উত্তর অতলান্তিক জোট সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে খুবই প্রসারিত সামরিক প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা করছে. তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগ্রাসনের চেষ্টা করছে আফ্রিকার একটি দেশ. কিন্তু ন্যাটো জোটের প্রতিনিধিরা স্বীকার করেছেন যে, আসলে জোটের শক্তি তৈরী হচ্ছে রাশিয়া, চিন অথবা ইরানের সাইবার হামলার মোকাবিলা করার জন্য.

এই বিষয়ে প্রবন্ধ প্রকাশ করে রুশ সংবাদপত্র “কমেরসান্ত” উল্লেখ করেছে যে, রুশ প্রতিরক্ষা দপ্তরও কিছু দিন আগে তথ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে টেন্ডার আহ্বান করেছিল. অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর আগ্রহের বিষয় হল বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টি ভাইরাস সিস্টেম পার করার ব্যবস্থা, অপারেশন সিস্টেম সুরক্ষিত করার উপায়. এই টেন্ডারে অংশ নেওয়ার জন্য রুশ নাগরিকদের আহ্বান করা হয়েছিল, যারা দেশের স্বার্থে খুবই প্রসারিত ভাবে বৈজ্ঞানিক- প্রযুক্তি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা রাখে ও তার জন্য নিজেদের থেকেই উত্সাহিত. রাশিয়ার সরকারের আগ্রহের গুরুত্ব রেডিও রাশিয়াকে অনেক বিশেষজ্ঞই সমর্থন করে মন্তব্য করেছেন, তাঁদের মধ্যে “গ্রোটেক” নামের কোম্পানীর ব্যবসা বিকাশ বিষয়ে প্রধান আলেকজান্ডার ভ্লাসভ বলেছেন:

“সাইবার অস্ত্র খুবই দ্রুত উন্নতি করছে. এই বিষয় বর্তমানে আমাদের দেশের সরকারি সংস্থা গুলির মনোযোগের কেন্দ্রে রয়েছে. কারণ এখন সকলেই বুঝতে পারেন যে, এই বিষয়ে দেরী করার অর্থ হল নিশ্চিত মৃত্যুর মতো. এখন প্রতি সেকেন্ডই হিসাবের মধ্যে ধরা. আর যদি খুবই নির্দিষ্ট কোন ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো গুলির নিরাপত্তার জন্য নেওয়া না হয়, তবে, খুবই সম্ভব যে, আগামী কাল সকালে আমরা জেগে উঠব এক প্রস্তর যুগে – আমাদের বিদ্যুত নেই, মোবাইল যোগাযোগ ব্যবস্থা কাজ করছে না, আমাদের সমস্ত রকমের নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাই বন্ধ হয়ে গিয়েছে ইত্যাদি”.

রাশিয়া সব মিলিয়ে, তৈরী আছে এই ধরনের ঘটনার জন্যই. ঐতিহ্য মেনে শেখা প্রযুক্তি প্রশিক্ষণের গুণমান, জাতীয় গণিত বিদ্যা প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার বিতর্কাতীত উত্কর্ষ, তাকে খুবই সিরিয়াস সাইবার প্রতিদ্বন্দ্বী হতে সুযোগ দিয়েছে. রেডিও রাশিয়াকে এই ধরনের ধারণা এক সাক্ষাত্কারে তথ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে স্বাধীন বিশেষজ্ঞ আলেকজান্ডার পিসেমস্কি বলেছেন

“আমি মনে করি যে, ন্যাটো জোটের পক্ষ থেকে রাশিয়াকে দুর্বল ক্ষমতা সম্পন্ন শত্রু হিসাবে দেখাটা খুব একটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না. রাশিয়া সব সময়েই বুদ্ধিমান নাগরিকদের জন্য বিখ্যাত ছিল. বর্তমানের তথ্য প্রযুক্তি ও উচ্চ প্রযুক্তি আমাদের যথেষ্ট ভাল ভাবেই উন্নতি করছে. তার মধ্যে রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রেও... সেই সব আবিষ্কার, যা ব্যবসায়িক সংস্থা ও দেশের সরকারের পক্ষ থেকে করা হচ্ছে – এটা রাশিয়ার পক্ষ থেকে সেই ন্যাটো জোটের জন্যই ঝুঁকির ভাগ বাড়িয়ে দেয়. রাশিয়ার অবশ্যই বিভিন্ন ধরনের সাইবার আক্রমণ আটকানোর জন্য পরিকল্পনা রয়েছে, সেই বিষয়ে প্রত্যুত্তর দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে কিন্তু যে কোন ক্ষেত্রেই প্রয়োজন... আমাদের দেশের সাইবার নিরাপত্তা সাইবার ক্ষেত্রে করার”.

সাইবার যুদ্ধ – এটা আরও একটা মানসিক আক্রমণ. কয়েকদিন আগে এই ধরনের একটি আক্রমণের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র. এখানে কথা হচ্ছে উইকিলিক্স সাইটে বিপুল পরিমাণে গোপনীয় তথ্য প্রকাশ নিয়ে. বহু সংখ্যক বিশেষজ্ঞ আধুনিক সাইবার যুদ্ধের উদাহরণ হিসাবে তথাকথিত আরব বসন্তের কথা বলে থাকেন – নিকটপ্রাচ্যের সীমানা পার হয়ে যাওয়া বহু দেশে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের কথা, যা বহু রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের সৃষ্টি করেছে. আবারও আলেকজান্ডার ভ্লাসভ এই সম্বন্ধে বলেছেন:

“আমি এখানে সাইবার অস্ত্রের কথা বলতে চাই না. আমি বলতে চাই খুবই ভাল করে পরিকল্পনা করে ও খুবই বড় ধরনের মানসিক ভাবে প্ররোচনা মূলক আয়োজনের কথা. আরব বসন্ত যারা শুরু ও আয়োজন করেছে, তারা খুবই ভাল করে এই কাজ করেছে. যদি সাইবার অস্ত্র অনেক বেশী প্রসারিত ভাবে দেখা হয়, তবে তার মধ্যে নানা রকমের তথ্য সংক্রান্ত আক্রমণের কথা ও ভাবা যেতে পারে – সবই, যা সোভিয়েত দেশের সময়ে আদর্শ রক্ষার যুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছিল. আমার মনে হয় যে, সেখান থেকেই আমরা ন্যাটো জোটের প্রধান শত্রুর তালিকায় চলে এসেছি. আর সেটা সাইবার ক্ষেত্রে শত্রু না কি এমনিতেই শত্রু – খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়”.

মনে করা হয়ে থাকে যে, এই খানেই ন্যাটো জোটের স্ট্র্যাটেজি যারা করছে, তাদের এটাই প্রধান ভুল. সাধারন জ্ঞানই দেখিয়ে দেয় যে, আমেরিকার লোকদের সবচেয়ে শেষে নিজেদের প্রধান আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আলোচনার সহকর্মী দেশকে ভয় পাওয়া দরকার. কিন্তু জোট সংক্রান্ত বোধ ও ত্রাণকর্তার ভূমিকা সংক্রান্ত যুক্তি প্রায়ই অন্যান্য ধারণাকে ছাপিয়ে যায়. আর আমেরিকার লোকরা শুরু করছে এক অশরীরীর সঙ্গে যুদ্ধের মহড়া, কোন রকমের খেয়ালই না করে যে, তাদের সামনে এখন সত্যিকারের সামরিক –অর্থনৈতিক বিপদ উপস্থিত রয়েছে.