আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল অক্টোবর মাসের রিপোর্টে ২০১২ ও ২০১৩ সালের বিশ্ব অর্থনীতির উন্নতির মাত্রা সংক্রান্ত সূচক কমিয়ে দিয়েছে. আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বৃহত্ অর্থে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি খারাপ হওয়াকে ইউরোপের ঋণ সমস্যা ও আমেরিকার অর্থনীতির সমস্যার সঙ্গেই যুক্ত করেছে, যাদের জন্য সবচেয়ে মুখ্য বিপদ রয়েছে তথাকথিত আয়ব্যয়ের মধ্যে অনেক খানি ফারাক.

তহবিলের মূল্যায়নে আমেরিকার অর্থনীতি আগামী বছরে অবনতির দিকে যেতেই পারে এই আয়ব্যয়ের বিষয়ে বিশাল ফারাকের কারণে, যাকে দেখা হচ্ছে পরিবর্তনের একটি সম্ভাব্য পথ হিসাবেই, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার ম্যাক্রোইকনমিক অ্যানালিসিস সেন্টারের বিশেষজ্ঞ আলেকজান্ডার আপোকিন বলেছেন:

“এখানে কথা হচ্ছে কিছু নিয়ম সংক্রান্ত আইন প্রথার স্বয়ংক্রিয় ভাবেই কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়া নিয়ে, যেগুলি ২০১২ সালেই শেষ হতে চলেছে. সেই গুলির কার্যকাল বাড়ানো হতেও পারে, আবার না হতেও পারে. এগুলি সঙ্কট বিরোধী কর হ্রাস নিয়ে, বেকার ভাতা পাওয়ার সময় সীমা বৃদ্ধি নিয়ে, অন্যান্য আইন সংক্রান্ত নানা নির্দেশ, যেগুলি ঘাটতির পরিমাণ বাড়িয়ে দেবে. এই ধরনের নিয়ন্ত্রণ ছাড়া আমেরিকার বাজেট তৈরী সম্ভব নয়, কারণ তাদের প্রতি বছরে বাজেট ঘাটতির পরিমাণ দেশের সার্বিক উত্পাদনের প্রায় শতকরা ৯ ভাগ ও ঋণ প্রায় ১০০ ভাগ. অর্তাত্ এই দেশ শীঘ্রই পরিণত হতে চলেছে নতুন ইতালির মতো. যদি রিপ্লাবিকান ও ডেমোক্র্যাটিক দলের লোকরা সহমতে আসতে পারে, তাহলে আর্থ ব্যবস্থার গঠন অন্য রকম হতে পারে”.

২০১৩ সালে আমেরিকার অর্থনীতির জন্য চুক্তি করতে পারার ক্ষমতা হতে পারে মূল কারণ. ইউরোপ সম্বন্ধে যা বলা যেতে পারে, তা হল, তাদের নিজেদেরই খুব সিরিয়াস সব সমস্যা রয়েছে. ইউরোপীয় সঙ্ঘ – এর সার্বিক বার্ষিক উত্পাদন – ১৬ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশী. ২০১১ সাল থেকে ইউরোপের অর্থনীতিতে শুরু হয়েছে মন্দা ও বর্তমানে, তা সম্ভবতঃ সঙ্কট পূর্ব অবস্থার চেয়ে কিছুটা নীচে, তাই আলেকজান্ডার আপোকিন বলেছেন:

“যে সমস্ত প্রক্রিয়া ইউরোপীয় সঙ্ঘে ঘটছে, তা গত দশকের উন্নতির যুক্তিসঙ্গত ভাবেই শেষ হওয়া. ইউরোপে বিনিয়োগ ক্ষেত্রে সমস্যা, সমাধানের থেকে অনেক দূরেই রয়েছে. নিজেদের আয়ের ভাগকে কমিয়ে দেওয়া, যা আমেরিকার ব্যাঙ্কগুলি ২০০৮ ও ২০০৯ সালে করেছে, তা ইউরোপের ব্যাঙ্ক গুলি করতে শুরু করেছে ২০১০ – ২০১১ সাল থেকে. কাজেই ঝুঁকি আলাদা রকমের. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এটা ছিল ব্যক্তিগত গৃহঋণ সংক্রান্ত আয়ের ক্ষেত্রে আর ইউরোপে তা সরকারি বণ্ড পত্র নিয়ে”.

ইউরোপীয় সঙ্ঘে বিনিয়োগ পরিস্থিতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে অনেক বেশী জটিল, কারণ সেখানে অনেক রকমের অর্থনীতি. তাদের প্রত্যেকের আলাদা রকমের সমস্যা. সেখানে আমদানী নির্ভর ও রপ্তানী নির্ভর দুই রকমেরই অর্থনীতি রয়েছে. এক দেশের প্রয়োজন শিল্প ক্ষেত্রে ছাড় দিয়ে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, অন্যদেশের দরকার পরিষেবা অথবা গৃহ নির্মাণ বিষয়ে বিনিয়োগ. সব মিলিয়ে ইউরোপীয় অঞ্চলের সমস্যার সমাধান বর্তমানে অনেক বেশী কল্পনার বাইরে চলে গিয়েছে, কারণ এখানে রয়েছে রাজনৈতিক ইচ্ছা- অনিচ্ছা ও এমনকি সমাকলনের প্রশ্ন.