সুমেরুতে খনিজ তেল নিষ্কাশন করা সম্ভব কি? গ্রীনপিস পুরোপুরি এর বিরোধী. তাদের মতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তার প্রতিফল হবে অভাবনীয়. তবে রাশিয়ান বিশেষজ্ঞদের মতে সুমেরুরুতে খনিজ দ্রব্য নিষ্কাশন ও পরিবেশ রক্ষা করার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব.

রাশিয়ার একদম উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত বহু দ্বীপের মধ্যে একটা দ্বীপের নাম ‘লৌহ’. ওখানে সোভিয়েত আমলে এত জঞ্জাল জমানো হয়েছিল. তখন কেউ পরিবেশ সম্পর্কে ভাবেনি. এখন পরিস্থিতি বদলেছে. ২০১২ সালের গ্রীস্মকালে ফ্রান্স-জোসেফ প্রান্তরে আবর্জনা পরিষ্কার করার কাজ শুরু হয়েছে. এই প্রসঙ্গে ঐ অভিযানের নেতা আনাতোলি শেভচুক বলছেন.

প্রায় ১১৫ জন সেচ্ছাসেবী ছিল, ছিল বহু যন্ত্রপাতি. ওরা এ বছরেই সুফল দেখাবে. ওরা ৮ হাজার টন জঞ্জাল সরিয়েছে ও তা পরিস্কার করেছে, ৫০ হেক্টর দূষিত জমি, ৬০ হাজার টিনের ড্রাম তারা অপসারন করেছে. এটা বিরাট কাজ. এখন ওখান থেকে শেষ জাহাজটা ফিরছে ও যা এই বছরে পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তা বাস্তবায়িত করা গেছে.

সুমেরুর ব্যবহার হল অপরিহার্য প্রক্রিয়া. বিশেষজ্ঞদের মতে এই জায়গা না ছোঁয়া বোকামি হবে. ওখানে প্রচুর জ্বালানী মজুত আছে, যেমন ঊত্তর মহাসাগরে, তেমনই মাটির নীচে. শুধু রাশিয়া নয়, নরওয়ে, ক্যানাডা, ডেনমার্কও সুমেরু থেকে খনিজ তেল ও গ্যাস নিষ্কাশণ করতে উত্সুক. এই প্রসঙ্গে বলেছেন রাষ্ট্রীয় শক্তি নিরাপত্তা তহবিলের বিশ্লেষক ইগর ইউশকভ.

আমেরিকার প্রকৃতিবিদদের তথ্য অনুযায়ী আর্কটিকায় বিশাল খনিজ সম্ভার. ওখানে খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ও কন্ডেনসেট প্রচুর পরিমানে আছে. এবং এর কোনো বিকল্প নেই. তাছাড়া এমন একটা ভান্ডার, যার ভাগ নিতে চায় সারা দুনিয়া. এটা রাশিয়ার বিশ্ব-রাজনীতির জন্যে সমস্যা – ভবিষ্যতে আমাদের সুমেরুতে আমাদের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা করতে হবে.

উত্তরের প্রকৃতি ক্ষণস্থায়ী. ঐ এলাকাকে আয়ত্ব করার জন্য দরকার সবুজ সব প্রকল্প, যা প্রাকৃতিক ভারসাম্য ধরে রাখতে সক্ষম হবে. বিশেষজ্ঞদের মতে সুমেরুর সাংঘাতিক আবহাওয়ার জন্য দুর্ঘটনার ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়. প্রবল ঝড়ঝঞ্ঝা, গভীর কুয়াশা ও কয়েক মিটার গভীর বরফের কারনে খনিজ তেল নিষ্কাশন করা শক্ত. তাই সুমেরুতে সবকিছু কঠোর নিযন্ত্রণের মধ্যে রাখতে হয়. অবশ্যই কোনো প্রকল্পই পুরোপুরি শুদ্ধ হতে পারে না. তবুও সর্বতোভাবে চেষ্টা করা উচিত, যাতে সুমেরুর প্রকৃতির ক্ষতি করা না হয়, যাতে সেখানের সব উদ্ভিদ ও জীবজন্তু ক্ষতিগ্রস্থ না হয়.