খাবার জিনিষের অভাব ও খাদ্য দ্রব্যের সঙ্কট বিশ্বের বহু কোটি মানুষের জন্য আজ বাস্তবে পরিণত হয়েছে. ১৬ই অক্টোবর বিশ্ব খাদ্য দিবস পালন করা হয়ে থাকে. এটা সেই সমস্যাকেই মনে করিয়ে দেওয়া: রাষ্ট্রসঙ্ঘের বিশ্ব খাদ্য কৃষি সংস্থার মূল্যায়ণ অনুযায়ী প্রত্যেক অষ্টম বিশ্ব বাসীই নিয়মিত অনাহারী রয়েছেন. এটা কম বেশী ৮৭ কোটি মানুষ, যাদের বেশীর ভাগই – উন্নতিশীল এশিয়া ও আফ্রিকা দেশের মানুষ. রাষ্ট্রসঙ্ঘের এই খাদ্য ও কৃষি কাজ সংক্রান্ত সংস্থা ২০১৫ সালের মধ্যে অনাহারে থাকা মানুষের সংখ্যা অর্ধেক করার লক্ষ্য গ্রহণ করেছেন. এই কাজ খুবই কঠিন – আন্তর্জাতিক কর্মচারীদের কোন রকমের নির্দিষ্ট কাজের পরিকল্পনাই যে নেই.

আন্তর্জাতিক সংস্থা খাদ্য বিষয়ে ঘাটতির কথা বলেছে, কিন্তু বিশেষজ্ঞরা উত্তর দিয়েছেন যে, এটা একটা বানানো কথা, খাবার বিশ্বে যথেষ্ট. রাশিয়ার দানাশষ্য সঙ্ঘের সভাপতি আর্কাদি জ্লোচেভস্কি এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করে বলেছেন

“বিশ্বে খাদ্য দ্রব্য প্রচুর পরিমানে বাড়তি রয়েছে, আর কখনোই খাবার জিনিস কম বলে দেখা যায় নি. খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়ে প্রধান সমস্যা – এটা গ্রাহকদের ব্যক্তিগত ভাবে অর্থের সমস্যা. অন্য কোনও রকমের সমস্যাই নেই. খাদ্য দ্রব্য বাস্তবে কম এই ধরনের কোনও সমস্যাই নেই”.

খাবার জিনিষের উত্পাদন বেশী বলেই ইউরোপ ও আমেরিকার কৃষি শিল্পে নিযুক্ত লোকরা বাধ্য হয়ে বেশীর ভাগ জমি নানা রকমের শিল্প ক্ষেত্রে ব্যবহারের উপযুক্ত জিনিষের চাষের জন্য ছেড়ে দিচ্ছেন অথবা করছেন ভুট্টা বা গমের চাষ, যা আবার ব্যবহার হচ্ছে জৈব জ্বালানী উত্পাদনের জন্য. তা না হলে কৃষি জাত পণ্যের দাম এতই কমে যাবে যে, তা উত্পাদনের জন্য খরচে কুলোবে না.

এই প্রসঙ্গে উত্পাদন বাড়ানোর জন্য ক্ষমতাও অনেক রয়েছে. কৃষি বিষয়ে উন্নত দেশ গুলিতে অনেক জমি রয়েছে যা চাষের জন্য ব্যবহার যোগ্য হলেও ব্যবহার করা হয় না. উন্নতিশীল দেশ গুলির জন্য বিপুল সম্পদ হল – তাদের উত্পাদনের বিষয়ে উন্নতি করার জায়গা. আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি প্রয়োগ করা হলে শষ্য উত্পাদনের পরিমাণ কয়েক গুণ বৃদ্ধি হতে পারে.

0খাবার সকলের জন্যই যথেষ্ট রয়েছে, গরীব দেশ গুলির প্রশাসনের কাজ হওয়া উচিত্ – সেই রকম ভাবে অর্থনীতি চালানো, যাতে তাঁদের জনগনের খাদ্য কেনার মতো অর্থ থাকে.