ব্রিটেনের বিজ্ঞানীরা বিশ্ব সমাজকে একেবারে আতঙ্কিত করে দিয়েছেন. তাঁরা সাবধান করে দিচ্ছেন এক বিশ্বজোড়া ভাইরাস বাহিত রোগ সম্বন্ধে. ব্রিটেনের চিকিত্সকরা এই নতুন ভাইরাস লক্ষ্য করতে পেরেছেন, যা অনেকটা অস্বাভাবিক নিউমোনিয়া রোগের মত রোগের কারণ হয়েছে ও যে রোগে ২০০৩ সালে বেশ কয়েকশো মানুষ মারা গিয়েছেন. নতুন ভাইরাস পাওয়া গিয়েছে লন্ডনের স্বাস্থ্য সুরক্ষা সংস্থার ল্যাবরেটরীতে.

ব্রিটেনের বিখ্যাত ভাইরাস বিশেষজ্ঞ ও লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত কুইন মেরী হাসপাতালের চিকিত্সক প্রফেসর জন অক্সফোর্ড মনে করেন যে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই এই রোগ মহামারীর আকার ধারণ করতে পারে.তাঁর মতে, ২০১৮ সালে বিশ্বে দ্বিতীয় বার স্প্যানীশ ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগের মত মহামারী হতে পারে. মনে করিয়ে দিই যে, প্রথমবার এই ধরনের রোগ হয়েছিল গত শতকের দ্বিতীয় দশকে, রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে প্রফেসর অক্সফোর্ড বর্তমানের ঘটনাকে তাই সঙ্গে যুক্ত করে বলেছেন:

“আমি তো আর শুধুই ২০১৮ সাল বলছি না. এটা ১৯১৮ সালের সেই স্প্যানীশ ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগের ১০০ বছর পরেই হবে, আর এটা হবে সেই ধরনের ভাইরাস থেকে, যা আমার মতে পাখীরা বয়ে নিয়ে আসবে. আমরা ইতিমধ্যেই এই ধরনের কিছু ভাইরাস লক্ষ্য করতে পেরেছি – ১৯৫৮ সালে, ১৯৬৮ সালে ও ২০০৯ সালে. কিন্তু সেই গুলি ততটা ভয়ঙ্কর ছিল না, যা হয়েছিল ১৯১৮ সালে. আর এই কারণেই আমি মনে করি যে, গত একশ বছরে এই রকম ভয়ঙ্কর কোন মহামারী হয় নি বলে, আগামী ২০১৮ সালেই তা হতে পারে. আর আমাদের উচিত্ হবে এর জন্য তৈরী থাকা. সারা বিশ্বের উচিত্ হবে তৈরী থাকা”.

প্রসঙ্গতঃ, অনেকেই মনে করেন যে, ঘটনাকে নাটকীয় করার কোনও দরকার নেই. তাঁদের কথামতো, নিয়মিত ভাবেই নতুন সব ভাইরাস আবিষ্কার করা হচ্ছে, এটা আতঙ্কের জন্য কোনও কারণ নয়. রাশিয়ার গ্রাহক স্বার্থ নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের অধীনস্থ কেন্দ্রীয় মহামারী সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান আলেকজান্ডার প্লাতোনভ এই প্রসঙ্গে বলেছেন:

“এটা নতুন ভাইরাস. মনে হচ্ছে তা এসেছে বাদুড় থেকে. এর মধ্যেই এই রোগাক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা ৫০ জনকে পরীক্ষা করা হয়েছে, তারা সংক্রামিত হন নি. এই ঘটনারও পরিবর্তন হবে. তবে এটা সাধারণ ব্যাপার. আমরা প্রত্যেক বছরে কিছু না কিছু নতুন ভাইরাস আবিষ্কার করে থাকি. আর এটাও ঠিক যে, মানুষের উপরে ভাইরাস আক্রমণ করে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই পশু পাখীর থেকে. তাই বেশীর বাগ ভাইরাস যা এক জনের কাছ থেকে অন্য মানুষের মধ্যে যায়, তা আমরা গত ১০, ২০ বা ৩০ বছর ধরেই জানি. আর কোন অগম্য বা দূরধিগম্য স্থানের থেকেই প্রতি বছরে নতুন ভাইরাস আবিষ্কার করা হয়ে তাকে. সম্মানিত লন্ডনের প্রফেসর ভয় দেখাচ্ছেন যে, আমরা সকলেই এক নতুন দুরারোগ্য ব্যাধির কবলে পড়ে “মারা যাবো”. আমি মনে করি না যে, আমরা সকলেই মরব. মানবেতিহাসের বহু শতাব্দী ধরে অনেক মহামারী হয়েছে ও তার সঙ্গে মানুষ সেই সময়েও যুঝতে পেরেছে, যখন সাধারন চিকিত্সা ব্যবস্থাই ছিল না. এখন তা রয়েছে”.

0বিশেষজ্ঞের কথা নিশ্চয়ই আমাদের আশা জাগায়, কিন্তু খুব বেশী নয়. আতঙ্ক থেকেই যায়, কারণ বিশ্বে অনেক সময়ে নিয়মিত ভাবেই মহামারী আসে.