সম্ভবতঃ সিরিয়ার রাজনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার সময় হয়ে গেছে. সবাই বুঝতে পারছে যে সশস্ত্র বিরোধীদের মাধ্যমে সরকারের পতনের প্রচেষ্টা ভন্ডুল হয়ে গেছে. এখন পরিস্থিতি থেকে নির্গত হওয়া দরকার.

তুরস্কের রাষ্ট্রপতি রেজেপ এরদোগান তিনটে ফরম্যাট প্রস্তাব করেছেন – হয় তুরস্ক, ইরান ও মিশরের মধ্যে আলোচনা, নতুবা তুরস্ক, রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে আলোচনা, অথবা তুরস্ক, সৌদি আরব ও মিশরের মধ্যে আলোচনা.

এটা মিশরের রাষ্ট্রপতির উদ্যোগের বিকল্প, যা সৌদি আরব বয়কট করেছে ইরানকে ডাকা হয়েছে বলে. এই প্রসঙ্গে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রকের স্ট্র্যাটেজিক পরিকল্পনা বিভাগের প্রাক্তণ প্রধান মুরাত বিলখান বলছেন.

“আন্দাজ করছি, যে যেহেতু সব পক্ষ একসাথে আলোচনার টেবিলে জড়ো হতে রাজি নয়, তাই তিনটে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে. এই ফরম্যাটগুলিকে সমান্তরালভাবে চালু করতে পারলে বোধহয় সুফল পাওয়া যাবে”.

এই সবগুলি ফরম্যাটের একটা অভিন্ন মেরুদন্ড আছে. তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী যেন পশ্চিমী দুনিয়াকে এই সমস্যা নিয়ে আলোচনা করার জন্য ডাকছেন না, যদিও বাচ্চাছেলেও বোঝে, যে পাশ্চাত্যের সাথে তুরস্কের শলা-পরামর্শ হয়. সুতরাং আসল খেলুড়েদের সংখ্যা হবে অনেক বেশি. ইরান পশ্চিমী দুনিয়াকে বিশ্বাস করে না, তারাও ইরানকে. কিন্তু ইরানের যোগদান ছাড়া আলাপ-আলোচনা পুরোপুরি ব্যর্থ হবে. আমার মতে, সবচেয়ে উপযোগী ফরম্যাট হতে পারে তুরস্ক, ইরান ও রাশিয়ার অংশগ্রহণে. তাহলে পাশ্চাত্যও গৃহীত সিদ্ধান্তাবলী মেনে নেবে, সৌদি আরব, কাতারের মতো আরব রাষ্ট্রগুলিও মেনে নেবে.

আরবী সংবাদপত্র ‘আল-হায়াতে’র মস্কো শাখার মুখ্য সম্পাদক রায়েদ জাবিরের মতে রাশিয়ার অংশগ্রহণ শুধু সিরিয়ায় বচসা মেটাতে নয়, গোটা নিকটপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা আনতে সাহায্য করবে.

“ পশ্চিমী দুনিয়া ক্রমশঃই ঐ এলাকায় আস্থা হারাচ্ছে. এর প্রেক্ষাপটে গঠনমুলক সব প্রক্রিয়ায় রাশিয়ার যোগদানের প্রবল সম্ভাবনা. রাশিয়া বিদেশ থেকে চাপ সৃষ্টি করা বা দেশের আভ্যন্তরীন ব্যাপারে নাক গলানোর বিরোধী. এই নীতি তুরস্ক, ইরান ও মিশরও সমর্থন করছে. পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলি ব্যাতীত আঞ্চলিক বড় সব খেলুড়ে দেশগুলো, যারা সিরিয়ায় সশস্ত্র বিরোধীদের পুষছে, তাদের মোকাবিলা করার জন্য রাশিয়ার আলোচনায় অংশ নেওয়া জরুরী”.

0আঞ্চলিক বড় সব খেলুড়ে দেশের মধ্যে ঐক্যমত শুধু সিরিয়ার সমস্যা নয়, গোটা এলাকার সব দেশের সমস্যার নিষ্পত্তি করতে পারে. তবে বহুবার এই ধরনের প্রকল্প মোকাবিলারত দেশগুলির মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটিযেছে