প্রাক্ নির্বাচনী পর্যায়ে বারাক ওবামা ও মিট রোমনির আরও এক রাউণ্ড টেলিভিশন বিতর্ক বাকী রয়েছে. এর পরে ৬ই নভেম্বর অবধি হাত বাড়িয়ে ছোঁয়ার মতো সময় থাকবে. এই দিনই এই বছরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিন পড়ছে. ঐতিহ্য মেনেই তা হবে লিপ ইয়ার বছরের নভেম্বর মাসের প্রথম মঙ্গলবারে, যা পড়ে সেই মাসের প্রথম সোমবারের পরে. এটা সেই দিনেই, যখন রিপাব্লিকান বা ডেমোক্র্যাটিক দলের লোকেদের এক দল তাদের প্রার্থী প্রতিনিধিকে পাবে দেশের রাষ্ট্রপতি হিসাবে.

১৭৮৭ সাল থেকেই আমেরিকার নির্বাচন ব্যবস্থা প্রায় বদল হয় নি, আর আগের মতই তা হয় রাষ্ট্রপতি ও উপ রাষ্ট্রপতিকে জোড়া হিসাবে রাজ্য গুলি ও তাদের তৈরী নির্বাচক মণ্ডলী নির্বাচন করে থাকে. প্রসঙ্গতঃ, এই সব নির্বাচকদের মত দেশের বেশীর ভাগ নাগরিকের মতের থেকে আলাদাও হতে পারে. এটা কিছুটা বুনো দেখায়, কিন্তু সরকারি ভাবে রাষ্ট্রপতিকে এখন নির্বাচন করেন ৫৩৮ জন ব্যক্তি. এই সংখ্যা তৈরী হয়ে দেশের কংগ্রেস ও সেনেটের সমস্ত সদস্য ও রাজধানী কলম্বিয়া স্বয়ং শাসিত এলাকা থেকে তিন জনকে যোগ করে. সব চেয়ে কম নাগরিক থাকা রাজ্য ওয়াইওমিং - এর প্রতিনিধিত্ব করেন তিনজন নির্বাচক আর সবচেয়ে বেশী নাগরিক থাকা রাজ্য ক্যালিফোর্নিয়া থেকে থাকেন ৫৫ জন নির্বাচক. প্রত্যেক রাজ্যের নাগরিকরা তাঁদের পছন্দের কোন না কোন দলের রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থীকে ভোট দেন না, তাঁরা সেই দলের নির্বাচকদের তালিকায় ভোট দিয়ে থাকেন. বেশীর ভাগ রাজ্যেই বিজয়ী সমস্ত ভোট পায় – এই রকমের নিয়ম খাটে: যদি বেশীর ভাগ নাগরিক, ধরা যাক, রিপাব্লিকান দের ভোট দিয়ে থাকে, তবে সেই রাজ্যের সমস্ত নির্বাচকই নিজে থেকেই রিপাব্লিকান ভোট ব্যাঙ্কে জমা পড়েন.

এখানে মনে করিয়ে দেওয়া আরও যেতে পারে যে, তথাকথিত প্রাইমারিজ বা পার্টির জন্য প্রাথমিক নির্বাচনের প্রচার শুরু হয়ে যায়, যখন ডেমোক্র্যাটিক ও রিপাব্লিকান দলের লোকরা ঠিক করেন যে, তাঁরা কাকে নিজেদের রাষ্ট্রপতি পদের জন্য প্রার্থী করবেন.

এই সব কি কারণে দরকার? যাতে দেশের নাগরিকদের উপরে নিয়ন্ত্রণ রাখা সম্ভব হয়, এই রকম বিশ্বাস নিয়েই রাজনীতিবিদ দিমিত্রি দে কশকো বলেছেন:

“কোন সন্দেহ নেই যে, এই পুরনো নির্বাচনের ব্যবস্থা সেই কারণেই রয়েছে, যাতে সেই সমস্ত লোকের স্বার্থ সংরক্ষিত থাকে, যারা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভাবে দেশের ক্ষমতার সমস্ত চাবিকাঠি হাতে রেখেছে, যাতে তারা নিজেদের প্রভাব বজায় রাখতে পারে. আর এই প্রভাব, আর প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষমতা. এটা আমেরিকার ব্যবস্থায় করা অনেক সহজ, ইউরোপের চেয়ে – যেমন ফ্রান্সের”.

আমেরিকার ব্যবস্থা দেশের অলিগার্খ (প্রভাবশালী ব্যবসায়ী কুল) দের এক রকমের গণতান্ত্রিক ভাবে নিজেদের স্বার্থ বজায় রাখতে দিচ্ছে! হাল্কা করে বললে জর্জ বুশ জুনিয়রের ২০০০ সালের মোটেও স্পষ্ট মনে হয় নি, এই রকমের একটা জয়ের পরে, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রেই কম লেখালেখি হয় নি যা দেশের রাজনৈতিক ভাবে সক্রিয় অংশের দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার উপরে হতাশার কথা প্রকাশ করেছিল. সব মিলিয়ে এর থেকে সিদ্ধান্ত: বেশীর ভাগ সাধারন আমেরিকার নাগরিকদের জন্য এই ভোট দেওয়ার অধিকারের কোন বিশেষ অর্থ নেই. আর সমস্ত আমেরিকার গণতান্ত্রিক মডেল, এমনকি নির্বাচনকে ধরলেও, - এটা ধনীদের আমোদের বিষয়. আর বাকীদের জন্য – স্রেফ একটা পতাকা ফেস্টুন ও আশ্বাস বাণী সহ একটা শো মাত্র.