এই বাহিনীটা সম্পর্কে তেমন কিছু প্রচার করা হয় না. সেনাদের চোখ ছাড়া সারামুখ কালো মুখোশে ঢাকা. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে পরেই এই ব্রিগেড গঠণ করা হয়েছিল. এখন যুদ্ধান্বেষী সাঁতারুরা সীমান্ত পাহারা দেয় ও দেশের গণ্যমান্য রাজনীতিকদের নিরাপত্তা বজায় রাখে.

স্থলভুমিতে আছে পদাতিক সীমান্তরক্ষীরা, আকাশের নিরাপত্তা রক্ষা করে পাইলটরা. আর জলের তলায় আমাদের কোনো নিয়মিত কর্মশালী ব্রিগেড নেই. তাই কোনোরকম হুঁশিয়ারি পেলে আমরা তক্ষুনি কাজে নামি.

সঠিক ফর্মে সবসময় থাকার জন্য ওরা নিয়মিত অনুশীলন করে. ওরকম ট্রেণিং সম্প্রতি হয়ে গেল প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবাহিনীতে

ওদের আছে দ্রুতগতির নৌকা, যার ইঞ্জিনের ১৫০ হর্স পাওয়ার. নৌকাগুলির সাহায্যে যুদ্ধান্বেষী সাঁতারুরা প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবাহিনীর সীমানা সুরক্ষা করে. যেমন জাহাজ থেকে দেখা গেছে বুদবুদ জলে. সাঁতারুরা তক্ষুনি সেই এলাকায় পৌঁছায়. ওদের শিরস্ত্রাণে আছে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস, যার দৌলতে জলে ওদের বুদবুদের উত্পত্তি হয় না. ডুবুরি ব্রিগেড পৃথিবীতে অন্যতম সেরা. প্রতিপক্ষের সব অস্ত্রশস্ত্র, প্রযুক্তি আমাদের ডুবুরিরা মনোযোগের সাথে অধ্যয়ন করে – বলছে সামরিক সাঁতারু আলেক্সেই.

আমাদের জানতেই হবে প্রতিপক্ষের কাছে কি আছে ও আমরা কিভাবে তাদের টেক্কা দিতে পারবো.

ধরা যাক প্রতিপক্ষকে আবিস্কার করা গেছে. বিশেষ ব্রিগেড প্রতিপক্ষের সাথে জলের তলায় লড়াই শুরু করে. ইস্পাতের সূঁচ দেওয়া বিশেষ একধরনের রাইফেল দিয়ে গুলি করা হয়. এমনকি ৩০ মিটার দূরত্ব পর্যন্ত, যখন জলের তলায় লক্ষ্য দৃষ্টিগোচর নয়, তখনো গুলি শত্রুর হাইড্রো কস্টিউম ভেদ করতে সক্ষম.

প্রত্যেকটি সামরিক সাঁতারু অল-রাউন্ডার. সে যেমন ডাঙায় তেমনই জলের নীচে যুদ্ধ করতে সক্ষম. তাছাড়া তারা মাইনও অচল করতে পারে. সামরিক সাঁতারু নিকোলাই বলছে, যে মাঝে মাঝে জলের তলায়ও মাইন ধ্বংস করতে হয়.

 

অন্তর্ঘাতবিরূদ্ধ যুদ্ধের অনেক প্রক্রিয়া. এটা শুধু জলের তলায় কাজকর্ম নয়. গোয়েন্দাদের তথ্যসংগ্রহ দিয়ে কাজ শুরু হয়. ডাঙায় কি ঘটছে, উপকূলে কি পরিস্থিতি. এই সবকিছু মিলে জানা যায় কোথায় অন্তর্ঘাতীরা বা সন্ত্রাসবাদীরা আছে.

সামরিক ডুবুরিদের ছাড়া কোনো অনুষ্ঠাণ হয় না, যেখানে বাড়তি নিরাপত্তার প্রয়োজন. সম্প্রতি ভ্লাদিভস্তোকে হয়ে যাওয়া এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলির সম্মেলনে কয়েকজন এরকম সামরিক ডুবুরি দিবারাত্র ডিউটি দিয়েছে. তারা প্রত্যেকদিন সব প্রণালী ও দ্বীপ পরীক্ষা করে দেখতো. তারা যে কোনো পরিস্থিতির মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত ছিল. তবে সৌভাগ্যক্রমে কোনো বিপজ্জনক ঘটনা ঘটেনি.

দরকার হলে এই সামরিক ডুবুরিরা রাষ্ট্রপতির জাহাজের মতো যে কোনো উচ্চস্তরের জাহাজকে জলের তলায় পাহারা দিয়ে নিয়ে যেতে পারে. পার্থক্য শুধু একটাই – কেউ তাদের দেখতে পাবে না. সামরিক সাঁতারুরা সোমালির উপকূলে জলদস্যুদের কৌশল বুঝে কিভাবে তাদের দমন করতে হবে, সেটা বুঝে গেছে.