রাশিয়ার বিজ্ঞানীরা মানুষের শরীরে চরম গরমের প্রভাব নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষার প্রথম পর্ব শেষ করেছে. এই পরীক্ষার উদ্দেশ্য – মানুষের স্বাস্থ্য কিভাবে প্রাকৃতিক বিপর্যয় গুলির প্রতিরোধে সক্ষম হয়, যে রকম ২০১০ সালের অস্বাভাবিক রকমের গরমে হয়েছিল.

এই বারে গরম কাল রাশিয়ার লোকরা মনে করছেন দেশের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে খুবই বেশী তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও অস্বাভাবিক খরার কারণে. তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৪০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড, যা এই এলাকার জন্য মোটেও স্বাভাবিক নয়. প্রায় এক শতকেরও বেশী সময় ধরে আবহাওয়ার উপরে লক্ষ্য রাখার মধ্যে এবারে যতদিন ধরে ও যত বেশী মাত্রায় গরম ছিল, তা আগে কখনও হয় নি. কিছু বিশেষজ্ঞরা ঘোষণাই করে বসেছেন যে, এই ধরনের গরম গত এক হাজার বছরে রাশিয়াতে হয় নি. অন্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হতে পারে ৫০০০ বছরের মধ্যেও নয়.

গরম ও খরা খুবই শক্তিশালী প্রাকৃতিক দাবানল তৈরী করেছিল. ফলে বেশ কিছু শহরে মানুষ শুধু গরমের জন্যই নয়, বরং আগুন ধরে যাওয়া বনাঞ্চলের থেকে বের হওয়া ধোঁয়া থেকেও কষ্ট পেয়েছেন. এর ফলে বহু লোকের স্বাস্থ্য খুবই খারাপ হয়েছে, বিশেষত যাঁরা হৃদয় ও রক্ত চলাচলের রোগে ভুগে থাকেন.

বিশেষজ্ঞরা এই ধরনের অস্বাভাবিক গরমের কারণ হিসাবে খুবই কম সম্ভাব্য অনেক গুলি প্রাকৃতিক কারণের একই সঙ্গে ঘটাকে দোষ দিয়েছেন. এটা হল খুবই অস্বাভাবিক অথচ বহু দিন ধরে বায়ুর পথ আটকে রাখা উচ্চ চাপের প্রভাব, খুবই প্রবল খরা ও সার্বিক ভাবে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, যা বিশ্বের উষ্ণায়নের কারণেই হয়েছে.

পরীক্ষার সময়ে এই ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টিই করা হয়েছিল. ছয় জন স্বেচ্ছা কর্মী এক মাস ধরে ২০১০ সালের গরম কালে ফিরে গিয়েছিলেন. এঁরা পুরুষ মানুষ, যাঁদের বয়স ২২ থেকে ৪৫ বছর, বিভিন্ন পেশার মানুষ: ডাক্তার, কোম্পানীর প্রধান, দুজন পাহারাদার ও দুজন মাল বহন কারী মজুর. এক মাস ধরে তাঁরা ছিলেন সেই রকমের তাপমাত্রায়, যা রাত্রে ২৬ থেকে ৩১ ডিগ্রী ছিল আর দিনের বেলায় ছিল ৩০ থেকে ৩৮ ডিগ্রী. ধোঁয়ার পরিমান এই পরীক্ষার সময়ে চিল প্রতি কিউবিক মিটারে ৫ থেকে ৩০ মিলিগ্রাম.

পরীক্ষার সময়ে স্বেচ্ছা কর্মীদের দেখা হয়েছিল শরীরের সমস্ত অঙ্গ প্রত্যঙ্গের অবস্থা, যা হৃতপিণ্ড, শিরা ও ধমনী, স্নায়ু, দেহের ভিতরে জল ও লবণের পরিমান, বৃক্ক ও রক্ত নালিতে কোন রকমের রক্ত জমাট বাঁধা. বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেছেন যে, এই পরীক্ষার কাজে থাকা লোকদের এই সময়ে কোন রকমের সিরিয়াস স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা হয় নি. যদিও এই পরীক্ষার আগে তাদের নিজেদের আলাদা বিষয়ে নানা রকমের অসুস্থতা নিয়ে অভিযোগ ছিল.

পরীক্ষা যাঁরা করেছেন, তাঁদের কথামতো, এই ধরনের বৈজ্ঞানিক কাজকর্ম বিশ্বে এখনও করা হয় নি. দ্বিতীয় বারের পরীক্ষার সময়ে তাঁরা পরীক্ষা করতে চান শরীরের উপরে বায়ুমণ্ডলের চাপের প্রভাব. আর দুই সপ্তাহ বাদে প্রকাশ করা এই পরীক্ষার প্রাথমিক ফলাফল.