের রাজধানী হিসাবে ঘোষণা করেছিল.

২৬ বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধের বছর গুলিতে পথ্মনাথন, যে “কেপি” নামের সংক্ষিপ্ত ডাকনামেও কুখ্যাত ছিল, সে তামিল জঙ্গী গোষ্ঠীর জন্য অস্ত্র ও রসদ সরবরাহের দায়িত্বে ছিল. শ্রীলঙ্কার সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী সে একই সঙ্গে বেআইনি অস্ত্র পাচার ও মাদক পাচারের ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত ছিল. আর ভারতবর্ষে তাকে এখনও তাকে খোঁজ করা হচ্ছে ১৯৯১ সালে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর তামিল “টাইগারদের” এক আত্মঘাতী জঙ্গী মহিলার বোমা বিস্ফোরণের ফলে নিহত হওয়ার ঘটনার সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করা হয়েছে বলেই.

তামিল ইলমের নেতা বলে পথ্মনাথন স্বীকৃতী পেয়েছিল ২০০৯ সালের মে মাসে, যখন এই গোষ্ঠীর প্রথম থেকেই অপরিবর্তিত নেতা ভেলুপিল্লাই প্রভাকর ও বেশীর ভাগ বড় কম্যান্ডার নিহত হয়েছিল, তখন থেকে. কয়েক মাস ধরে সে লুকিয়ে ছিল বিদেশে, কিন্তু ২০০৯ সালের আগষ্ট মাসে তাকে মালয়েশিয়া দেশে গ্রেপ্তার করে শ্রীলঙ্কার সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল. শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ দপ্তরের প্রধান মুখপাত্র বুধবারে যেমন বলেছেন যে, “এটা আমাদের সকলের জয়. সে এক সময়ে আমাদের বিরুদ্ধে ছিল, আর ছিল তামিলদের নেতা. এখন সে আমাদের দেশের উন্নতির জন্যই কাজ করছে ও আর এটা করছে সম্পূর্ণ স্বাধীন ভাবেই”. কিছু পর্যবেক্ষক উল্লেখ করেছেন যে, ২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কার উত্তরাঞ্চলে, যেখানে ২০০৯ সাল অবধি যুদ্ধ হয়েছিল, সেখানে নির্বাচন হতে চলেছে স্থানীয় প্রশাসনের. আর পথ্মনাথন মনে করা হয়েছে যে, প্রায় উত্তর অঞ্চলের মুখ্য মন্ত্রী হতে পারে.

পথ্মনাথন ও তাকে জড়িয়ে ইতিহাস খুবই অস্পষ্ট, এমনকি তার সেই ধাঁধা হয়ে থাকা মালয়েশিয়াতে ধরা পড়া নিয়ে অপারেশন ছাড়াও অনেক কিছু, তাই রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

“প্রথমতঃ, একেবারেই বোধগম্য নয় যে, কেন এই লোক, যাকে ইন্টার পোল ও প্রতিবেশী ভারতের গুপ্তচর বাহিনী খুঁজছে, সে হঠাত্ করেই স্বাধীন হয়ে গেল. এই প্রসঙ্গে বেশ কয়েকশো তামিল জঙ্গী, যারা এখনও জেলে বন্দী হয়ে আছে – এমনকি যাদের অনেকের জন্য এখনও মামলা তৈরী হয় নি, তাদের কেন ছাড়া হল না.

বোধহয়, একজন প্রাক্তন জঙ্গী নেতাকে ছেড়ে দিয়ে শ্রীলঙ্কা সরকার দেখাতে চেয়েছে যে, তারা সক্রিয়ভাবে জাতীয় শান্তি প্রক্রিয়া বিষয়ে সহযোগিতা করতে চায় – কারণ তামিলদের সঙ্গে সম্পূর্ণ ও শেষ অবধি শান্তি প্রক্রিয়া করতে না চাওয়ার জন্যেই সেই দেশের সরকারকে সারা ক্ষণই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার রক্ষা সংস্থা ও এমনকি সেই ভারতের সংস্থা গুলির কাছ থেকেই সমালোচনা শুনতে হচ্ছে. কিন্তু এই নতুন ভঙ্গী শ্রীলঙ্কার সমস্ত লোকই ইতিবাচক ভাবে মেনে নিতে পারেন নি. দেশের পার্লামেন্টের বিরোধী দল, জাতীয় তামিল জোটের নেতা সুরেশ প্রেমচন্দ্রন ঘোষণা করেছেন যে, “আমরা কেপি নামের ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত ভাবে কোন অভিযোগ করছি না, কিন্তু যদি তাকে কোন রকমের অভিযোগ না করে ছেড়ে দেওয়া যেতে পারে, তবে জেলে বন্দী থাকা ৮০০ তামিলের ব্যাপারে কি বলা হবে? যদি সরকার সিরিয়াস ভাবেই শান্তি নিয়ে কাজ করতে চায়, তবে তারা সেই তামিলদের দিয়েই শুরু করতে পারত, যারা এখনও জেলে””.

অন্য দিক থেকে, দেশের প্রধান বিরোধী দল – সংযুক্ত জাতীয় পার্টি – দেশের সরকারকে অপরাধীদের সঙ্গে হাত মেলানোর জন্য অভিযুক্ত করেছে.

ভারতের সরকার অবশ্য এখনও সেই লোক যাকে ভারতে সন্ত্রাসবাদী কাজে সহায়তা করার জন্য খোঁজা হচ্ছে, তার সম্বন্ধে এই ছেড়ে দেওয়ার বিষয় নিয়ে কোন মন্তব্য করে নি. কিন্তু পরিস্কার বোঝা যাচ্ছে যে, তামিল “টাইগারদের” নেতার জেল থেকে বের হওয়া যেমন শ্রীলঙ্কার আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে খুবই সিরিয়াস পরিনাম দেবে, তেমনই আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও তাদের ইমেজ নষ্ট করবে. যদি এর আগে বিদেশে (তার মধ্যে ভারতেও) শ্রীলঙ্কার সরকারকে তাদের প্রাক্তন জঙ্গীদের বিরুদ্ধে বেশী করে করা কঠোর কাজকর্মের জন্য সমালোচনা করা হয়ে থাকে, তবে এখন অভিযোগ হতে পারে একেবারেই উল্টো রকমের.