রাশিয়া অস্ত্রশস্ত্র ও সামরিক প্রযুক্তি সরবরাহের চুক্তি স্বাক্ষর করে সার্বভৌম দেশের আইনসঙ্গত শাসন ব্যবস্থার সাথে এবং শুধু দেশের প্রতিরক্ষা ক্ষমতা সুনিশ্চিত করার জন্য. এ সম্বন্ধে বলেছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন বিদেশের সাথে সামরিক-প্রযুক্তিগত সহযোগিতা কমিশনের বৈঠকে.

   রাশিয়ার নেতা ২০১২ সালে শরিক দেশগুলির সাথে রাশিয়ার সামরিক-প্রযুক্তিগত সহযোগিতার প্রাথমিক ফলাফলের খতিয়ান টানেন. তিনি বিশেষ জোর দিয়ে বলেন যে, এ সহযোগিতা নিছক আইনসঙ্গত চরিত্রের. সম্প্রতিকালে মস্কোর প্রতি সেই সব শাসন ব্যবস্থার প্রতি সমর্থনের অভিযোগ তোলা হচ্ছে, যারা, কিছু কিছু দেশের মতে, আইনসঙ্গত চরিত্র হারিয়েছে. ভ্লাদিমির পুতিন উল্লেখ করেন যে, সামরিক-প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ক্ষেত্রে সম্পর্ক সম্বন্ধে কেউ রাশিয়ার উপর নিজের মত চাপিয়ে দিতে পারবে না. সামরিক উদ্দেশ্যের সরবরাহ সীমিত করার জন্য একমাত্র ভিত্তি হতে পারে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা.

   বাকি সমস্ত ক্ষেত্রে কেউ কোনো অজুহাতেই রাশিয়াকে অথবা অন্য কোনো রাষ্ট্রকে নির্দেশ দিতে পারে না কার সঙ্গে এবং কিভাবে বাণিজ্য করা উচিত্. একপাক্ষিক ভাবে অথবা যৌথ ভিত্তিতে – রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামোর বাইরে – সীমিতকরণ ও নিষেধাজ্ঞা, উপরন্তু রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে, আন্তর্জাতিক বিধানের মান হতে পারে না, এ থেকে উদ্ভূত সমস্ত পরিণতি সহ.

   রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি আরও বলেন যে, চুক্তি সম্পাদনের সময় রাশিয়া পৃথিবীর সমস্ত অঞ্চলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতির সর্বমুখী মূল্যায়ন করে থাকে. তিনি যোগ করে বলেন, সামরিক প্রযুক্তির বহু রপ্তানিকারীই এ ধরণের স্পর্শশীল মনোভাব প্রকাশ করে না.

   ২০১২ সালের অক্টোবর পর্যন্ত রাশিয়া বিদেশী ফরমাশ দাতাদের সামরিক প্রযুক্তি সরবরাহ করেছে এক হাজার কোটি ডলারের সামান্য বেশি, পরিকল্পিত ১৩০০ কোটি ডলারের মধ্যে. রপ্তানির বর্তমান পরিমাণ গত বছরের সূচককে ছাড়িয়ে গেছে. রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন যে রাশিয়া বিশ্বের অস্ত্র বাজারে অন্যতম প্রধান অংশগ্রহণকারী. রপ্তানির পরিমাণের দিক থেকে রাশিয়া দৃঢ ভাবে পৃথিবীতে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে আছে, এবং সত্ ও দায়িত্বশীল শরিক হিসেবে সে নিজের মর্যাদার মূল্য দেয়.

   ভ্লাদিমির পুতিন উল্লেখ করেন যে, মস্কো ব্রিক্স দেশগুলি এবং ভিয়েতনামের সাথে নতুন দৃষ্টিভঙ্গীর ভিত্তিতে, নমনীয়তা ও তত্পরতা প্রকট করে সামরিক-প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বিকাশ করে যাবে. ভারত ও চীন – রাশিয়ার ঐতিহ্যগত শরিক দেশ, তবে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলেরও বিশাল পরিপ্রেক্ষিত আছে সামরিক-প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ক্ষেত্রে. কথা হচ্ছে উত্পাদনী সমবায়ের এবং মিলিত গবেষণার, পরিষেবা ব্যবস্থা গঠনের, এবং তাছাড়া মিলিতভাবে তৃতীয় দেশের বাজারে বের হওয়ার. একই সঙ্গে, রাষ্ট্রপতির মতে, রাশিয়ার নিজের ভূভাগে প্রতিরক্ষা শিল্প সমাহারের জন্য বিশেষ যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম উত্পাদনের প্রকৌশল আয়ত্ত করতে হবে, যা এখন বিদেশে কিনতে হচ্ছে.

0   সভ্য ও পারস্পরিক লাভজনক শরিকানার গভীরতা সাধন – রাশিয়ার পররাষ্ট্রনৈতিক স্বার্থ সুনিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ উপায়, বিশ্বব্যাপী চ্যালেঞ্জ ও হুমকি প্রতিরোধের প্রচেষ্টার অবিচ্ছেদ্য অংশ, সবশেষে বলেন পুতিন.