ককেশাসে গত কয়েক মাসে ৩০০ জন সন্ত্রাসবাদীকে দেশের আইন রক্ষী বাহিনীর কর্মীরা ধ্বংস করেছে, যাদের মধ্যে ৪৩ জন ছিল পাণ্ডা. এই বিষয়ে সন্ত্রাসবাদী মোকাবিলা নিয়ে আয়োজিত এক বৈঠকে রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন. দেশের সন্ত্রাস মোকাবিলা বিভাগের সফল কাজকর্মের কথা উল্লেখ করে দেশের নেতা একই সঙ্গে বলেছেন যে, বিশেষ বাহিনী গুলির এখনও সবচেয়ে বেশী রকমের পারস্পরিক ভাবে কাজ করবার বন্দোবস্ত করা দরকার রয়েছে. বিশেষ করে আগামী বিশাল সমস্ত রাজনৈতিক ও খেলাধূলার যে সব অনুষ্ঠান দেশে হতে চলেছে তার আগে.

সংবাদ মাধ্যমের জন্য সাধারণতঃ রুদ্ধদ্বার বৈঠকেই এই ধরনের সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা নিয়ে আলোচনা করা হয়ে থাকে. সাংবাদিকরা শুধু দেশের নেতার বৈঠকের শুরুতে বক্তৃতার সময়ে উপস্থিত থাকতে পারেন. এই বারে ভ্লাদিমির পুতিনের মস্কো উপকণ্ঠের বাসভবনে এসেছিলেন রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা পরিষেবা, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নেতৃত্ব ও তারই সঙ্গে যোগাযোগ ছিল ভিডিও কনফারেনস হিসাবে চিচনিয়ার রাজধানী গ্রোজনি শহরের সঙ্গে. কথাবার্তার একটি বিষয় হয়েছে দেশের দক্ষিণ সামরিক এলাকায় ১৭ থেকে ২৩শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হওয়া স্ট্র্যাটেজিক কম্যান্ড ও স্টাফ সংক্রান্ত “ককেশাস – ২০১২” প্রশিক্ষণের ফলাফল নিয়ে আলোচনা. রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দেশের সন্ত্রাস মোকাবিলা সংক্রান্ত অপারেশনের পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছেন. বিগত কয়েক মাসে দেশে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৪৭৯ জন গুণ্ডাকে, ২১৩ জন সন্ত্রাসবাদীকে ধ্বংস করা হয়েছে, যাদের মধ্যে রয়েছে ৪৩ জন পাণ্ডা. কিন্তু দেশের বিশেষ পরিষেবার আরও অনেক বাস্তব কাজকর্ম বাকী রয়েছে, তাই রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন:

“বিগত বছর গুলিতে অনেক কিছুই অপরাধের সঙ্গে লড়াই করার পদ্ধতি ও উপায় বদলে গিয়েছে, এমনকি অপরাধ গোষ্ঠীর ক্ষেত্রেও এটা প্রযোজ্য. আমাদের পরিষেবা গুলি অনেক বেশী সফল ভাবে কাজ শুরু করেছে. একই সঙ্গে যে কোন রকমের হিসাবের ভুল আমাদের জন্য অনেক দামী হয়ে দাঁড়ায়. তাই কাজ করতে হবে কোন রকমের সাময়িক বিরতি না দিয়েই, জোর দিয়ে ও অনেকটা এগিয়ে থেকে আর যেখানে দরকার সেখানে খুবই ঝড়ের মতো. কিন্তু এই গতিবেগের লক্ষ্য প্রাথমিক ভাবে হওয়া দরকার সেই সমস্ত গুণ্ডা, সন্ত্রাসবাদী ও অপরাধীদের দিকেই শুধু. আর খুবই যত্ন নিয়ে সাধারন আইন কানুন মেনে চলা মানুষের কথা খেয়াল রাখতে হবে, এমনকি যে কোন রকম সন্ত্রাসের সঙ্গে অপারেশনের ক্ষেত্রেও”.

একই সঙ্গে ভ্লাদিমির পুতিন মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, আগামী বছর গুলিতে রাশিয়াতে বেশ কয়েকটি বড় রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও খেলাধূলার ঘটনা ঘটবে – “বৃহত্ আটটি দেশ” ও “কুড়িটি বড় অর্থনীতির গোষ্ঠী” বৈঠক, কাজান শহরে বিশ্ব যুব ছাত্র ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সোচী শহরে শীত অলিম্পিক, ফুটবলে বিশ্বকাপ ইত্যাদি. দেশের নেতা আহ্বান করেছেন দেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষী বাহিনীকে সময় মতো এই সব অনুষ্ঠানের জন্য তৈরী হতে, তার ওপরে এই কারণে প্রয়োজনীয় রসদ ও অর্থ সরকার সম্পূর্ণ পরিমানেই বরাদ্দ করেছে. প্রসঙ্গতঃ পুতিন বলেছেন:

“দেশের আইন রক্ষা ও বিশেষ পরিষেবা বাহিনীর জন্য একটা মর্যাদার প্রশ্ন হল সব কিছুই করা, যাতে এই সব অনুষ্ঠান হয় স্বাভাবিক, কাজকর্মের উপযুক্ত ও উত্সবের পরিবেশে, যাতে এই সমস্ত অনুষ্ঠানকে কিছুই মলিন করতে না পারে. বিশ্বে ও আমাদের দেশে আজ এটা কোন সাধারন কাজ নয়, কারণ বহু দেশেই আমরা দেখতে পাচ্ছি যে কি সমস্ত ব্যাপার হচ্ছে. আমাদের দেশেও উত্তেজিত ও যুদ্ধ ক্ষেত্রের মতো জায়গা প্রচুর. কিন্তু আমাদের শক্তিও যথেষ্ট, ক্ষমতা ও উপায়ও অনেক যাতে সময় মতো আমরা সমস্ত রকমের বিপদেরই মোকাবিলা করতে পারি”.

ভ্লাদিমির পুতিন একই সঙ্গে যোগ করেছেন যে, দেশের বিশেষ বাহিনী গুলি ও শক্তি প্রয়োগের ক্ষমতা সম্পন্ন মন্ত্রণালয় গুলির “প্রয়োজন হবে দেশের নাগরিকদের সঙ্গে তথ্য বিনিময়ের কাজকে একেবারেই নতুন স্তরে উন্নীত করার, বিশেষ করে সেই সব এলাকায়, যেখানে বিশেষ অপারেশন করা হচ্ছে ও যেখানে সন্ত্রাসবাদের বিপদ নিজের বিষয়ে জানান দিচ্ছে”.